বিনোদন

অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেলেন রাজপাল যাদব

বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদবের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছেন দিল্লি হাইকোর্ট। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) একাধিক চেক ডিজনার মামলায় আগামী ১৮ মার্চ পর্যন্ত জামিন পেয়েছেন এই অভিনেতা। ইন্ডিয়া টুডে এ খবর প্রকাশ করেছে। 

এ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রাজপাল যাদবের আইনজীবী আদালতকে জানান, বাদীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ৫০ লাখ রুপি জমা করা হয়েছে। এ বক্তব্য শুনে আদালত স্পষ্ট করে জানান, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ডিমান্ড ড্রাফট জমা দেওয়া হয়ে থাকলে রাজপাল যাদবকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে মুক্তি দেওয়া হবে। তা না হলে বিষয়টি মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে পুনরায় শুনানির জন্য তোলা হবে।

আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি অভিনেতা রাজপাল যাদবের ভাতিজির বিয়ে। এ বিয়েতে যোগ দেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন করেন অভিনেতা। এই অনুমতির ফলে বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারবেন তিনি। শুনানির সময় আদালত নির্দেশিত অর্থ অভিযোগকারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দিতে বলেছিলেন। বিষয়টি নথিভুক্ত করে আদালত বলেন, “এখন যেহেতু বাকি সমস্যার সমাধান হয়েছে, তাহলে আপনারা মধ্যস্থতায় যাচ্ছেন না কেন?” এসময় উপস্থিত আইনজীবীরা জানান, মধ্যস্থতার জন্য তাদের নিজ নিজ মক্কেলের কাছ থেকে নির্দেশনা নিতে হবে।  

রায় দিতে গিয়ে আদালত বলেন, “আবেদনকারীর ভাতিজির বিয়ে শাহজাহাপুরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আজ প্রতিপক্ষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ৫০ লাখ রুপি জমা দেওয়া হয়েছে—এই বিবেচনায় আমরা দণ্ডাদেশের অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিচ্ছি।” 

আগামী ১৮ মার্চ পর্যন্ত রাজপাল যাদবের দণ্ডাদেশের অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছেন আদালত। এদিন পরবর্তী শুনানিও অনুষ্ঠিত হবে। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, পরবর্তী শুনানির দিন রাজপাল যাদবকে সশরীরে অথবা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আদালতে উপস্থিত থাকতে হবে। তার পাসপোর্ট যদি জমা না দিয়ে থাকেন, তবে তা জমা দিতে হবে। 

গত ৫ ফেব্রুয়ারি, বিকাল ৪টার মধ্যে বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদবকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিলেন দিল্লি হাইকোর্ট। একাধিক চেক ডিজঅনার মামলায় আগের দেওয়া ছাড় প্রত্যাহার করে সংশ্লিষ্ট জেল সুপারের কাছে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পন করেন ‘ভুল ভুলাইয়া’ তারকা। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।  

২০১০ সালে রাজপাল যাদব ‘আতা পাতা লাপাতা’ সিনেমা নির্মাণ করেন। এটি তার নির্মিত প্রথম সিনেমা। এটি নির্মাণের জন্য দিল্লিভিত্তিক মুরলি প্রোজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড থেকে ৫ কোটি রুপি ঋণ নেন। মুক্তির পর সিনেমাটি বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাড়া পায়নি। ফলে ঋণ পরিশোধে জটিলতা তৈরি হয়। এরপর শুরু হয় আইনি লড়াই।  

ঋণ পরিশোধের অংশ হিসেবে রাজপালের দেওয়া সাতটি চেক বাউন্স হয়। ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে একটি ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের ১৩৮ ধারা অনুযায়ী রাজপাল যাদব ও তার স্ত্রী রাধা যাদবকে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালত তাদের ছয় মাসের সাধারণ কারাদণ্ড দেন। ২০১৯ সালের শুরুতে একটি সেশনস কোর্টও এই রায় বহাল রাখেন। 

পরবর্তীতে রাজপাল দিল্লি হাইকোর্টে রিভিশন পিটিশন করেন। দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি চলার পর, ২০২৪ সালের জুনে হাইকোর্ট সাময়িকভাবে তার সাজা স্থগিত করেন। পাশাপাশি জানান, বকেয়া পরিশোধে ‘সৎ ও আন্তরিক’ উদ্যোগ দেখাতে হবে। এই সময়ের মধ্যে সুদ-জরিমানা যোগ হয়ে মোট দেনার অঙ্ক বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৯ কোটি রুপি। 

২০২৫ সালের অক্টোবরে রাজপাল যাদব দুটি ডিমান্ড ড্রাফটের মাধ্যমে ৭৫ লাখ রুপি জমা দেন। কিন্তু আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, এটি মোট দায়ের তুলনায় খুবই সামান্য। এরপর গত ডিসেম্বরে ৪০ লাখ রুপি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন অভিনেতা। পাশাপাশি জানান, ২০২৬ সালের শুরুতে বাকি অর্থ শোধ করে দেবেন। কিন্তু এসব প্রতিশ্রুতির বেশির ভাগই পূরণ করতে ব্যর্থ হন রাজপাল।  

গত ৪ ফেব্রুয়ারি, রাজপাল যাদবের করা এক সপ্তাহের সময় চেয়ে করা শেষ মুহূর্তের ‘মার্সি প্লি’ আদালত খারিজ করে দেন। বিচারকের পর্যবেক্ষণ ছিল, রাজপাল যাদব বারবার আদালতের নির্দেশ অমান্য করেছেন; এতে বিচারব্যবস্থার প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো হয়নি। ৫ ফেব্রুয়ারি, আদালতে হাজির হয়ে রাজপালের আইনজীবী নতুন করে ২৫ লাখ রুপির চেক এবং নতুন পরিশোধসূচি প্রস্তাব করেন। কিন্তু আদালত আত্মসমর্পণের নির্দেশ প্রত্যাহার করতে অস্বীকার করেন। সেদিন বিকেল ৪টায় রাজপাল যাদব তিহার জেলে আত্মসমর্পণ করেন; ফলে তার ছয় মাসের সাজা কার্যকর হয়।