বিনোদন

আরব দেশ ওমানে কাটানো মেহজাবীনের শৈশবের ঈদ স্মৃতি

লাক্স তারকা অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। তার জন্ম চট্টগ্রামে। মাত্র দুই বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে পাড়ি জমান আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত দেশ ওমানে। ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত এই দেশে কাটিয়েছেন মেহজাবীন। ফলে এ অভিনেত্রীর শৈশবের ঈদের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশটির নানা স্মৃতি। ওমানে কাটানো ঈদ নিয়ে কথা বলেছেন মেহজাবীন। 

স্মৃতিচারণ করে মেহজাবীন চৌধুরী বলেন, “ওমানে ইন্ডিয়ান স্কুল সোহরে ও পরে ইন্ডিয়ান স্কুল মাসকাটে পড়তাম। সেই সময়ের ঈদের আনন্দের রেশ আজও রয়ে গেছে। ঈদের জামা লুকিয়ে রাখতাম; বন্ধুরা যেন জামাটি দেখে না ফেলে। ভাবতাম, আমার জামাটিই সবচেয়ে সুন্দর। শৈশবের সরল আনন্দগুলো কতটা মূল্যবান ছিল, তা এখন বুঝতে পারি।” 

রমজান মাসে ওমানের কিছু সংস্কৃতির কথা উল্লেখ করে মেহজাবীন চৌধুরী বলেন, “প্রথম রোজা থেকেই ওমানে ঈদের আমেজ শুরু হয়। কেনাকাটা, খাওয়াদাওয়া—সবকিছুতেই উৎসবের আবহ ছিল। অনেক রেস্টুরেন্টে দেখেছি, যারা রোজা রেখেছেন, তাদের বিনামূল্যে ইফতার করানো হচ্ছে। শুধু রেস্টুরেন্ট নয়, অনেক মসজিদেও এমন ব্যবস্থা থাকত, যেখানে যে কেউ গিয়ে নির্বিঘ্নে ইফতার করতে পারতেন। সবাইকে একসঙ্গে বসিয়ে খাওয়ানোর এই সংস্কৃতি আমার কাছে এখনো অত্যন্ত সম্মানের। সেখানে সমতার চর্চা খুব স্পষ্ট ছিল। বিদেশি হয়েও কখনো নিজেকে আলাদা মনে হয়নি। সবাইকে সমান সম্মান ও আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করা হতো।” 

দূরদেশটির চাঁদরাতের স্মৃতিচারণ করে মেহজাবীন চৌধুরী বলেন, “ওমানে চাঁদরাত ছিল ঈদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় মুহূর্ত। আম্মুর সঙ্গে বসে হাতে মেহেদি লাগানো, শুকানোর জন্য অপেক্ষা করা, আর বারবার দেখে আনন্দ পাওয়া ছিল আনন্দের এক অনুভূতি। রাতে ঘুম খুব একটা আসত না, টেলিভিশনে চাঁদরাতের অনুষ্ঠান দেখতাম, চারপাশে উৎসবের আবহ থাকত। ঈদের সকালটাও ছিল অন্যরকম। খুব ভোরে উঠে পড়তাম। আম্মু আগেই নানারকম মিষ্টান্ন ও সেমাই প্রস্তুত করে রাখতেন। পরিবারের সবাই মিলে নতুন পোশাক পরে ছবি তুলতাম।” 

ওমানের স্কুল বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো ঈদের মুহূর্তগুলো মেহজাবীন চৌধুরীকে আবেগতাড়িত করে। তিনি বলেন, “স্কুলে বন্ধুদের সঙ্গে এই সময়টা বিশেষভাবে উপভোগ করতাম। শপিং করতে গিয়ে তাদের সঙ্গে দেখা হওয়া, কে কী নিচ্ছে, তা নিয়ে মজা করা, ঈদের দিন একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া কিংবা সমুদ্রসৈকতে খেলাধুলা করা আমার স্মৃতিতে আজও উজ্জ্বল। যত বড় হয়েছি, ততই উপলব্ধি করেছি তারা কীভাবে রমজানকে সবার জন্য আনন্দের সময়ে পরিণত করতেন। এই ভালোবাসা ভাগ করে নেওয়ার সংস্কৃতি আজও আমার কাছে অত্যন্ত মূল্যবান।”