বিনোদন

রুদ্রনীলকে নিয়ে তসলিমা নাসরিনের কড়া সমালোচনা

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন রাজ্য বিধানসভার নির্বাচন ঘিরে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে যাওয়া নেতাদের তালিকায় রয়েছেন—রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, বৈশালী ডালমিয়া, প্রবীর ঘোষাল, পার্থ সারথী চট্টোপাধ্যায় ও রথীন চক্রবর্তী। তাদের সঙ্গে রয়েছেন তৃণমূল ঘনিষ্ঠ অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। গত ৩০ জানুয়ারি নয়াদিল্লি গিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন তারা।

তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করায় বেশ সমালোচনার মুখে পড়েছেন রুদ্রনীল ঘোষ। টলিউড নির্মাতা অরিন্দম শীল বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন—এমন মন্তব্য করায় রুদ্রনীলকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দিয়েছেন অরিন্দম শীল। শুধু তাই নয়, টলিউড অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র রুদ্রনীলকে নিয়ে কটাক্ষ করে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এবার এই অভিনেতাকে নিয়ে কড়া সমালোচনা করলেন বাংলাদেশের বিতর্কিত নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিন।  

২০০৬ সালে একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসিবে উপস্থিত হয়েছিলেন রুদ্রনীল-তসলিমা। তা স্মরণ করে তসলিমা নাসরিন তার ফেসবুকে লিখেছেন—ফেসবুকে ঢুকলেই দেখি রুদ্রনীল রুদ্রনীল! কী ঘটেছে জানি না। তবে নামটি দেখলে একটি দিনের কথা মনে পড়ে। আমি তখন কলকাতায় রওডন স্ট্রিটের ৭ নম্বর বাড়িতে থাকি। সম্ভবত ২০০৬ সাল। আমার বাড়ি থেকে কলকাতা টিভি খুব কাছে ছিল। টিভি থেকে  আমাকে হঠাৎ হঠাৎ ডাকা হতো, কোথাও নারী নির্যাতন ঘটলে তা নিয়ে কথা বলার জন্যই সাধারণত। একদিন ভয়াবহ কোনো নারী নির্যাতন নিয়ে আলোচনা হবে, আমি একজন বক্তা, বাকি দু’জন বক্তার মধ্যে একজন এসে গেছেন, আরেকজন আসছেন, পথে। সময় হয়ে যাওয়ায় তৃতীয়জনকে ছাড়াই আলোচনা শুরু করলেন পরিচালক। শুরু হওয়ার মিনিট দশেক পর যোগ দিলেন রুদ্রনীল অর্থাৎ তৃতীয় বক্তা। অনুষ্ঠানের পরিচালক বোধহয় রুদ্রনীলের বন্ধু ছিলেন। ওকে দিয়েই মূলত কথা বলিয়েছেন এবং ওর কথাগুলোই মাথা নেড়ে হাত নেড়ে সমর্থন করেছেন।

রুদ্রনীলকে কটাক্ষ করে তসলিমা নাসরিন লিখেছেন—অনুষ্ঠানে আমাকে প্রশ্ন করার পর উত্তরে পুরুষতন্ত্র দায়ি বা এরকম কিছু বলেছি, সঙ্গে সঙ্গে রুদ্রনীল ঘোষ বলে উঠলেন, পুরুষতন্ত্র আবার কী জিনিস? পুরুষতন্ত্রের কোনো অস্তিত্ব নেই সমাজে। বললেন, হ্যাঁ পুরুষতন্ত্র নামে একটা জিনিস প্রাচীনকালে ছিল। তার দিদিমাদেরও দিদিমাদের আমলে। একালে পুরুষতন্ত্র নেই। একালে সর্বক্ষেত্রে নারী উপভোগ করছে সমানাধিকার। নারী নির্যাতন কখনই ঘটে না, যদি কখনো ঘটেই থাকে তা ঘটে নারীদের দোষে। কোনো পুরুষতন্ত্র বা পুরুষের জন্য দায়ি নয়। আমি অনুষ্ঠানের বাকিটা সময় আর কোনো কথা না বলে প্রচণ্ড জ্ঞানী ব্যক্তিটির বক্তৃতা শুনে গেছি। ওর নাটক আমাকে আর টিকিট কেটে দেখতে হয়নি।