অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ভারতীয় সংগীতশিল্পী জুবিন গার্গের স্ত্রী গরিমা সাইকিয়া। গত ৩ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে হঠাৎ অসুস্থ বোধ করায় গুয়াহাটির দিশপুর হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসের সমস্যায় ভুগছেন গরিমা। হাসপাতালে ভর্তির সময় তার রক্তে শর্করার মাত্রা ছিল মাত্র ৬০ এমজি।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আচমকা রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়ার কারণে অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন তিনি। অতিরিক্ত শারীরিক-মানসিক চাপ, দীর্ঘ অনিদ্রার কারণে এই বিপত্তি। বর্তমানে গরিমার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জুবিনের আকস্মিক প্রয়াণের পর গরিমা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর রহস্যভেদ, তার অসমাপ্ত কাজগুলো এগিয়ে নিতে গিয়ে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পাননি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আগামী ২-৩ দিন তাকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
একটি চিঠির মাধ্যমে জুবিনের জীবনে আগমন ঘটে গরিমা সাইকিয়ার। আসামের গোলাঘাটের তরুণী গরিমা। মুম্বাইয়ে ফ্যাশন ডিজাইনিং বিষয়ে পড়ার সময় জুবিনের ‘অনামিকা’ ও ‘মায়া’ অ্যালবামের গান শুনে গভীরভাবে প্রভাবিত হন গরিমা। ঘরছাড়া, মন খারাপের মুহূর্তে গায়ককে একটি চিঠি লেখেন এই তরুণী। গরিমার এই চিঠি প্রশংসা ও আবেগে ভরা ছিল। আর সেই অচেনা অনুরাগী গরিমার চিঠি পৌঁছায় জুবিনের কাছে। সাধারণত, অনুরাগীদের চিঠির জবাব দিতেন না জুবিন। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে, গরিমার সেই চিঠির জবাব দেন জুবিন। সেই একমাত্র যোগাযোগ ধীরে ধীরে রূপ নেয় প্রেমে। একটি সাধারণ চিঠি যে দুটি মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে, জুবিন-গরিমার গল্প তার জীবন্ত উদাহরণ।
প্রেম গাঢ় হতেই জুবিন গরিমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু তাদের এই প্রেমের পথ সহজ ছিল না। গরিমার পরিবার, বিশেষ করে তার বাবা, এই সম্পর্ক মেনে নেননি। অন্যদিকে, জুবিনের অস্থির ও খামখেয়ালি স্বভাবও গরিমাকে বিচলিত করত। এই চাপ সহ্য করতে না পেরে একসময় গরিমা সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন। এই সময় জুবিনের জীবনে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার।
প্রকৃত ভালোবাসা কখনো হারিয়ে যায় না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা আবার কাছাকাছি আসেন। ২০০২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি, বলিউডে জুবিনের বড় ব্রেকের আগেই তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর গরিমা শুধুই স্ত্রী নন, হয়ে ওঠেন জুবিনের জীবনের স্থিতিশীল এক আশ্রয়। একদিকে, গরিমা নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন একজন ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে, অন্যদিকে, ছায়াসঙ্গী হন জুবিনের সৃষ্টিশীল পথচলায়। আসামের অন্যতম আদর্শ দম্পতি হয়ে ওঠেন তারা। সবশেষে প্রকৃতি তাদের চিরতরে আলাদা করে দিয়েছে।