বিনোদন

ঈদে আমারও ইজান গ্রামে যেতে ইচ্ছে করে: আবুল হায়াত

ঈদ উৎসব উপলক্ষে নানারকম দুর্ভোগ সয়ে দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে যান নিজ গ্রামে। ঈদ আনন্দ পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার জন্য এসব কষ্ট মামুলি ব্যাপার! ঈদ এলে নিজ গ্রামে যেতে চান বরেণ্য অভিনেতা আবুল হায়াত। যদিও নানা সংকটের কারণে তা হয়ে উঠে না। 

আবুল হায়াত বলেন, “আমাদের দুটি বৃহৎ উৎসব ঈদুল ফিতর আর কোরবানির ঈদ। এই দুই উৎসবের আনন্দ আমরা আপনজনের সঙ্গে উপভোগ করার জন্য ভীষণ আকুল থাকি। বিশেষ করে এই ঈদুল ফিতরে। ছুটি যত বড়ই হোক, তাতে মন ভরে না কারোরই—আহা রে আরও দুদিন বেশি ছুটি হলে কী না মজা হতো, এই ভাবনা প্রায় সবার মধ্যেই দেখা যায়। তাই দেখি, ছুটি শেষেও ‘ওভার স্টে’ করি, কাজে–কর্মে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরতে লাগে যথেষ্ট সময়।”

ঈদে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার প্রবল ইচ্ছের কথা স্মরণ করে আবুল হায়াত বলেন, “আমারও ভীষণ ইচ্ছে করে ঈদে–বকরি ঈদে দেশে যেতে। কিন্তু সেই পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ইজান গ্রামে যাওয়া হয়ে ওঠে না কখনো। সেখানে এখনো আত্মীয়-স্বজন অনেকেই রয়েছেন। যাওয়ার অনুরোধও আসে। কিন্তু নানা কারণে হয় না।”

ভ্রমণে বাহন হিসেবে ট্রেন ভীষণ প্রিয় আবুল হায়াতের। প্রিয় ইজান গ্রামে গেলে ট্রেনেই যেতেন। তার ভাষায়, “ইজান গ্রামে গেলে আমি ট্রেনেই যেতাম। যাত্রার জন্য এটি আমার অতিপ্রিয় বাহন। আমি ছোট্টবেলা থেকেই ট্রেনের ভক্ত। আব্বা রেলে চাকরি করতেন বিধায় রেলের সঙ্গে সখ্যতা আমার। বছরে ছয়বার করে আমাদের ফ্রি পাস ছিল। আবার স্টুডেন্ট পাসও বেশ কবার পাওয়া যেত কনসেশনে। কী মজা যে পেতাম ট্রেনে চড়তে।”

আবুল হায়াতের বাবা রেলে চাকরি করতেন। তা স্মরণ করে তিনি বলেন, “ওয়েলফেয়ার সেকশনে চাকরি ছিল আব্বার। প্রতিবছর রেলের টাইম–টেবিল ছাপানোর দায়িত্বটা ছিল এখানে। তাই বেশ কিছু টাইম–টেবিল বাসায় আসত, তার একটি দখল করতাম আমি। যখনই কোথাও যেতাম, সেটি আমার সঙ্গে যেত।”

১৯৪৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে জন্মগ্রহণ করেন আবুল হায়াত। তার বাবার আব্দুস সালাম। চট্টগ্রাম রেলওয়ে ওয়াজিউল্লাহ ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আবুল হায়াতের স্কুল জীবন কাটে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট ও রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখান থেকে মেট্রিকুলেশন (এসএসসি) পাস করে চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হন। 

চট্টগ্রাম কলেজ থেকে আইএসসি পাস করে ১৯৬২ সালে বুয়েট ভর্তি হন আবুল হায়াত। বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট থেকে ১৯৬৭ সালে পাস করেন। ১৯৬৮ সালে ঢাকা ওয়াসার প্রকৌশলী পদে যোগ দেন। ১৯৬৯ সালে ‘ইডিপাস’ নাটকে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে টিভি পর্দায় তার অভিনয়ের অভিষেক ঘটে। পরের গল্প সবারই জানা!