বিনোদন

ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরে মারা গেলেন অভিনেতা তিনু করিম

ছোট পর্দার অভিনেতা তিনু করিম মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে বরিশালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৪৬ বছর।  

তিনু করিম ব্যক্তিগত জীবনে হুমায়রা নওশিনের সঙ্গে ঘর বাঁধেন। এ দম্পতির ১১ বছর বয়সি একটা কন্যাসন্তান রয়েছে।  

স্বামীর মৃত্যুর খবর জানিয়ে হুমায়রা নওশিন বলেন, “তিনি একদম সুস্থ ছিলেন। ৩ দিন আগে আমরা গ্রামের বাড়ি বরিশালে এলাম। সব ঠিক ছিল; দুপুরের দিকে শরীর খারাপ লাগছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ডাক্তাররা জানিয়েছেন।”  

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। অভিনেতা তিনুও সকালে ভোট প্রদান করেন, এরপর বাড়ি ফিরেই মারা যান এই অভিনেতা। 

অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু গণমাধ্যম বলেন, “তিনু করিম পুরোপুরি সুস্থ হয়ে বাড়ি (বরিশাল) গেল। ওর গলায় দীর্ঘদিন নল দেয়া ছিল, এজন্য কথা বলতে একটু সমস্যা হতো। এছাড়া সে সুস্থ ছিল। আজকে সকালে ও ভোট দিয়ে এসেছে। এরপর সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার স্ত্রী জানান, সে ভোট দিয়ে এসে অসুস্থ অনুভব করে, এরপর সকাল ৯টা ৫ মিনিটে মারা গেছে।” 

গত বছরের ৮ নভেম্বর বরিশালে গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলেন অভিনেতা তিনু। সেখানে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমতে থাকলে ২৪ নভেম্বর ঢাকায় আনা হয়। এরপর রাজধানীর  একটি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। কিছু দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনুর শরীরিক অবস্থা একটু ভালো হলে তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়।  

এরপর রক্তচাপ ও সুগার লেভেল কমে জ্ঞান হারান অভিনেতা তিনু। এরপর প্রথমে আইসিইউ, পরে ৩ ডিসেম্বর বিকেলে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয় তাকে। ২৩ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর ২৬ ডিসেম্বর তিনু করিমকে আইসিইউতে রাখা হয়। গত ৩১ ডিসেম্বর তাকে কেবিনে দেওয়া হয়। হাসপাতালে ৪০ দিন কাটানোর পর সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেন এই অভিনেতা। 

২০০১ সালে ‘সাক্ষর’ নাটক দিয়ে টিভি নাটকে অভিষেক তিনু করিমের। ২০১০ সালে ‘অপেক্ষা’ সিনেমা দিয়ে বড় পর্দায় নাম লেখান। তারপর ‘রাত জাগা ফুল’, ‘আলতা বানু’সহ অসংখ্য নাটক ও বিজ্ঞাপনে অভিনয় করেছেন এই অভিনেতা।