দেশে বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আগামী অর্থবছরের বাজেটে ১০টি অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ করেছে সরকার।
বৃহম্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব অগ্রাধিকার তুলে ধরেন।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, উন্নয়নের সুফল দেশের সব অঞ্চল ও সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছে দিতে সুষম অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি বাস্তবমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে তরুণ জনগোষ্ঠীকে কর্মদক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য খাতে সবার জন্য মানসম্মত ও সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিশু থেকে প্রবীণ পর্যন্ত সব নাগরিককে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় এনে একটি শক্তিশালী কল্যাণরাষ্ট্র গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে পরিকল্পিত শিল্পায়ন, রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে। কৃষিকে খাদ্যনিরাপত্তা ও জীবিকার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে আরও শক্তিশালী করার কথাও বলা হয়েছে।
ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ সহজ করতে অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ কমিয়ে সরকারি সেবাকে আরও স্বচ্ছ, দ্রুত ও ব্যয়সাশ্রয়ী করার পরিকল্পনা রয়েছে। আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি বাড়িয়ে আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং পুঁজিবাজার সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগ উৎসাহিত করার উদ্যোগও নেওয়া হবে।
জ্বালানি নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক আইসিটি রপ্তানিতে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে প্রযুক্তিগত অন্তর্ভুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বনায়ন সম্প্রসারণ, নদ-নদীর নাব্যতা পুনরুদ্ধার এবং খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দক্ষ, মেধাভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তোলা এবং সরকারি বিনিয়োগ বাস্তবায়নের সক্ষমতা বৃদ্ধিকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।