অভিনেত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় মালায়ালাম সিনেমার পরিচালক ও প্রযোজক রঞ্জিত বালাকৃষ্ণাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার (১ এপ্রিল) কোচির একটি আদালত তাকে ১৪ দিনের বিচারিক হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে কোচির এরনাকুলাম সাব জেলে রয়েছেন এই নির্মাতা।
ইন্ডিয়া টুডে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত ৩০ জানুয়ারি শুটিং সেটে ক্যারাভানের ভেতরে তরুণ একজন অভিনেত্রীর সঙ্গে যৌন হয়রানিমূলক আচরণ (আপত্তিকর) করেন রঞ্জিত। কোচি সিটি পুলিশ কমিশনার কালিরাজ মহেশ কুমারের কাছে তরুণী অভিনেত্রী অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ভুক্তভোগীর গোপন জবানবন্দি নেওয়ার পর পরিচালককে গ্রেপ্তার করে। বুধবার (১ এপ্রিল) আদালতের নির্দেশে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে রঞ্জিতকে।
ম্যাজিস্ট্রেটের বাসভবনে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পরিচালক তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেন। পাশাপাশি ইঙ্গিত দেন যে, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। তার আইনজীবীও একই দাবি সমর্থন করে জানান, তারা জুডিশিয়াল ফার্স্ট ক্লাস ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট-১-এ জামিনের আবেদন করবেন। পরিচালক রঞ্জিতের আইনজীবী তার শারীরিক অবস্থার বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি জানান, রঞ্জিতের লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট ও মেরুদণ্ডের অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।
আরো পড়ুন: রঞ্জিত আমার ঘাড় ও চুল স্পর্শ করেন: শ্রীলেখা
এরনাকুলাম উইমেন পুলিশ স্টেশনে রঞ্জিতের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন অভিনেত্রী। জামিন অযোগ্য মামলার ধারাগুলো হলো—নারীর শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে আক্রমণ বা বলপ্রয়োগ (বিএনএস৭৪), যৌন হয়রানি (বিএনএস৭৫) এবং নারীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্য (বিএনএস৭৯)। কোচি সিটি পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে বিশেষ একটি দল এ মামলার তদন্ত করছে। গতকাল থোডুপুরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় রঞ্জিতকে।
বলে রাখা ভালো, ২০২৪ সালে ভারতীয় বাংলা সিনেমার আলোচিত অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র এই পরিচালকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছিলেন। এ নিয়ে দারুণ সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন রঞ্জিন। তোপের মুখে কেরালা চলচ্চিত্র একাডেমির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ান রঞ্জিত। শ্রীলেখার অভিযোগ অস্বীকার করে রঞ্জিত বলেছিলেন, “একটি গোষ্ঠী প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে এসব অভিযোগ করেছে।”