বিনোদন

প্রিয়জনদের মিলনমেলা

প্রতি বছরের মতো এবারো প্রিয়জন পরিবারের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় বার্ষিক পিকনিক ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান। এই আয়োজনে অংশ নেন অভিনয়শিল্পীসহ টেলিভিশন ও মিডিয়া অঙ্গনের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। আনন্দ-উচ্ছ্বাস, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং সম্মাননা প্রদানের মধ্য দিয়ে দিনটি পরিণত হয় এক মিলনমেলায়। 

গত বছর অভিনয় শিল্পীসংঘ বাংলাদেশ-এর বিজয়ী ও পরাজিত শিল্পীদের একই মঞ্চে সম্মাননা জানানো হয়। পাশাপাশি ডিরেক্টর গিল্ডসহ আরো কয়েকটি সংগঠনকেও সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় প্রিয়জন ২০২৬-এর বার্ষিক ফ্যামেলি ডে। 

এবারের আয়োজনে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় ক্যামেরার পেছনের মানুষদের। যারা পর্দার সামনে থাকা শিল্পীদের কাজকে সুন্দরভাবে তুলে ধরতে নিরলসভাবে কাজ করে যান, অথচ অধিকাংশ সময় তারা থেকে যান আড়ালেই। সেই চিন্তা থেকেই ক্যামেরাম্যান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ মেকআপ আর্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ শুটিং লাইট অনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ টেলিভিশন মিডিয়া প্রোডাকশন ম্যানেজার অ্যাসোসিয়েশন, টেলিভিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরস অর্গানাইজেশন অব বাংলাদেশ, অভিনয় শিল্পীসংঘ বাংলাদেশ এবং ডিরেক্টর গিল্ড বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি সংগঠনকে সম্মাননা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা। 

প্রিয়জনের সভাপতি অপু বলেন, “সাধারণত ক্যামেরার পেছনের সংগঠনগুলোকে কেউ সংবর্ধনা দিতে চায় না। আমরা এই কাজটি করতে পেরে গর্ব অনুভব করছি। কারণ অভিনয়ের কাজে তারা সারাক্ষণ আমাদের পাশে থাকেন, আমাদের সঙ্গে থাকেন।” 

প্রিয়জন আয়োজিত অনুষ্ঠানের দৃশ্য

অনুষ্ঠানে উল্লেখযোগ্যভাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেলিভিশন প্রোডাকশন ম্যানেজার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আবু জাফর অপু, টেলিভিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরস অর্গানাইজেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি জীবন রায়, সাধারণ সম্পাদক রাজ্জাক রাজ, মেকআপ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রতিনিধি সুমন, অভিনয় শিল্পীসংঘ বাংলাদেশের পক্ষে তুহিন চৌধুরী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী নাজিয়া হক অর্শা, অভিনেতা ইমরান নূর, প্রযোজক ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রিয়জন কাজী রিয়াজ হোসেন নয়ন। 

দিনব্যাপী আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রিয়জন ক্রিকেট লিগ (পিসিএল)। যেখানে চারটি দল অংশগ্রহণ করে। এই খেলার ক্রীড়া স্পন্সর ছিল ওয়ালসন। পাশাপাশি আয়োজন করা হয় প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, নারীদের মিনিবার ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলা এবং শিশুদের জন্যও ছিল নানা আয়োজন। 

সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র‌্যাফেল ড্র। র‌্যাফেল ড্র-তে ছিল ৩০টিরও বেশি পুরস্কার। র‌্যাফেল ড্র-এর স্পন্সর ছিল রিমার্ক হারলেন-এর সৌজন্যে গিফট হ্যাম্পার, স্মার্ট এন্টারটেইনমেন্ট-এর সৌজন্যে ১৫টি পুরস্কার এবং বুসান বাইটস-এর সৌজন্যে কাপল লাঞ্চ গিফট। অনুষ্ঠানের বেভারেজ পার্টনার ছিলেন গ্লোব সফট ড্রিংকস লিমিটেড। এছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান স্পন্সর হিসেবে যুক্ত ছিল। 

প্রিয়জন আয়োজিত অনুষ্ঠানের দৃশ্য

মিডিয়া পার্টনার ছিল গ্লোবাল টেলিভিশন, অনলাইন পার্টনার ছিল রাইজিংবিডি। এছাড়া র‌্যাফেল ড্র থেকে প্রাপ্ত অর্থের একটি অংশ সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের খাতা ও কলম কেনার জন্য ডোনেট করা হয়, যা আয়োজনটিকে মানবিক ও প্রশংসনীয় করে তোলে।