ভারতীয় বাংলা সিনেমার চিত্রনায়ক ও বিজেপির বিধায়ক হিরণ চ্যাটার্জি। ব্যক্তিগত জীবনে অনিন্দিতা চ্যাটার্জির সঙ্গে ঘর বেঁধেছেন। তাদের ২৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে নাইসা নামে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে; যার বয়স ১৯ বছর। কয়েক দিন আগে ঋত্বিকা গিরি নামে একজন মডেলকে বিয়ের খবর জানান হিরণ। তারপর থেকে টলিপাড়ায় তোলপাড় চলছে।
হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতার দাবি—হিরণের সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি। গত ২১ জানুয়ারি বিষয়টি নিয়ে থানায় মামলা করেছেন তিনি। এবার এক সাক্ষাৎকারে অনিন্দিতা জানালেন, হিরণকে বিয়ে করে ভুল করেছেন তিনি।
ভালোবেসে নায়ক হিরণকে বিয়ে করেন অনিন্দিতা। এজন্য পরিবারের অনেক কিছু ছেড়েছেন। মাত্র ১৮ বছর ২ মাস বয়সে হিরণকে বিয়ে করেন তিনি। জীবনের বেশিরভাগ সময় হিরণের সঙ্গে কাটিয়েছেন। কিন্তু হিরণকে বিয়ের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। অনিন্দিতার ভাষায়, “আমি ভুল করেছি।” এ উপলদ্ধি কি এই ঘটনার পরে হয়েছে? এ প্রশ্নের জবাবে অনিন্দিতা বলেন, “অনেক আগেই হয়েছে। ম্যাচিউরিটির সঙ্গে সঙ্গে এই উপলদ্ধি হয়েছে।”
অনিন্দিতা চ্যাটার্জি
এ আলাপচারিতায় অনিন্দিতার কাছে জানতে চাওয়া হয়, হিরণের মাঝে যে একটা পরিবর্তন হয়েছে, তা তুমি বেশ কয়েক বছর আগে টের পেয়েছিলে। তখন তোমার কী মনে হয়েছিল? জবাবে অনিন্দিতা বলেন, “এর আগেও অনেকগুলো ঘটনা আমি চোখের সামনে দেখেছি। আমার মনে হয়েছে এটাও ওরকমই কিছু! ভেবেছিলাম, দু-তিনদের কোনো ব্যাপার ঠিক হয়ে যাবে। আসলে মেয়েরা আশায় আশায় থাকে, এই বুঝি সব ঠিক হয়ে যাবে। যখন এই মেয়েটির (ঋত্বিকা) ব্যাপারে জানতে পারি, তখন ঘটনাটি বিগড়ে যায়। এর আগেও অন্য মেয়েদের সঙ্গে তার এরকম ঘটনা ছিল। এই মেয়েটার আসল বয়স আমি জানি। এজন্য বিষয়টি মেনে নিতে পারিনি। তারপর হিরণকে সরাসরি বলি—‘আমি আর তোমার সঙ্গে থাকব না, আমি আলাদা থাকব।’ এ কারণে আলাদা ছিলাম।”
অনিন্দিতা চ্যাটার্জি
আলাদা থাকার পর পুনরায় হিরণের সঙ্গে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে অনিন্দিতা বলেন, “হিরণ বলেছিল, ‘মেয়েটি তাকে ব্ল্যাকমেইল করছে। ওর মতো জঘন্য মেয়ে হয় নাকি!’ আমাকে আর মেয়েকে দিয়ে এই কথা বলাতে শুরু করে। হিরণের কথায় আমার দ্বিধা হতো। কারণ কোনো কিছু কিনলে সেখানে আমার আর হিরণের নাম থাকত। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যৌথ। তারপরও আমার প্রশ্ন হলো—হিরণ একজন বিধায়ক। ছোট থেকে অনেক সংগ্রাম করে বড় হয়েছে। আর তার মতো মানুষকে এই বাচ্চা মেয়ে ব্ল্যাকমেইল করবে। আমার মনে হয়, আমার এই ভাবনা সঠিক। মূলত, তারপরই আলাদা থাকতে শুরু করি। এরপর হিরণ মেয়েকে (নাইসা) বলে, ‘তোমরা আমাকে আবার ফিরিয়ে নাও। আমাকে হুমকি দিচ্ছে।’ এরপর আমরা আবার হিরণকে ফিরিয়ে আনি। এত লজ্জার পরও আমরা আবার একসাথে থাকতে শুরু করি।”
অনিন্দিতা চ্যাটার্জি-হিরণ দম্পতির কন্যা
পরের ঘটনা বর্ণনা করে অনিন্দিতা বলেন, “আমরা চার-পাঁচ মাস একসাথে থাকি। এরপর জানতে পারি, হিরণ মেয়েটির সঙ্গে কথা বলে। আমি খুব বিস্মিত হই। আমি বলি, ‘এর মানে কি! এটা কি খেলা নাকি!’ আমার মনে হয়, হিরণ খেলা করতে ভালোবাসে, আবেগ নিয়ে খেলতে ভালোবাসে। আমি যখন মেয়েকে নিয়ে থানায় গেলাম তখন ভাবছিলাম, একসঙ্গে থাকলে একটা বিড়ালের প্রতিও মায়া জন্মে। আর সেখানে হিরণের সঙ্গে ২৫ বছর ছিলাম। আমার কিংবা মেয়ের উপরেও ওর কোনো মায়া নেই?”
অনিন্দিতা চ্যাটার্জি
কিছু প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে অনিন্দিতা বলেন, “হিরণ সবকিছু তো দূর থেকে দেখছে। আমি জানি, হিরণ কোথায় আছে। সেখান থেকে তো দেখছে, বউ-মেয়ে থানায় গিয়েছে। কই একবারও ফোন করেনি। একবারও ফোন করে বলেনি, ‘এসব তোমরা কী করছো? আমরা অন্যভাবেও তো এসব সমস্যার সমাধান করতে পারি!’ ডিভোর্স তো সমাজে হয়। সে বলতে পারে, ‘তোমার মতাদর্শের সঙ্গে যাচ্ছে না, মিলছে না, আমি তোমাকে ডিভোর্স দিতে চাই।’ ডিভোর্স দিয়ে যা খুশি করো। আর তুমি একজন বিধায়ক, তোমার মতো মানুষকে ছোট্ট একটা মেয়ে ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ে করে নিলো! তোমারও তো দায়িত্ব আছে!”