বিনোদন

ক্ষমতাধর যুক্তরাষ্ট্রে কেন আর বসবাস করবেন না ‘টাইটানিক’ পরিচালক?

অনেকের কাছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্বপ্নের দেশ। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর এই দেশ ছেড়ে পাকাপাকিভাবে নিউজিল্যান্ডে চলে গেছেন ‘টাইটানিক’খ্যাত পরিচালক জেমস ক্যামেরন। তা-ও একা নন সপরিবারে স্থায়ীভাবে থিতু হয়েছেন এই প্রখ্যাত পরিচালক। খবর নিউ ইর্য়ক টাইমসের। 

বুধবার (২১ জানুয়ারি) মুক্তি পায় ‘ইন ডেপথ উইথ গ্রাহাম বেসিঞ্জার’ এর নতুন পর্ব। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেমস ক্যামেরন। এ অনুষ্ঠানে চমকপ্রদ খবরটি জানান ৭১ বছর বয়সি এই পরিচালক।    

গত বছরের আগস্টে আনুষ্ঠানিকভাবে নিউজিল্যান্ডের নাগরিকত্ব লাভ করেন জেমস ক্যামেরন। ১৯৯৪ সালে প্রথমবার দেশটিতে যাওয়ার পর নিউজিল্যান্ড ও সেখানকার মানুষদের ভীষণভাবে ভালোবেসে ফেলেছিলেন। ২০০০ সালে পঞ্চমবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন জেমস ক্যামেরন। তার স্ত্রীর নাম সুজি অ্যামি। বিয়ের ১১ বছর পর নিউজিল্যান্ডে একটি খামার কেনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন ‘অ্যাভাটার’ নির্মাতা। 

বর্তমান স্ত্রী সুজির সঙ্গে জেমস ক্যামেরন

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জেমস ক্যামেরন বলেন, “সুজি আর আমি যখন সম্পর্ক নিয়ে প্রথম সিরিয়াস হচ্ছিলাম, তখন সে বলেছিল, ‘ঠিক আছে, কোনো সমস্যা নেই।’ সে পুরোপুরি রাজি ছিল। পরে অবশ্য আমাদের সন্তান হলো, পরিবার হলো, মালিবু আর সান্তা বারবারায় শেকড় গড়ে উঠল। কিন্তু সেই কথোপকথন একটু বদলাতে হয়। তবে ‘অ্যাভাটার’ মুক্তির পর আমরা বলেছিলাম—‘এবার এটা বাস্তবায়ন করা যাক।” 

‘ট্রু লাইস’ সিনেমার পরিচালক জেমস ও ৬৪ বছর বয়সি অ্যামির তিন কন্যা। তারা হলেন—ক্লেয়া (২৩), কুইন (২১) ও এলিজাবেথ (১৮)। তাছাড়া দ্বিতীয় স্ত্রী লিন্ডা হ্যামিল্টনের সঙ্গে তার আরেকটি কন্যা রয়েছেন, যার নাম জোসেফিন (৩১)। ২০১১ সাল থেকে শুরু করে ২০২০ সালের শুরুতে কোভিড-১৯ মহামারি শুরুর পূর্ব পর্যন্ত জেমস ক্যামেরন, তার স্ত্রী ও তাদের তিন সন্তান নিয়মিত যুক্তরাষ্ট্র-নিউজিল্যান্ডে যাতায়াত করেন। 

জেমস ক্যামেরন

২০২২ সালে ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’ সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ততা ছিল জেমস ক্যামেরনের। একই বছরের আগস্টে ক্যামেরন ও স্ত্রী অ্যামি নিউজিল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কারণ কোভিড মোকাবিলায় নিউজিল্যান্ডের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক ভালো ছিল। এ বিষয়ে ‘টার্মিনেটর’ পরিচালক বলেন, “নিউজিল্যান্ড সম্পূর্ণভাবে ভাইরাস নির্মূল করেছিল।”

খানিকটা ব্যাখ্যা করে জেমস ক্যামেরন বলেন, “তারা দুইবার সম্পূর্ণভাবে ভাইরাসমুক্ত হয়েছিল। তৃতীয়বার যখন পরিবর্তিত রূপে ভাইরাস ফিরে আসে, তখন সেটা ছড়িয়ে পড়ে। তবে সৌভাগ্যক্রমে তখন তাদের টিকাদানের হার ছিল ৯৮ শতাংশ।”  

জেমস ক্যামেরন নির্মিত বিখ্যাত ‘টাইটানিক’ সিনেমর দৃশ্য

নিউজিল্যান্ডকে ভালোবাসার কারণ ব্যাখ্যা করে জেমস ক্যামেরন বলেন, “এ কারণে আমি নিউজিল্যান্ডকে ভালোবাসি। যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় সেখানকার বেশিরভাগ মানুষ সুস্থ-বুদ্ধিসম্পন্ন। আর যুক্তরাষ্ট্রে টিকাদানের হার ছিল ৬২ শতাংশ, আর সেটা আরো কমছে এবং ভুল পথে যাচ্ছে।”  

বিজ্ঞানের প্রতি নিউজিল্যান্ডের শ্রদ্ধার প্রশংসা করে জেমস ক্যামেরন। পাশাপাশি বলেন, “আরেকটি মহামারি এলে যুক্তরাষ্ট্র ভেঙে পড়বে।” প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, “তাহলে আপনি কোথায় বসবাস করতে চাইবেন? এমন একটি জায়গায়, যেখানে মানুষ বিজ্ঞানকে বিশ্বাস করে, মানসিকভাবে স্থির এবং সবাই একসঙ্গে একটি সাধারণ লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে পারে? না কি এমন একটি জায়গায়, যেখানে সবাই একে অপরের বিরুদ্ধে লড়ছে, চরমভাবে বিভক্ত, বিজ্ঞানের প্রতি পিঠ ফিরিয়ে দিচ্ছে এবং আরেকটি মহামারি এলে পুরোপুরি বিশৃঙ্খল অবস্থায় পড়বে?” 

যুক্তরাষ্ট্র বসবাসের জন্য অসাধারণ জায়গা। আবার নিউজিল্যান্ডের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্বীকৃতি দেন জেমস ক্যামেরন। তার ভাষায়—আমি সেখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বসবাস করছি না, সেখানে আছি মানসিক স্থিরতার জন্য।”

বর্তমান স্ত্রী সুজির সঙ্গে জেমস ক্যামেরন

জেমস ক্যামেরনের পূর্বপুরুষরা স্কটল্যান্ডের বাসিন্দা ছিলেন। ১৯৫৪ সালের ১৬ আগস্ট কানাডায় জন্মগ্রহণ করেন জেমস ক্যামেরন। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তবে ১৭ বছর বয়সে পুরো পরিবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় পাড়ি জমান। তারপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে আসছিলেন এই পরিচালক।