বিনোদন

জেল থেকে বেরিয়েই মিমিকে হুঁশিয়ারি

মিমি চক্রবর্তীর দায়েরকৃত মামলায় জামিনে মুক্ত হয়ে অভিনেত্রীকে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিলেন তনয় শাস্ত্রী। আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারির মাধ্যমে পাঠানো আইনি নোটিসে বেশ কিছু দাবি পূরণের পাশাপাশি হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেন। 

মিমি চক্রবর্তীকে পাঠানো নোটিসে তিনটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এক. এই অনুষ্ঠানের পারিশ্রমিক হিসেবে মিমিকে ২ লাখ ৬৫ হাজার রুপি দেওয়া হয়েছিল। রাত সাড়ে ৯টায় মিমির সেখানে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে ঘণ্টা দুয়েক পর রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ অভিনেত্রী সেখানে পৌঁছান। সঙ্গে সঙ্গে স্টেজে উঠতেও পারেননি। তাই ওই পারিশ্রমিক ফেরতের দাবি জানিয়েছেন তনয় শাস্ত্রী।  

দ্বিতীয়. তনয় শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার কারণে তাকে কারাভোগ করতে হয়েছে। ফলে তনয় শাস্ত্রীর মানহানি হয়েছে। ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২০ লাখ রুপি দাবি করা হয়েছে। তৃতীয়. আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মিমিকে জনসমক্ষে ক্ষমা চাইতে হবে। না হলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা দায়েরের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। 

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁতে অনুষ্ঠান করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হন ভারতীয় বাংলা সিনেমার অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। অনুষ্ঠান চলাকালীন আয়োজকরা অপমান করে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেন তৃণমূলের এই প্রাক্তন সংসদ সদস্যকে। গত ২৬ জানুয়ারি রাতে এ ঘটনা ঘটে। পরে অনুষ্ঠানের আয়োজক তনয় শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। কিছু দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হন তিনি।   

তবে দেরি করে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন মিমি। ইনস্টাগ্রাম পোস্টে এই অভিনেত্রী বলেন, “আত্মসম্মান, কঠোর পরিশ্রম ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে আমি আমার ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছি। মঞ্চের পেছনে নিজের গাড়িতে ২০ মিনিটেরও বেশি সময় অপেক্ষা করেছি সম্মান রক্ষার্থে। কারণ তখনো অন্য একজন শিল্পী তার পরিবেশনা শেষ করছিলেন। তারপরও মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগের মুখোমুখি হতে হয়েছে। প্রতিশোধের জন্য নয়, জবাবদিহির জন্যই আইনি পথ বেছে নিয়েছি। কারণ আমরা যদি সীমারেখা না টানি, তাহলে এটা অন্যদের সঙ্গেও ঘটতেই থাকবে।”  

মিমি চক্রবর্তী আগের মতো অভিনয়ে সরব নন। ২০২৪ সালে তাকে দুটো সিনেমায় দেখা যায়। একই বছর বাংলাদেশের ‘তুফান’ সিনেমার আইটেম গানে পারফর্ম করে তাক লাগিয়ে দেন। তার অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘রক্তবীজ টু’। গত বছর মুক্তি পায় এটি।   

বর্তমানে মিমির হাতে দুটো সিনেমার কাজ রয়েছে। এর মধ্যে ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’ সিনেমার শুটিং শেষ করেছেন; আর ‘এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন মিমি। এটি পরিচালনা করছেন সৃজিত মুখার্জি।