বিনোদন

‘একটি হার্ট ফিল্ম নির্মাণ করতে চাই’

বিনোদন ডেস্ক: ‘স্কুলে পড়াকালীন বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’ নামে একটি বিভাগ ছিল। একবার ঘটক সেজেছিলাম। তুলা দিয়ে আমার দাঁড়ি লাগানো হয়েছিল। এই চরিত্রে অভিনয় করে বেশ সাড়া পেয়েছিলাম। পরের বছর আবার চা বিক্রেতা সাজলাম। একটা ছেঁড়া গেঞ্জি, লুঙ্গি পরে শীতের মধ্যে চা বিক্রি করেছিলাম। যতটুকু মনে পড়ে, সেদিন ৪৪ টাকা পেয়েছিলাম। এরপর থেকে সহপাঠীরা ‘চাওয়ালা’ নামে ডাকত। আসলে তখন থেকেই অভিনয়ের প্রতি ঝোঁক তৈরি হয়। আগ্রহ থাকলেও পরবর্তী সময়ে অভিনেতা হতে পারিনি।’ রাইজিংবিডির সঙ্গে আলাপকালে কথাগুলো বলেন তরুণ নাট্যনির্মাতা জীবন শাহাদাৎ।

নগরীর আজিমপুর নিউ পল্টনে তার জন্ম। বেড়ে উঠেছেন সেখানে। স্নাতক ডিগ্রি নিয়েছেন ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজ থেকে। অভিনয়ের স্বপ্ন ধূসর হলেও নির্মাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। ২০০৬ সালে ছবিয়ালের নির্মাণ কাজ দেখে পরিচালক হওয়ার স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। এ প্রসঙ্গে জীবন শাহাদাৎ বলেন, ‘‘২০০৮ সালের ঘটনা। নিয়াজ নাদভী নামে আমার এক ছোট ভাই আছে। একবার সে জিজ্ঞাসা করল, আপনি যেভাবে কথা বলেন সেটা কি ক্যামেরার সামনে বলতে পারবেন? আমি বললাম, এটা কোনো ব্যাপার হলো। উড়িয়ে দেব! তারপর একটি চিত্রনাট্য দাঁড় করালাম। কিন্তু আমরা তখন মিডিয়ায় তেমন কাউকে চিনি না। একমাত্র ইফতেখার আহমেদ ফাহমিকে চিনি। তাকে গিয়ে বললাম কীভাবে কী করব? তিনিই আমাদের পথ দেখান। ২০০৯ সালে আমি আর নিয়াজ নাদভী ‘মহাসত্ত্ব’ নির্মাণ করি। এটি আমার নির্মিত প্রথম নাটক।’’

এ নাটক নির্মাণের দুই বছর পর প্রচার হয়। কিন্তু ততদিনে নির্মাণের প্রতি যে নেশা, তা আরো গভীরভাবে জীবনের মধ্যে ভর করতে থাকে। এরপর ২০১০ সালে নিজেই নাটক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন শাহাদাৎ। নির্মাণ করেন ‘একশ আটটি নীল পদ্ম’। এতে অভিনয় করেন আব্দুন নূর সজল ও ফারহানা মিলি। এটি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচার হয়। এরপর ‘চাইনিজ ডিগ্রি’, ‘আজ শুভদিন’, ‘বাকরখনি প্রেম’সহ বেশ কিছু একক নাটক নির্মাণ করে দর্শকের প্রশংসা কুড়ান এই পরিচালক। নির্মাণ ক্যারিয়ারের এ পর্যায়ে এসে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন পরিচালক মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী, ফাহমি, কচি খন্দকার, ইশতিয়াক আহমেদ রুমেলকে। যারা তার পথচলায় সহযোগিতা করেছেন।

বর্তমানে ছোটপর্দার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন জীবন শাহাদাৎ। ঈদুল আজহা উপলক্ষে বেশ ক’টি কাজ হাতে নিয়েছেন। তবে নামগুলো এখনই বলতে নারাজ। কারণ দর্শকের জন্য এটি তিনি চমক হিসেবে রাখতে চান। নির্মাণের পাশাপাশি চলচ্চিত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি। বর্তমানে বরেন্দ্র চলচ্চিত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন এই নির্মাতা।

‘আমাদের চলচ্চিত্র ডুবে গেল ডুবে গেল’— এই যে রব উঠেছে এটা মানতে নারাজ তরুণ এই নির্মাতা। তার ভাষায়, স্বল্প বাজেটে সিনেমা নির্মাণ করেও সফল হওয়া সম্ভব। গত ঈদুল ফিতরে ‘পাসওয়ার্ড’ নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে, তারপরও সিনেমাটি ব্যবসায়ীকভাবে সফল হয়েছে। শুধু তাই নয়, সিক্যুয়েল নির্মাণের ঘোষণাও দিয়েছেন শাকিব খান। ইন্ডাস্ট্রিতে কিছু জটিলতা রয়েছে। সেগুলো সময়ের সঙ্গে সমাধান হচ্ছে। ভবিষ্যতে চলচ্চিত্রাঙ্গন আরো মসৃন হবে। সুতরাং চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি আবার ঘুরে দাঁড়াবে। প্রত্যেকটি অর্জনের পেছনে তরুণদের ভূমিকা অনেক এবং এটা ভবিষ্যতেও থাকবে। ঢাকাই চলচ্চিত্রের উন্নয়নে তরুণরাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তার বিশ্বাস।

জীবন শাহাদাৎ আরো বিশ্বাস করেন, একজন ফিল্ম মেকারের অনেক শক্তি। ‘অ্যা ফিল্ম মেকার থার্ড কিং অব ওয়ার্ল্ড’— কথাটি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন তিনি। এ বিশ্বাসকে পুঁজি করে চলচ্চিত্র নির্মাণে হাত দিয়েছেন। চিত্রনাট্যের কাজও শুরু করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বপ্ন দেখছি। আর্ট ফিল্ম, বাণিজ্যিক ফিল্ম, অ্যাকশন ফিল্ম নয়, আমি একটি হার্ট ফিল্ম নির্মাণ করতে চাই। ‘হার্ট ফিল্ম’ নামটি আমার নিজস্ব। এমন একটি ফিল্ম তৈরি করতে চাই যার একটি দৃশ্য কিংবা সংলাপ মানুষের হৃদয় স্পর্শ করবে। যে ফিল্ম দেখে মানুষ বলবে, এটি তো আমার গল্প কিন্তু নির্মাতা সেটা কীভাবে জানল! সে লক্ষ্যে কাজ সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। সবার দোয়া ও সহযোগিতা চাই।’

ভিডিওটি দেখুন:

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৫ জুন ২০১৯/শান্ত/তারা