শিক্ষা

পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নেওয়াই প্রকৃত শিক্ষকের সাফল্য: শিক্ষা উপদেষ্টা

শিক্ষাদানের প্রকৃত সাফল্য কেবল মেধাবী শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং যারা পড়াশোনায় পিছিয়ে রয়েছে, তাদের শেখার প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করে সামনে নিয়ে আসাই একজন শিক্ষকের আসল সার্থকতা এমন মন্তব্য করেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি. আর. আবরার।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম) মিলনায়তনে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের চার মাসব্যাপী ২০৬তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. সি. আর. আবরার বলেন, “কোনো শিক্ষার্থী পিছিয়ে থাকলে তাকে দুর্বল বা খারাপ ছাত্র হিসেবে চিহ্নিত করা একটি ভুল দৃষ্টিভঙ্গি। বরং এটি শিক্ষকের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ কেন তিনি শিক্ষার্থীকে যথাযথভাবে বোঝাতে পারছেন না।”

তিনি বলেন, “শ্রেণিকক্ষে সবচেয়ে মেধাবীদের পাশাপাশি তুলনামূলক দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রতি অধিক মনোযোগ, সহানুভূতি ও নিবিড় পাঠদানের প্রয়োজন রয়েছে।”

শিক্ষকতাকে কেবল একটি সাধারণ চাকরি হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, “এটি একটি আজীবন পালনীয় মহান দায়িত্ব। সরকারি চাকরির সুযোগ-সুবিধা ও শিক্ষকতার নৈতিক তৃপ্তি এই দুইয়ের সমন্বয়ে শিক্ষকদের দেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।”

নৈতিকতা ও আত্মমর্যাদার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “শিক্ষকতার সম্মান আপনা-আপনি পাওয়া যায় না এটি অর্জন করতে হয় নিজের আচার-আচরণ, পেশাগত দক্ষতা ও মূল্যবোধের মাধ্যমে।”

একই সঙ্গে তিনি শিক্ষকদের দলীয় রাজনীতির পঙ্কিলতা থেকে দূরে থেকে নিজ কর্মযোগ্যতায় পেশাগত উচ্চতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানান।

নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করে ড. আবরার বলেন, “নতুন প্রজন্মের যে আকাঙ্ক্ষা আজ দৃশ্যমান, সেই ভবিষ্যতের কারিগরদের কারিগর হচ্ছেন শিক্ষকরা। এ দায়িত্ব পালনে সময়ানুবর্তিতা, শিক্ষার্থীদের প্রতি সংবেদনশীলতা ও ধৈর্য অত্যন্ত জরুরি।”

নায়েমের মহাপরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) ড. শাহ মো. আমির আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক বি. এম. আব্দুল হান্নানসহ শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী শিক্ষকদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন এবং কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য পদক প্রদান করেন।