বিনোদন

‘বিবাহবার্ষিকীর দিন ডিভোর্স লেটার উপহার পেয়েছিলাম’

স্বামী পিটার হাগের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন প্রাক্তন মিস ইন্ডিয়া, বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি। কয়েক মাস আগে ৪৭ বছর বয়সি সেলিনা অভিযোগ করেন—অস্ট্রিয়ান স্বামী পিটার হাগের হাতে গুরুতর মানসিক, শারীরিক, যৌন ও মৌখিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এবার এই অভিনেত্রী জানালেন, বিবাহবার্ষিকীর দিনে তাকে উপহার হিসেবে ডিভোর্স লেটার দেন তার স্বামী। 

পারিবারিক জটিলতা নিয়ে এর আগেও কথা বলেছেন সেলিনা জেটলি। তার মতো নির্যাতনের শিকার হওয়া কোনো কোনো নারী-পুরুষ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে ইনস্টাগ্রামে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। সেলিনা জেটলি বলেন, “আমার মর্যাদা, আমার সন্তান ও আমার ভাইকে রক্ষা করার জন্য অস্ট্রিয়া ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিন আমি আমার সন্তানদের হারিয়েছি। এই লেখা সকল নারী ও পুরুষের জন্য, যারা নির্যাতনমূলক বিয়ের ঘটনা নিয়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাদের বলছি, আপনারা একা নন।” 

অস্ট্রিয়া থেকে পালিয়া আসার ঘটনা বর্ণনা করে সেলিনা জেটলি বলেন, “২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর, রাত ১টায়, প্রতিবেশীদের সহায়তায় অস্ট্রিয়া থেকে পালিয়ে আসতে বাধ্য হই। পরিকল্পিতভাবে অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছি। এখান থেকে মুক্তি পেতে ফিরে আসতে বাধ্য হই। জীবনের বাকি পথ চলার জন্য খুব সামান্য অর্থ নিয়ে ভারতে ফিরি।” 

স্বামীর সঙ্গে সেলিনা জেটলি

আইনিভাবে লড়তে গিয়ে ঋণের মধ্যে পড়েছেন সেলিনা। তিনি বলেন, “ভারতে ফিরে নিজের বাড়িতে প্রবেশের জন্যও আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। ২০০৪ সালে আমি সম্পত্তি কিনেছিলাম। বিয়ের বহু বছর আগে এটি কিনেছিলাম; আমার স্বামী এটিকে নিজের বলে দাবি করছে। এসব আইনি প্রক্রিয়া চালাতে আমাকে বড় অঙ্কের ঋণও নিতে হয়েছে।” 

সন্তানদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ করা থেকে সেলিনাকে তার স্বামী বঞ্চিত করছে। এই অভিনেত্রী বলেন, “যৌথ হেফাজত এবং অস্ট্রিয়ান পারিবারিক আদালতের কার্যকর আদেশ থাকা সত্ত্বেও, আমাকে আমার ৩ সন্তানের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না। আমি ভীষণ ভেঙে পড়েছি। সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গেলে বারবার হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। মা-সন্তানের নিয়মিত যোগাযোগে বাধা সৃষ্টি করে। এমনকি, সন্তানদেরকে প্রভাবিত ও ভয় দেখিয়ে আমার বিরুদ্ধে কথা বলতে বাধ্য করা হয়েছে। আমি সেই মা, যে জন্মের দিন থেকে শুধু তাদের যত্নই করে এসেছি। তাদের বাবার কর্মজীবনকে সমর্থন করার জন্য এক দেশ থেকে অন্য দেশে স্থানান্তরিত হয়েছি।” 

সন্তানদের সঙ্গে সেলিনা জেটলি

বিবাহবার্ষিকীতে উপহার হিসেবে ডিভোর্স লেটার দেয় সেলিনার স্বামী। তা স্মরণ করে এই অভিনেত্রী বলেন, “গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে, আমার স্বামী আমাকে বিবাহবিচ্ছেদের লেটার দিয়েছে। ১৫তম বিবাহবার্ষিকীর উপহারের কথা বলে আমার স্বামী আমাকে স্থানীয় পোস্ট অফিসে নিয়ে যায়। আমার স্বামী নিজেই গাড়ি চালিয়ে নিয়ে গিয়েছিল; সেখানে যাওয়ার তার পক্ষ থেকে আমাকে ডিভোর্স লেটার ধরিয়ে দেওয়া হয়।” 

বন্ধুত্বপূর্ণভাবে সংসারের ইতি টানার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন সেলিনা। তার ভাষায়—“এরপর আমি বারবার আইনসম্মতভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ একটি বিচ্ছেদের চেষ্টা করেছি, যেখানে একমাত্র অগ্রাধিকার ছিল সন্তানদের কল্যাণ। কিন্তু সেই সব প্রচেষ্টার জবাবে আমার বিয়ের আগের সম্পত্তি সংক্রান্ত দাবিসহ এমন সব অযৌক্তিক শর্ত আরোপ করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য ছিল বিবাহবিচ্ছেদের পরও আমার স্বাধীনতা ও মর্যাদা কেড়ে নেওয়া। এক রাতের মধ্যে একজন মা হিসেবে, একজন অভিভাবক হিসেবে নিজের ভূমিকা প্রমাণ করতে বাধ্য করা হয়; যদিও আমি তাদের মা এবং তাদের প্রধান পরিচর্যাকারী ছিলাম। এক মুহূর্তেই আমার পুরো পৃথিবী আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।” 

সেলিনা জেটলি

২০১১ সালে হোটেল ব্যবসায়ী পিটার হাগকে বিয়ে করেন সেলিনা। ২০১২ সালে প্রথম জমজ সন্তানের জন্ম দেন এ অভিনেত্রী। সন্তানদের নাম রাখেন উইন্সটন এবং ভিরাজ। ২০১৭ সালে ফের জমজ সন্তান জন্ম দেন সেলিনা। সন্তানদের নাম রাখেন শমসের ও আর্থার, পরে শমসের মারা যায়।