বিনোদন

ঈদের সিনেমা, গানহীন নীরবতা

একসময় ঢাকাই সিনেমার প্রাণ ছিল তার গান। সিনেমা মুক্তির আগেই গান হিট—এই সমীকরণ যেন সাফল্যের প্রথম ধাপ হিসেবে ধরা হতো। দর্শক সিনেমা হলে যাওয়ার আগেই গান মুখস্থ করে ফেলতেন, আর সেই গানই হয়ে উঠত সিনেমার সবচেয়ে বড় প্রচারমাধ্যম। 

তবে সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলে গেছে। এক দশকের বেশি সময় ধরে ঢাকাই সিনেমা তার জৌলুস হারানোর গল্প শুনেছে। যদিও সাম্প্রতিক কয়েকটি সিনেমা নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে, তবুও সেই পুরোনো শক্ত জায়গাগুলো এখনও পুরোপুরি ফিরে আসেনি। তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ—ঈদের সিনেমার গান। 

গানেই বাজিমাত, সেই দিন কোথায়? ঈদের সিনেমা মানেই একসময় ছিল ‘মিউজিক হিট’। সিনেমা মুক্তির কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই একের পর এক গান প্রকাশ পেত। ইউটিউব, টেলিভিশন, রেডিও—সবখানে সেই গানই ঘুরত। 

অনেক সময় দেখা গেছে, গল্প বা নির্মাণের চেয়েও গানই সিনেমাকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। দর্শক শুধু গান শুনেই হলে যাওয়ার আগ্রহ পেতেন। কিন্তু এবারের চিত্রটা একেবারেই ভিন্ন। পাঁচ সিনেমা, কিন্তু নেই গানের আলোড়ন। ঈদের পাঁচটি সিনেমা বড় বাজেট, তারকাবহুল আয়োজন—সবই আছে। কিন্তু নেই সেই চিরচেনা ‘গানের উন্মাদনা’। 

যে দু-একটি গান প্রকাশ পেয়েছে, সেগুলোও তেমনভাবে দর্শকের মনে দাগ কাটতে পারেনি। সামাজিক মাধ্যমে নেই আলোচনা, নেই ভাইরাল হওয়ার প্রবণতা, নেই গুনগুন করে গাওয়ার মতো লাইন। এ যেন গানহীন এক ঈদ। 

ঈদের সিনেমা মানেই শুধু গল্প নয়, এক ধরনের পূর্ণাঙ্গ বিনোদন। সেখানে গান একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ—যা দর্শকের আবেগ, স্মৃতি আর আগ্রহকে একসঙ্গে ছুঁয়ে যায়।