বিনোদন

কলকাতার অভিনয়শিল্পীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন কলকাতার অভিনয়শিল্পীরা। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) থেকে সব ধারাবাহিক ও সিনেমার শুটিং বন্ধ থাকবে। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর প্রতিবাদে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার্স আর্টিস্ট ফোরাম। 

গতকাল সন্ধ্যায় টেকনিশিয়ানস স্টুডিওতে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাতে উপস্থিত ছিলেন আর্টিস্ট ফোরাম, ফেডারেশন, টেলিভিশন প্রযোজক, পরিচালক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। পরে ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার্স আর্টিস্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শান্তিলাল স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।  

এ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আগামী ৭ এপ্রিল সকাল ৭টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য শিল্পী-কলাকুশলীরা কর্মবিরতি পালন করতে চলেছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত শুটিংয়ে (ইনডোর ও আউটডোর) শিল্পী-কলাকুশলীদের যথাযথ সুরক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়টি পর্যালোচনার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।” 

আর্টিস্ট ফোরামের চার হাজার সদস্য, ফেডারেশনের সাত হাজার টেকনিশিয়ান সদস্য এবং সকল কলাকুশলী মিলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আর্টিস্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শান্তিলাল। 

এ বিষয়ে ভারতীয় একটি গণমাধ্যম শান্তিলালের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এ আলাপচারিতায় তিনি বলেন, “নিরাপত্তার জন্য এবং আমাদের সকলের জীবন রক্ষার জন্য এই লড়াই শুরু হলো। আমাদের নিরাপত্তাহীনতা রয়েছে। আমরা শুটিংয়ে বেরোচ্ছি। কিন্তু ফিরতে পারব কি না বুঝতে পারি না। রাহুল আমাদের শিখিয়ে দিয়েছে, তাই মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকাল থেকে কর্মবিরতি পালন করব।” 

কর্মবিরতির কারণ ব্যাখ্যা ফেডারেশনের পক্ষ থেকে স্বরূপ বিশ্বাস বলেন, “আমরা চাইনি। কিন্তু দায় নিতে কেউ এগিয়ে আসছে না। শুটিংয়ের প্রয়োজনে শিল্পী ও কলাকুশলীদের অনেক কিছু করতে হয়। কখনো নদী, কখনো সমুদ্র, কখনো বা পাহাড়ে যেতে হয়। কেউ কখনো পিছপা হননি। প্রত্যেকে জীবন সংশয় করে এগিয়ে যান। সকলে নিজের সেরা কাজ করার চেষ্টা করেন। এই ইন্ডাস্ট্রিকে সবাই আমরা বাঁচাতে চাই। লাখ লাখ মানুষ এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেন।” 

গত শনিবার বিকেলে পথে নেমেছিলেন টলিপাড়ার অভিনয়শিল্পীরা। প্রত্যেকের মনে ছিল একটাই প্রশ্ন, কেন এভাবে চলে যেতে হলো রাহুলকে? সে দিন দুপুরেই রিজেন্ট পার্ক থানায় মামলা দায়ের করেছে আর্টিস্ট ফোরাম। এরপর মাঝরাতে কলকাতা থেকে তালসারি থানায় গিয়ে আরেকটি মামলা দায়ের করেন রাহুলের স্ত্রী অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। রবিবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ফের একজোট হয় টলিপাড়া। জরুরি এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, শান্তিলাল মুখার্জি, অঞ্জনা বসু, যীশু সেনগুপ্ত, রূপাঞ্জনা মিত্র, বিদীপ্তা চক্রবর্তী প্রমুখ। 

বলে রাখা ভালো, ধারাবাহিক নাটকের আউটডোর শুটিংয়ে দিন-দুয়েকের জন্য তালসারি গিয়েছিলেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে শুটিং চলাকালীন দুর্ঘটনা ঘটে। সমুদ্রের পাড়ে শুটিং করতে গিয়ে হঠাৎ জলে পড়ে যান—রাহুল ও শ্বেতা মিশ্রা। নায়িকাকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, খুঁজে পাওয়া যায়নি রাহুলকে, জলে তলিয়ে যান অভিনেতা। বেশ কিছুটা সময় পরে অভিনেতাকে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গত ৩০ মার্চ বিকাল সাড়ে ৫টার কিছু পরে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।