সেলিব্রেটিদের প্রেম-বিয়ে নিয়ে ভক্তদের আগ্রহের শেষ নেই। ফলে প্রেম বা বিয়ে না করেও অনেক সময় নানা গুঞ্জনের শিকার হতে হয় তারকাদের। তবে কোনো ধরনের গুঞ্জন ছাড়াই টানা ছয় বছর প্রেম করে পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে করেছেন লাক্স তারকা বিদ্যা সিনহা মিম। মিমের স্বামী সনি পোদ্দার দেশের একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন এবং তিনি কুমিল্লার সন্তান।
বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে ভক্তদের জন্য নিজেদের প্রেমের গল্প তুলে ধরেছেন মিম। জানিয়েছেন পরিচয় থেকে শুরু করে প্রেম, প্রপোজ, গোপন রাখার কারণ এবং প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতি।
প্রেমের শুরু নিয়ে মিম বলেন, “আমার ছোট বেলার বন্ধু অরণির মাধ্যমে আমাদের পরিচয়। অরণি ওর (সনি পোদ্দার) কথা মাঝেমধ্যেই বলতো। মজা করতো। বিষয়টা এ রকম ছিল যে, অরণি বারবার বলতো- কি রে তোর বয় ফ্রেন্ড নাই ক্যান? আমি বলতাম, আমি আসলে ঐ রকম কাউকে পাই নাই। আর আমি কাজে ব্যস্ত থাকি, ধর্ম একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সব মিলিয়ে হয়ে ওঠেনি।”
মিম জানান, একসময় অরণি তাকে না জানিয়েই মেসেঞ্জারে একটি গ্রুপ খুলে দেয়। সেখান থেকেই তাদের প্রথম কথা শুরু।
“এর মধ্যে আমাকে না জানিয়ে অরণি মেসেঞ্জারে একটি গ্রুপ খোলে। সেখানেই আমাদের প্রথম কথা হয়। তবে প্রথমে হাই, হ্যালো এটুকুই। আসলে সে যখন দেখলো আমি বিদ্যা সিনহা মিম কথা বলছি সে নার্ভাস ফিল করেছিল। কিন্তু পরবর্তিতে আমরা দ্রুত সেটা কাটিয়ে উঠি এবং কথা বলি।”-বলেন মিম।
প্রথমে বন্ধুত্ব, এরপর ধীরে ধীরে প্রেমে রূপ নেয় সম্পর্কটি। মিম বলেন, “আমাদের কথা বলা শুরু হয় ফ্রেন্ড হিসেবে। ফান-টান করি। জাস্ট মজা করা আরকি! মজা করার জন্যই গ্রুপটা করা হয়েছিল। তো এ রকম করতে করতে আমরা এক সময় আলাদা করেই কথা বলা শুরু করি। আর এভাবেই প্রেম হয়ে যায়। মূলত অরণি এখানে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। সে আমার কাছে যেমন ওর প্রশংসা করতো তেমনি ওর কাছে আমার ভালো দিকটা তুলে ধরতো।”
কে আগে প্রপোজ করেছিলেন— এমন প্রশ্নে মিম জানান, প্রপোজ করেছেন সনি পোদ্দারই।
মিম বলেন, “প্রপোজ ও (সনি পোদ্দার) আমাকে করেছে। ও বলার পর আমি সময় নিয়েছিলাম। বললাম- আমি দেখি, জানাবো। আমি আসলে মন থেকে এটাই চাচ্ছিলাম। কিন্তু একবারেই রাজি হয়ে যাওয়াটা কেমন দেখায় না (হাসি)! সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যাইনি।” দীর্ঘ সময় সম্পর্ক গোপন রাখার কারণ ব্যাখ্যা করে মিম বলেন, “আমি ব্যক্তিগত জীবন একদমই নিজের মতো করে রাখতে পছন্দ করি। সেভাবে মানুষকে জানানোর ইচ্ছে ছিল না। আমার ইচ্ছে ছিল আমি অফিসিয়ালি জানাবো। আমি চাইনি আমাদের প্রেমের কথা, একান্ত কথাগুলো নিয়ে বাইরে চর্চা হোক। আমার মা আমাদের সম্পর্কের কথা শেষের দিকে জেনেছেন।”
প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতি তুলে ধরে মিম বলেন, “আমি প্রথম দেখা করি গ্লোরিয়া জিন্সে। এরপর আর কোথাও যাইনি। কারণ ওখানে গিয়ে ঠিকমতো কথা বলতে পারছিলাম না। আশপাশের মানুষ তাকিয়ে থাকত। আমি খুবই নারভাস ফিল করতাম।”
এরপর থেকে বাইরে দেখা করা কমিয়ে দেন তারা। তিনি বলেন, “এরপর থেকে আর বাইরে মিট করতাম না। আমরা গাড়িতে ঘুরতাম। আমি যখন জিমে যাই বা অন্য কোথাও গেলে আসার সময় আমরা একসঙ্গে গাড়িতে আসতাম। তখন আড্ডা দিতাম। এ ভাবেই হতো।” ব্যস্ততার কারণে খুব বেশি দেখা না হলেও ফোনেই চলতো তাদের প্রেমের গল্প। মিম বলেন, “যেহেতু ও জব করছে, অফিস থেকে বের হতে রাত হতো। এদিকে আমি রাতে বাইরে থাকতে পারতাম না। ফলে খুব যে দেখা হতো এমন নয়। ফোনটাই আমাদের সব ছিল। ফোনে আমরা গল্প, আড্ডা, ভালো লাগা-মন্দ লাগা শেয়ার করতাম।”
ভালোবাসার স্মৃতি হিসেবে উপহার আদান-প্রদানও ছিল নিয়মিত। মিম বলেন, “গিফট আদান-প্রদান হতো আমাদের। শুরুতে আমার বাসায় গিফট এলে মা-বাবা কখনও জানতো না যে ও দিয়েছে। আমার একটা ভাই আছে প্রিয়ন্ত। ও নিয়ে আসতো। বাসায় সবাই জানতো প্রিয়ন্তই নিয়ে এসেছে। মার কাছে যদি মাঝেমধ্যে মনে হতো প্রিয়ন্ত এতো গিফট কেন দিচ্ছে? বলতাম অনলাইন থেকে গিফট দিয়েছে। এখন অবশ্য গিফট শুধু ও একা দেয় না, মামনীও (সনি পোদ্দারের মা) দেন।”
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে মিম ও সনি পোদ্দার বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে বড় পর্দায় খুব একটা দেখা যায়নি মিমকে। তবে চলতি বছর বিরতি ভেঙে আবারও কাজে ফিরছেন তিনি। জানা গেছে, ২০২৬ সালে অন্তত দুটি সিনেমায় দেখা যাবে মিমকে।