ইরানের প্রয়াত চলচ্চিত্রকার আব্বাস কিয়ারোস্তামির বাড়িতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। ইরানের তেহরানের চিজার এলাকায় অবস্থিত বরেণ্য এই পরিচালকের বাড়ি। এ হামলায় বাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আব্বাস কিয়ারোস্তামির পুত্র আহমাদ কিয়ারোস্তামি খবরটি নিশ্চিত করে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেন, “গত রাতে চিজার এলাকায় বোমা হামলা হয়েছে, যেখানে আমার মা-বাবার বাড়ি অবস্থিত। গত রাতে আমার মা ফোন করে কাঁপা কণ্ঠে তার নিরাপদে থাকার খবর দেন। কিন্তু আজ সকালে জানতে পারি, আমার বাবার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমা হামলায় আব্বাস কিয়ারোস্তামির বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইসমাইল বাঘাই এক্সে লিখেছেন, কিয়ারোস্তামির বাড়ি কি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কথিত তাৎক্ষণিক হুমকির অংশ ছিল? বাস্তবতা হলো, এই মার্কিন-ইসরায়েলি খামখেয়ালি যুদ্ধ কেবল একটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নয়—এটি একটি গভীর শিকড়গাঁথা সংস্কৃতি, সভ্যতা ও পরিচয়ের বিরুদ্ধেও।
ইরানি সাংবাদিক মনসুর জাহানি ডেডলাইনকে বলেন, “হামলার সময় বাড়িতে কেউ ছিলেন না। ২০১৬ সালে কিয়ারোস্তামির মৃত্যুর পরও বাড়িটি পরিবারের কাছেই রয়েছে। তার সাবেক স্ত্রী কাছাকাছি এলাকায় থাকেন। তার বাড়িটিও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে তিনি আহত হননি।”
বিশ্ব চলচ্চিত্র অঙ্গনে পরিচিত মুখ আব্বাস কিয়ারোস্তামি। বিশ্বের নন্দিত চলিচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে অন্যতম। তার নিজস্ব নির্মাণ কৌশল তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ইরানের অন্যরকম একটি রূপ দর্শকের সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হন তিনি। ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ২০১৬ সালের ৪ জুলাই, প্যারিসে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
আব্বাস কিয়ারোস্তামি নির্মিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হলো—দ্য ট্রাভেলার (মুসাফির, ১৯৭৪), দ্য রিপোর্ট (গুজারিশ, ১৯৭৭), হোয়ার ইজ দ্য ফ্রেন্ডস হোম (খানে ইয়ে দৌস্ত খোদজাস্ট, ১৯৮৭), ক্লোজ আপ (নেমা ইয়ে নাজদিক, ১৯৯০), লাইফ অ্যান্ড নাথিং মোর (জিন্দেগি ভা দিগার হিচ, ১৯৯১), থ্রু দ্য অলিভ ট্রিস (জিরে দারাখাতান জেয়তন, ১৯৯৪), টেস্ট অব চেরি (তাম-ই- গিলাস, ১৯৯৭) প্রভৃতি।
**হলিউড রিপোর্টার, ডেডলাইন অবলম্বনে