শিক্ষা

মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় আসনপ্রতি লড়বে ৩২ জন

এ বছর (২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে) দেশের সরকারি মেডিক্যাল কলেজে আসন সংখ্যা ৪৩৫০টি। বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে আসন সংখ্যা ৬১১০টি। সরকারি ও বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে মোট আসন সংখ্যা ১০৪৬০টি।  ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ১ লাখ ৩৯ হাজার ২১৭ জন।

দেশের সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোতে এক আসনের বিপরিতে ৩২ জন পরীক্ষায় অংশ নেবেন। সরকারি-বেসরকারি মেডিক্যালে একটি আসনের বিপরীতে ১৩.৩০ জন করে পরীক্ষা দেবেন।

আরও পড়ুন: বেসরকারি মেডিক্যালে ফি বৃদ্ধি: মধ্যবিত্তের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন ফিকে

স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ সূত্র জানায়, সরকারি-বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির প্রবেশপত্র বিতরণ শুরু হবে ৬ মার্চ। ৭ মার্চ পর্যন্ত প্রবেশপত্র পাওয়া যাবে।

দেশের সরকারি ও বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা হবে আগামী ১০ মার্চ। সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত চলবে পরীক্ষা। দেশে সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ৩৭টি। বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ৭২টি। সরকারি মেডিক্যাল কলেজে আসন সংখ্যা ৪৩৫০টি। বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে আসন সংখ্যা ৬১১০টি। এবার এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ১ লাখ ৩৯ হাজার ২১৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭০ ভাগই নারী।  অর্থাৎ মেডিক্যালে ভর্তি হতে মেয়েরাই বেশি আগ্রহী। বেসরকারি মেডিক্যালে ভর্তির ক্ষেত্রে পাস নম্বর ৪০ পেলেই হবে না, মেধাক্রম থাকতে হবে ৩০ হাজারের মধ্যে। তুলনামূলক যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্থান দিতে এই নিয়ম করা হয়েছে।

এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী দেশি-বিদেশি সব পরীক্ষার্থীদের নিয়ে একটি ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে সবার তথ্য থাকবে। মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, বিগত মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষাগুলোতে কানে ডিভাইস ব্যবহার সময় বেশ কয়েক জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এজন্য মেয়েদের কান খোলা রাখতে বলা হয়েছে। 

পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে প্রবেশপত্রে ভবন ও হল নম্বর টানানো থাকবে। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী কিংবা নির্বাচিত কোন প্রার্থীর দেওয়া তথ্য ফলাফল নির্ধারণে বিবেচিত হয়েছে। অসম্পূর্ণ ও ভুল প্রমাণিত হলে, তার পরীক্ষা/ফলাফল/ভর্তি বাতিল বলে হবে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা.আবুল বাশার মোহাম্মদ জামাল বলেন, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে দেশের সরকারি-বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির আবেদন পড়েছে এক লাখ ৩৯ হাজার ২১৭টি। সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোতে মোট আসন রয়েছে ৪ হাজার ৩৫০টি এবং বেসরকারি মেডিক্যালে আসন রয়েছে ৬ হাজার ১৬৮টি। সব মিলিয়ে ১০ হাজার ৫১৮টি আসনের জন্য ভর্তিযুদ্ধে নামবেন শিক্ষার্থীরা। সেক্ষেত্রে ১৩.২৩ আসনপ্রতি প্রায় ১৪ জন পরীক্ষায় বসবেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. টিটু মিয়া বলেন, মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার সার্বিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। কেউ যাতে অপপ্রচার করতে না পারে সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফল দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকাশিত হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, পরীক্ষাকে ঘিরে আমরা সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছি।

তিনি বলেন, পরীক্ষা উপলক্ষে প্রতিটি ভ্যানুকেই কঠোর নিরাপত্তা বেস্টনির মধ্যে রাখা হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রের আশেপাশে যেসব ফটোকপি মেশিন আছে, সেগুলো বন্ধ রাখা হবে। সার্বিকভাবে বিগত দিনে যেভাবে আমরা পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছি, এ বছরও তাই করা হবে। আমাদের যারা পরীক্ষা নেবেন এবং প্রশ্ন তৈরি করবেন, এগুলো খুবই গোপনীয়তা বজায় রেখে কাজটি করা হবে এবং একটি বিশেষ টিম থাকবে, যারা এজন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। তাদের মাধ্যমেই এই পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।