অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বিতর্কিত গায়ক মাইনুল আহসান নোবেল, তার মা, স্ত্রীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বাদী আনাননিয়া শবনম রোজের আবেদনে এ রায় দেন আদালত।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ এ আদেশ দেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে এ রায় প্রদান করা হয়।
এ রায়ে গায়ক নোবেল, তার মা নাজমা হোসেন, স্ত্রী ইসরাত জাহান প্রিয়া, সহকারী মুনেম শাহ সৌমিক এবং মাসুদ রানা-এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী সাজিদুল ইসলাম বলেন, বিয়ের প্রলোভনে আনাননিয়া শবনম রোজের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করে তার ১৩ লাখেরও বেশি টাকা আত্মসাৎ করেছে নোবেল। ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত মোট ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা নেয়।
মামলার বিষয়টি ব্যাখ্যা বাদীপক্ষের আইনজীবী সাজিদুল ইসলাম বলেন, গত বছরের ১৩ আগস্ট ৪০৬, ৪২০, ৪১৭, ৫০৬ ও ১০৯ ধারায় আদালতে নোবেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। সঙ্গে পর্নোগ্রাফি অ্যাক্টের ৮ এর ১ ও ২ সেকশনও উল্লেখ করা হয়। মামলার বিচারক পিবিআইকে বাদীর অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেন।
চলতি বছর ২ ফেব্রুয়ারি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন পিবিআইয়ের এসআই নুরুজ্জামান। এতে বাদী অভিযুক্তের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চেয়ে আবেদন করলে তা মঞ্জুর করেন আদালত।
অন্যদিকে, ভুক্তভোগী রোজ বলেন, “দুই পরিবারের মাধ্যমে আমাদের এনগেজমেন্ট সম্পন্ন হয়েছিল। ভিডিও, ছবি দিয়ে প্রায়ই ব্ল্যাকমেইল করে আমার কাছ থেকে প্রচুর টাকা-পয়সা নিতো নোবেল। সামাজিকভাবে বিয়ে না করা আমি মেনে না নেয়ায় আমাকে ওর স্টুডিওতে টর্চার সেলে একদিন আটকে রাখা হয়। ‘আইন দিয়ে আমাকে দমন করতে পারবে না’ বলে নোবেল আমাকে প্রায়ই ভয় দেখাতো।”
এর আগেও নোবেলের বিরুদ্ধে থানায় একাধিকবার মামলা দায়ের করা হয়েছে। সর্বশেষ ‘ধর্ষণ ও মারধরের’ অভিযোগে ডেমরা থানার একটি মামলায় ২০২৫ সালের ১৯ মে গ্রেপ্তার হন নোবেল। পরে ওই মামলার বাদীকে কারাগারে বিয়ে করার পাঁচ দিন পর জামিন পান এ গায়ক।