বিনোদন

সুরঙ্গনার সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্ক নিয়ে যা বললেন ঋদ্ধির মা

ভারতীয় বাংলা টিভি ও ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে সম্পর্কের ভাঙা-গড়ার খেলা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এ পরিস্থিতিতে উদাহরণ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছেন ঋদ্ধি সেন আর সুরঙ্গনা ব্যানার্জি জুটি। তারা পরস্পর ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’ থেকে জীবনসঙ্গী হয়ে ওঠার পথে; তাদের শৈশবের বন্ধুত্বে এখন যৌবনের ছোঁয়া।

শুরু থেকেই ঋদ্ধির বাবা-মায়ের সঙ্গেও সুরঙ্গনার সম্পর্ক দৃঢ়। রেশমি সেনের সঙ্গে হবু বউমার সম্পর্ক বন্ধুর মতো। অন্যদিকে কৌশিক সেনের মেয়ে না থাকার অভাব পূরণ করেছেন সুরঙ্গনা। কয়েক দিন আগে ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঋদ্ধি-সুরঙ্গনার সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন রেশমি সেন।

বিয়ের আইনি প্রশংসাপত্রের চেয়ে একে-অপরের পাশে থাকাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে দুজনেই নিজ নিজ ক্যারিয়ারের দিকে মন দিয়েছেন। কিন্তু তাদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলগুলো সাক্ষী দেয় যে, শত ব্যস্ততার মাঝেও তারা একে অপরের সবচেয়ে বড় সাপোর্ট সিস্টেম। ঋদ্ধির মা রেশমি বলেন, “সম্পর্ক থাকাটাই জরুরি। আমরা কোনো দিন জোর করিনি। ওদের যেদিন মনে হবে বিয়ে করবে। যদি ওরা না মনে করে, তবে বিয়ে করবে না। আমরা দুজনের কেউই জোর করি না। তবে সুরুকে (সুরঙ্গনাকে) সাজাতে পারলে আমি খুব খুশি হই। আমার শাড়ির ভান্ডার ওর হাতেই।”

সুরঙ্গনা মাঝেমধ্যেই তাদের বাড়িতে এসে থাকেন, অকপটে জানান রেশমি। প্রয়োজনে হবু শাশুড়ি মাকে বকাঝকাও করেন। রেশমির কথায়, “সুরঙ্গনা বাড়িতে না থাকলে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পায় কৌশিক। হবু শ্বশুর-বউমার রসায়ন এতটাই গভীর যে, সুরঙ্গনা যখন নিজের বাড়িতে ফিরে যায় বা কোনো কাজে দূরে থাকে, তখন কৌশিক মানসিকভাবে বেশ একা হয়ে পড়ে।”

সুরঙ্গনা যেদিন বাড়ি থেকে চলে যায়, সেদিন কৌশিক এক ধরণের বিষণ্ণতায় ভোগে। এ তথ্য স্মরণ করে রেশমি বলেন, “সুরু (সুরঙ্গনা) চলে গেলে কৌশিক মানসিকভাবে একটু অসুস্থ হয়ে পড়ে। ও বারবার বলতে থাকে, সুরু চলে গেল! আসলে ও ওকে এতটাই নিজের করে নিয়েছে যে, ওর অনুপস্থিতিটা মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।”

ছোটবেলাতেই ঋদ্ধির অভিনয়ে হাতেখড়ি। তারপর বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমা হলো: ‘ইতি মৃণালিনী’, ‘কাহানি’, ‘চিলড্রেন অব ওয়ার’ প্রভৃতি। এরই মধ্যে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন ঋদ্ধি।

সুরঙ্গনা শুধু অভিনেত্রী নন একাধারে নৃত্যশিল্পী ও কণ্ঠশিল্পী। শিশুশিল্পী হিসেবে তার অভিনয়ের পথচলা শুরু। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমা হলো: ‘চিরসাথী’, ‘মাটি ও মানুষ’, ‘গয়নার বাক্স’, ‘গল্প হলেও সত্যি’ প্রভৃতি।

‘ওপেন টি বায়োস্কোপ’ সিনেমায় প্রথম জুটি বেঁধে অভিনয় করেন ঋদ্ধি সেন ও সুরঙ্গনা ব্যানার্জি। এতে প্রেমিক-প্রেমিকার চরিত্রে দেখা যায় তাদের। এরপর ‘সমান্তরাল’, ‘শরতে আজ’ ওয়েব সিরিজেও জুটি বেঁধে অভিনয় করেন তারা।