বিনোদন

সিনেমার ‘পিচ’ নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সিনেমা নির্মাণের ধারণা থেকে প্রযোজনা পর্যন্ত যাত্রাপথে ‘পিচ’ এখন এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিষয়টিকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ও কনটেন্টভিত্তিক প্রতিষ্ঠান লেখালিখির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘পিচ ইওর ফিল্ম’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা। গত ৪ মার্চ ফিল্ম আর্কাইভে এ আয়োজন করা হয়। 

বর্তমান সময়ে সিনেমা শিল্পে ‘পিচ’ বা ‘পিচ ডেক’ একটি অপরিহার্য উপাদান। নির্মাতা কীভাবে তার গল্পকে উপস্থাপন করবেন, প্রযোজনায় সহযোগিতা প্রয়োজন কি না, সম্ভাব্য দর্শক কারা, আর্থিক সম্ভাবনা কতটা—এসব বিষয় সুসংগঠিতভাবে তুলে ধরা হয় একটি কার্যকর পিচে। বৈশ্বিক পরিমণ্ডলের পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়েও অনুদান কিংবা বেসরকারি প্রযোজনায় পিচের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। সেই প্রয়োজন থেকেই আগ্রহী নির্মাতা ও কনটেন্ট স্রষ্টাদের জন্য এই কর্মশালার আয়োজন। 

কর্মশালাটি পরিচালনা করেন নির্মাতা ও প্রযোজক রাকা নোশিন নাওয়ার। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন লেখালেখির প্রধান নির্বাহী সৈয়দা ফারজানা জামান রুম্পা। 

দিনব্যাপী সেশনে রাকা নোশিন নাওয়ার পিচ তৈরির ব্যবহারিক দিকগুলো তুলে ধরেন। একটি শক্তিশালী প্রজেক্ট প্রস্তাবনা কীভাবে তৈরি করতে হয়, পিচ ডেকের কাঠামো কেমন হবে, কোন তথ্যগুলো অপরিহার্য এবং কীভাবে সৃজনশীল ভাবনাকে প্রযোজনা পরিকল্পনা ও বাজার সম্ভাবনার সঙ্গে যুক্ত করতে হয়—এসব বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।  

রাকা নোশিন নাওয়ার বলেন, “পিচ ডেক কেবল আকর্ষণীয় স্লাইডের সমষ্টি নয়; এটি এমন একটি কৌশলগত নথি, যা গল্প, লক্ষ্য দর্শক এবং আর্থিক বাস্তবতাকে একই সুতোয় গেঁথে উপস্থাপন করা।” 

কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক ম. জাভেদ ইকবাল, পরিচালক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান ভূঁঞা, প্রকল্প পরিচালক আলী সরকার এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত পরিচালক চাষী নজরুল ইসলামের কন্যা ও চাষী ফিল্মসের নির্বাহী আন্নি ইসলাম। 

মহাপরিচালক ম. জাভেদ ইকবাল তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ সবসময় সহায়ক ভূমিকা রাখতে আগ্রহী। এ ধরনের আয়োজনকে তারা ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেন।” 

এ ধরনের আয়োজন বাড়ানো দরকার বলে মনে করেন আন্নি ইসলাম। তিনি বলেন, “সময়ের দাবি অনুযায়ী ফিল্ম পিচিং নিয়ে এমন কর্মশালা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক উদ্যোগ। চলচ্চিত্রের স্বার্থেই এ ধরনের আয়োজন আরও বাড়ানো প্রয়োজন।” 

সৈয়দা ফারজানা জামান রুম্পা জানান, দক্ষ ও প্রস্তুত চলচ্চিত্রকর্মী তৈরি করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। এটি কেবল সূচনা; ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত ও গভীর প্রশিক্ষণ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। 

দিনব্যাপী এই কর্মশালায় অংশ নেন ৩০ জন আগ্রহী প্রশিক্ষণার্থী। শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।