দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) শিল্প খাতকে আরো গতিশীল এবং প্রতিযোগিতাপূর্ণ করতে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বড় চমক দেখিয়েছে সরকার। ছোট ও মাঝারি স্তরের উদ্যোক্তাদের উৎপাদন কার্যক্রম সম্প্রসারণে বিশেষ তহবিল হিসেবে ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। কেবল চলতি মূলধন সহায়তাই নয়, ব্যবসার খরচ কমিয়ে উদ্যোক্তাদের স্বস্তি দিতে এই ঋণের ওপর সরকার সরাসরি ৬ শতাংশ সুদ ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ ঘোষণা দেন।
প্রস্তাব অনুযায়ী, এ অর্থ পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় আইডিসিওএল, বিআইএফএফএল ও এসএমই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণ হিসেবে বিতরণ করা হবে। চলতি মূলধন সহায়তার পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের উৎপাদন কার্যক্রম সম্প্রসারণে ৬ শতাংশ সুদ ভর্তুকি দেবে সরকার । ফলে, এ প্যাকেজের আওতায় ঋণ গ্রহণের বিপরীতে উদ্যোক্তাদের প্রকৃত সুদের হার বিদ্যমান বাজারভিত্তিক সুদের চেয়ে অর্ধেকেরও কম হবে।
প্রস্তাবিত কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২৫ লক্ষাধিক নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, যা বেকারত্ব হ্রাসে বড় ভূমিকা রাখবে। সুদের হার অর্ধেকের কম হওয়ায় নতুন উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন এবং শিল্প খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
একইসঙ্গে দেশীয় কৃষি খাত, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, এসএমই শিল্প এবং রুগ্ন ও বন্ধ কলকারখানাগুলোর জন্য সহজ শর্তে এবং পুনর্ভরণ পদ্ধতিতে ঋণ দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ৬০ হাজার কোটি টাকা ঘোষণা করা হয়েছে। ওই প্যাকেজের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা রিফাইন্যান্সিং তহবিল এবং ১৯ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল।
২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।
বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা।