বিনোদন

‘তার সঙ্গে কথা বললে মনেই হবে না অসুস্থ’

রাহাত সাইফুল: নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক মাতিয়েছেন বরেণ্য অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান। চলচ্চিত্র কিংবা নাটক-টেলিফিল্মের নেতিবাচক চরিত্রগুলো হাস্যরসের মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে তার জুড়ি মেলা ভার! বাস্তব জীবনেও হাস্যজ্জ্বল একজন মানুষ এটিএম শামসুজ্জামান। কথার জাদুতে চারিপাশের মানুষকে মাতিয়ে রাখেন এই অভিনেতা। সম্প্রতি গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেখানেও তার হাসি ম্লান হয়ে যায়নি! তিনদিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় গতকাল শুক্রবার সকালে তার লাইফ সাপোর্ট খোলা হয়। হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়— এটিএম শামসুজ্জামান অনেকটাই সুস্থ। হাসপাতালের নার্সদের সঙ্গেও বেশ হাসিমাখা মুখে কথা বলছেন। এ প্রসঙ্গে একজন নার্স রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘সিনেমা, টেলিভিশনে তাকে দেখেছি। আগে কখনো বাস্তবে দেখার সুযোগ হয়নি। এখানে কয়েকদিন ধরেই আমি ডিউটি করছি। আসলে তিনি বাস্তব জীবনে অনেক ভালো মানুষ। অসুস্থতার মধ্যেও আমাদের সঙ্গে হাসিখুশি থাকেন। তার সঙ্গে কথা বললে মনেই হবে না অসুস্থ। আমরা মন থেকে তার জন্য দোয়া করছি, তিনি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেন।’ গতকাল শুক্রবার দুপুরের দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডা. রবিউল হালিম। এ সময় তিনি জানান, এটিএম শামসুজ্জামানের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আজ (শুক্রবার) সকালে তার লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলা হয়েছে। তবে আরো ২৪ ঘণ্টা তাকে পর্যবেক্ষণে রাখবেন বলেও জানান তিনি। কবে নাগাত বাসায় নিয়ে যাওয়া যাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. রবিউল হালিম বলেন, ‘এই বিষয়টি এখনই বলা যাচ্ছে না। আরো কয়েকদিন দেখে বলা যাবে।’ এ সময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন এটিএম শামসুজ্জামানের মেজ মেয়ে কোয়েল আহমেদ, ছোট ভাই সালেহ জামান, সংগীতশিল্পী রফিকুল আলমসহ অনেকে। কোয়েল আহমেদ বলেন, ‘বাবা অসুস্থ হওয়ার পর থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খোঁজখবর নিচ্ছেন। আজ (শুক্রবার) সকালেও বিপ্লব বড়ুয়া ফোন করে বাবার খবর জেনেছেন। এছাড়া অপু উকিল, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীসহ অনেকেই বাবার খোঁজখবর নিচ্ছেন। এজন্য তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এখানকার ডাক্তারদের কাছেও কৃতজ্ঞ। তারাও সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন। আর দেশবাসীর কাছে কৃতজ্ঞ কারণ তারাও বাবার জন্য দোয়া করেছেন। আমি সকলের কাছে বাবার জন্য দোয়া চাচ্ছি। তিনি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরতে পারেন।’ গত ২৬ এপ্রিল রাত ১২টার দিকে অসুস্থবোধ করায় এটিএম শামসুজ্জামানকে আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।এরপর হঠাৎ করেই তার রেচন প্রক্রিয়ায় জটিলতা দেখা দেয়। গত ২৭ এপ্রিল তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। ২৮ এপ্রিল সকালে তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু ৩০ এপ্রিল তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় এদিন বেলা ৩টার দিকে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। এটিএম শামসুজ্জামান পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৫ সালে পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক।১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি।প্রথম কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখেন ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রের জন্য।এ পর্যন্ত শতাধিক চিত্রনাট্য ও কাহিনি লিখেছেন।প্রথম দিকে কৌতুক অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্র জীবন শুরু করেন।অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্র পর্দায় তার আগমন ১৯৬৫ সালে।১৯৭৬ সালে চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ চলচ্চিত্রে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন তিনি। রাইজিংবিডি/ঢাকা/৪ মে ২০১৯/রাহাত/শান্ত