ভারতীয় সিনেমার প্রবীণ নির্মাতা এম এম বেগ মারা গেছেন। চলতি সপ্তাহের শুরুতে মুম্বাইয়ের নিজ বাসভবনে তার পচাগলা মৃতদেহ পাওয়া যায়। তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই এ খবর প্রকাশ করেছে।
এম এম বেগের জনসংযোগ কর্মকর্তা হানিফ জাবেরি পিটিআই-কে বলেন, “বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। চার থেকে পাঁচ দিন তাকে বাড়ির বাইরে বের হতে দেখেননি কেউ। এরই মধ্যে বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ আসার অভিযোগ করেন প্রতিবেশীরা। পরে পুলিশ দরজা ভেঙে বেগ সাহেবের মৃতদেহ খুঁজে পায় এবং তার মেয়েকে খবর দেয়। রাত দেড় থেকে ২টার দিকে তার মরদেহ কুপার হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। একজন স্নেহশীল মানুষ ছিলেন তিনি। তার আত্মার শান্তি কামনা করি।”
হৃতিক রোশানকে তৈরি করার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এম এম বেগ। এ বিষয়ে হানিফ জাবেরি বলেন, “বেগ সাহেবের সঙ্গে রাকেশ রোশান সাহেবের খুবই ভালো সম্পর্ক ছিল। হৃতিক রোশানের উচ্চারণ, কণ্ঠস্বরের ওঠা-নামা এবং সংলাপ বলার ক্ষেত্রে সাহায্য করেছিলেন। কারণ এসব বিষয়ে দক্ষ ছিলেন তিনি। ‘কহো না পেয়ার হ্যায়’ (২০০০) মুক্তির অনেক আগে থেকে হৃতিককে সংলাপ বলার অনুশীলনে সহায়তা করেছিলেন বেগ সাহেব।”
এম এম বেগের কন্যার শাহিন্দা বেগ। ‘বেবি গুড্ডু’ নামে অধিক পরিচিত তিনি। কারণ আশির দশকের অন্যতম পরিচিত শিশুশিল্পী ছিলেন তিনি। ‘আখির কিউঁ?’ (১৯৮৫), ‘নাগিনা’ (১৯৮৬), ‘পেয়ার কিয়া হ্যায় পেয়ার করেঙ্গে’ (১৯৮৬), ‘আউলাদ’ (১৯৮৭) প্রভৃতি সিনেমায় অভিনয় করেছেন।
সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন বেগ। জে ওম প্রকাশ, বিমল কুমার এবং রাকেশ রোশানের সঙ্গে কাজ করেছেন। ‘আদমি খেলোনা হ্যায়’ (১৯৯৩), ‘জয়সি করনি ওয়াইসি ভরনি’ (১৯৮৯), ‘করজ চুকানা হ্যায়’ (১৯৯১), ‘কালা বাজার’ (১৯৮৯), ‘কিশেন কানহাইয়া’ (১৯৯০)সহ বিভিন্ন সিনেমার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কারিগরি দক্ষতার জন্য সম্মান অর্জন করেন তিনি।
স্বাধীন নির্মাতা হিসেবে ‘মাসুম গওয়াহ’ চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন এম এম বেগ। এ সিনেমায় অভিনয় করেন নাসিরুদ্দিন শাহ। যদিও সিনেমাটি মুক্তি পায়নি। তাছাড়া ‘ছোটি বহু’ (১৯৯৪) সিনেমাও পরিচালনা করেন তিনি। এতে শিল্পা শিরোদকর অভিনয় করেছিলেন।