বিনোদন

শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় রাহুলকে চিরবিদায়

ভক্ত-অনুরাগী, সাধারণ মানুষ, শোবিজ অঙ্গনের তারকাদের শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় চিরবিদায় জানানো হলো ভারতীয় বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় তারকা অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সোমবার (৩০ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৫টার কিছু পরে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

গতকাল সারারাত রাহুলের মরদেহ মর্গেই রাখা হয়েছিল। সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে তার ময়নাতদন্ত করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, জলে ডুবেই অভিনেতার মৃত্যু হয়েছে। তার ফুসফুসে অস্বাভাবিক পরিমাণে বালি এবং নোনা জল পাওয়া গেছে। এছাড়াও খাদ্যনালি, শ্বাসনালি ও পাকস্থলীতেও বালি ঢুকে গিয়েছিল বলে জানা গেছে। তার ফুসফুস ফুলে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল। চিকিৎসকদের মতে, অল্প সময় নয়, বরং দীর্ঘ সময় জলের নিচে থাকলে এমনটা ঘটে। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, অভিনেতা অন্তত এক ঘণ্টা জলের নিচে ছিলেন। 

ময়নতদন্ত শেষে তমলুক থেকে শববাহী শকটে করে রাহুলের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তার বিজয়গড়ের বাড়িতে। আপাতত এই বাড়িতেই রয়েছেন রাহুলের বৃদ্ধ মা, স্ত্রী প্রিয়ঙ্কা সরকার ও ছেলে সহজ।  

রাহুলের মৃতদেহ বিজয়গড়ে পৌঁছানোর পরেই পাড়ার ছেলেকে শেষবারের মতো দেখতে ভিড় উপচে পড়ে। রাহুলের সহকর্মী, বন্ধুরা তো বটেই, যারা অভিনেতার গুণমুগ্ধ তারাও এসেছিলেন রাহুলকে শেষবারের মতো দেখার জন্য। ভিড় সরিয়ে, কোনোমতে রাহুলের মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে বাড়ির তিনতলায়। তার মায়ের কাছে।  

রাহুল পুত্র সহজের বয়স মাত্র ১১ বছর। তার কথা মাথায় রেখেই পরিবার রাহুলের মৃতদেহ নিয়ে কোনোরকম আড়ম্বর চান না। তাদের ছবি প্রকাশ্যে আসুক, চান না প্রিয়াঙ্কা ও পরিবারের বাকিরাও। কোথাও শায়িত থাকবে না মৃতদেহ। পরিস্থিতি সামলে ওঠার জন্য কিছুটা ব্যক্তিগত সময় দেওয়া হোক, পরিবারের পক্ষ থেকে গতকালই এই আবেদন জানান প্রিয়াঙ্কা। 

বাড়িতে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী এবং মিঠু চক্রবর্তী। রবিরাতে অভিনেতার বাড়িতে গিয়েছিলেন সব্যসাচী-মিঠুর বড় ছেলে গৌরব চক্রবর্তী এবং ঋদ্ধিমা ঘোষ। বাবা ফাল্গুনী চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে রাহুলকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসেন অভিনেতা। শেষবারের জন্য রাহুলকে দেখতে এসেছিলেন চিত্রনাট্যকার পদ্মনাভ দাশগুপ্ত, ইশা সাহা, সস্ত্রীক শ্রীজাত, বাদশা মৈত্র, দিতিপ্রিয়া রায়, রূপম ইসলাম, ঊষসী চক্রবর্তী, দিগন্ত বাগচী, রণিতা দাস, বিশ্বজিৎ ঘোষ, রুকমা রায়, শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, পরমপত্র চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। ছিলেন মোহাম্মদ সেলিমসহ একাধিক রাজনীতিবিদও।  

পরিবারের দাবি মেনে বাড়ি থেকে, একেবারে আড়ম্বরহীনভাবেই পদযাত্রা করে রাহুলের শববাহী গাড়ি নিয়ে যাওয়া হয় কেওড়াতলা মহাশ্মশানের পথে। এসময় বামপন্থী সমর্থকদের কণ্ঠে  ‘জাগো জাগো সর্বহারা’ গান। পদযাত্রার নেতৃত্বে দীপ্সিতা ধর। গোটা রাস্তায় রাহুলের শববাহী গাড়ির সামনে ছিল সাধারণ মানুষ ও বামকর্মী সমর্থকদের ভিড়। লাল সেলাম দিতে দিতেই চির বিদায় জানানো হয় অভিনেতাকে। বিকেল সাড়ে পাঁচটার কিছু পরে রাহুলের মরদেহ কেওড়াতলা মহাশ্মশানে পৌঁছায়। সেখানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।  

বলে রাখা ভালো, ধারাবাহিক নাটকের আউটডোর শুটিংয়ে দিন-দুয়েকের জন্য তালসারি গিয়েছিলেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে শুটিং চলাকালীন দুর্ঘটনা ঘটে। সমুদ্রের পাড়ে শুটিং করতে গিয়ে হঠাৎ জলে পড়ে যান—রাহুল ও শ্বেতা। নায়িকাকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, খুঁজে পাওয়া যায়নি রাহুলকে। জলে তলিয়ে যান অভিনেতা। বেশ কিছুটা সময় পরে অভিনেতাকে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।