গত কয়েক বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়ক জায়েদ খান। এরই মধ্যে কয়েকটি ঈদ সেখানে পালন করেছেন। ঈদুল ফিতরও সেখানেই কাটছে তার। ঈদ উৎসব আনন্দের হলেও জায়েদ খানের জীবনে এটি এখন অনুপস্থিত। ঈদ স্মৃতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এমনটাই জানান এই নায়ক।
জায়েদ খান বলেন, “ছোটবেলায় ঈদে খুশিতে ঘুরে বেড়াতাম, বিকেলে সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখতাম, আরো কত কি! এখন আর সেসব চাইলেও সম্ভব হয় না। ছোটবেলার ঈদের মতো আনন্দ কোথাও নেই।”
খানিকটা ব্যাখ্যা করে জায়েদ খান বলেন, “পিরোজপুরে আমাদের পাড়ায় আমরা বন্ধুরা মিলে স্টল দিতাম। চিপস, কোমল পানীয়সহ নানা কিছু বিক্রি করতাম। রাস্তায় যারা যেতেন, তাদের কাছে বিক্রি করে টাকা জমাতাম। সেই টাকা দিয়ে বিকেলে সবাই মিলে সিনেমা দেখতে যেতাম।”
বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করছেন জায়েদ খান
বাবা-মাকে ছাড়া জীবন নিরানন্দময় বলে মন্তব্য করেন জায়েদ খান। তিনি বলেন, “তিন ভাই-বোনের মধ্যে আমি সবার ছোট। তাই তারা আমার জন্য সালামি আলাদা করে রাখতেন। আমাকে নিয়ে বাড়ির সবাই মেতে থাকতেন। এখন বাবা-মা নেই, তাই কোনো ঈদ আর ঈদ মনে হয় না। ঈদ এখন নিরানন্দ লাগে। বাবা-মা ছাড়া বেঁচে থাকা যেন শুধু বেঁচে থাকার জন্যই।”
দূরপ্রবাসে পরিবারকে খুব মিস করেন জায়েদ খান। তবু পরিস্থিতি মানিয়ে নিয়ে জীবনযাপন করছেন। তার ভাষায়—“গত দুই বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে আছি। এখানে বন্ধু-পরিচিতদের সঙ্গে ঈদ করি। কিন্তু বাংলাদেশকে খুব মিস করি। আমার পরিবার, বাবা-মায়ের কবর, সহকর্মীদের ভীষণ মনে পড়ে। এখানে যেন শুধু বেঁচে থাকার জন্য থাকা। জীবন যেখানে যেমন, সেটাকে মেনে নিয়েই চলতে হয়। আল্লাহ ভালো রেখেছেন।”
মা-বাবার সঙ্গে জায়েদ খান
বলে রাখা ভালো, অনেক দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে বসবাস করছেন জায়েদ খান। সেখান থেকে কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত শোয়ে পারফর্ম করছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্র ‘ঠিকানা’–তে সেলিব্রেটিদের নিয়ে টক শো উপস্থাপনা করছেন। পাশাপাশি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রেও অভিনয় করছেন জায়েদ খান।