বিনোদন

ঘেন্নায় রাহুলকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বেরোলাম না: মীর

ভারতীয় বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জির মৃত্যু সকলের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। মাত্র তেতাল্লিশ বছর বয়সে তার মৃত্যু কেউই মানতে পারছেন না। 

গতকাল বিকালে চিরবিদায় জানানো হয় রাহুলকে। তার শেষ যাত্রায় হাজির হয়েছিলেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। উপস্থিত ছিলেন রাহুলের সহকর্মীরাও। তবে আলোচিত সঞ্চালক ও অভিনেতা মীর আফছার আলী রাহুলকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হননি। ‘ঘেন্নায়’ শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে হাজির হননি বলে জানিয়েছেন এই তারকা।

মীর আফছার আলী তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তাতে তিনি কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “রাহুল অরুণোদয় ব‍্যানার্জির এভাবে চলে যাওয়া থেকে কয়েকটি ছোট ‘প্রাপ্তি’। এক. গুণী ব‍্যক্তির মরদেহ ঘিরে রাজনৈতিক মাথা এবং তাদেরই পায়ে বিক্রি হয়ে যাওয়া কিছু মানুষের হ্যাংলামির সেই চেনা ছবি।”

শেষ শ্রদ্ধা জানাতে না যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মীর আফছার আলী বলেন, “দুই. শিল্পীর বাড়ির সামনে মাঝারি মাপের সার্কাস, যেটা দেখার পরই ঘেন্নায় আর বেরোলাম না ‘শেষ শ্রদ্ধা’ জানাতে। কারণ ‘অশেষ শ্রদ্ধা’ জানিয়ে ফেলতে মরিয়া আজব কিছু জনগণ। তিন. কিছু ‘ঝাপসা’ কলাকুশলীর ‘এক্সপার্ট কমেন্ট’ রাহুলের অভিনয় দক্ষতা নিয়ে।”

মীর আফছার আলী স্ট্যাটাসের শেষাংশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন—“আর কিছু কি মিস করে গেলাম?” 

মীর আফছার আলীর এই বক্তব্য ঘিরে তার পোস্টে অনেকে দ্বি-মত পোষণ করেছেন। পাপ্পু লেখেন, “রাহুল ব্যানার্জি যেমন একদিকে শিল্পী ছিলেন তেমনই অন্যদিকে গর্বের সাথে একটা রাজনৈতিক মতাদর্শ বহন করতেন। পৃথিবীর কোনো লোভ তাকে ওই বামপন্থী মতাদর্শ থেকে আলাদা করতে পারেনি।”

খানিকটা ব্যাখ্যা করে পাপ্পু লেখেন, “তার শেষ যাত্রায় যেমন শিল্পীরা তাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বিদায় দিলেন, তেমনই আমাদের কমরেডরা আমাদের মতো করে তার শেষ যাত্রায় অংশ নিয়ে তাকে শ্রদ্ধা জানালেন। তাছাড়া একজন প্রকৃত কমরেডের শেষ যাত্রায় এমন শ্রদ্ধার সাথে বিদায় অনেক কমরেডের স্বপ্ন। সেটা দক্ষিণপন্থী মানুষরা বুঝবে না। ধন্যবাদ।”

গতকাল রাহুলের পরিবারের দাবি মেনে, বাড়ি থেকে একেবারে আড়ম্বরহীনভাবেই পদযাত্রা করে তার শববাহী গাড়ি নিয়ে যাওয়া হয় কেওড়াতলা মহাশ্মশানের পথে। এসময় বামপন্থী সমর্থকদের কণ্ঠে  ‘জাগো জাগো সর্বহারা’ গান। পদযাত্রার নেতৃত্বে ছিলেন দীপ্সিতা ধর। গোটা রাস্তায় রাহুলের শববাহী গাড়ির সামনে ছিল সাধারণ মানুষ ও বামকর্মী সমর্থকদের ভিড়। লাল সেলাম দিতে দিতেই চির বিদায় জানানো হয় অভিনেতাকে। বিকেল সাড়ে পাঁচটার কিছু পরে রাহুলের মরদেহ কেওড়াতলা মহাশ্মশানে পৌঁছায়। সেখানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।