বিনোদন

সুচিত্রা সেনের অজানা পাঁচ তথ্য

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী সুচিত্রা সেন। ১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল বাংলাদেশের পাবনা শহরের গোপালপুর হেমসাগর লেনের পৈতৃক বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। দেশ ভাগের এক বছর আগে অর্থাৎ ১৯৪৬ সালে পরিবারের সঙ্গে কলকাতায় পাড়ি জমান।  

করুণাময় দাসগুপ্তের কন্যা সুচিত্রা সেন। তার আরেক নাম রমা দাসগুপ্ত। ১৯৫২ সালে সুচিত্রা সেন নামে কলকাতার বাংলা চলচ্চিত্রে পা রাখেন তিনি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে রূপ ও অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শকদের নজর কাড়েন এবং মুঠো মুঠো ভালোবাসা কুড়ান। জন্মদিনে সুচিত্রার অজানা পাঁচ তথ্য নিয়ে এই প্রতিবেদন— 

এক. উত্তমকুমারের সঙ্গে সুচিত্রা সেনের জুটি বাংলা সিনেমার ইতিহাসে চিরস্মরণীয়। ১৯৫৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ সিনেমায় প্রথমবার এক ফ্রেমে দেখা যায় তাদের। এ জুটি একসঙ্গে প্রায় ৩০টি সিনেমায় অভিনয় করেন। 

দুই. সুচিত্রা সেন একমাত্র ভারতীয় অভিনয়শিল্পী, যে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। পুরস্কারটি পাওয়ার জন্য নিয়ম অনুযায়ী নয়াদিল্লিতে যেতে হতো তাকে। কিন্তু জনসমক্ষে আসতে চাননি এই বরেণ্য অভিনেত্রী। 

তিন. সুচিত্রা সেন অভিনীত ‘আন্ধি’ সিনেমা গুজরাটে মুক্তির পর ২০ সপ্তাহ নিষিদ্ধ ছিল। সুচিত্রা সেন যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন, তা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ছায়া থাকার কারণে বিতর্ক তৈরি হয়। ১৯৭৭ সালে জনতা পার্টি ক্ষমতাসীন হওয়ার পর গুজরাটের সরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত হয় সিনেমাটি। 

চার. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দেবদাস’ অবলম্বনে বলিউডে বেশ কয়েকটি কাজ হয়েছে। এসব সিনেমায় পাবর্তী বা পারু চরিত্রে অনেকে অভিনয় করেছেন। তবে হিন্দি সিনেমায় প্রথম এ চরিত্রে অভিনয় করেন সুচিত্রা সেন। 

পাঁচ. চলচ্চিত্র থেকে সরে দাঁড়ানোর পর স্বেচ্ছায় অন্তরালে চলে যান সুচিত্রা সেন। তারপর থেকে বেশির ভাগ সময় রামকৃষ্ণ মিশনে কাটিয়েছেন তিনি। নির্জন ও নিভৃত জীবনযাপন করায় হলিউড কিংবদন্তি গ্রেটা গার্বোর ব্যক্তিত্বের সঙ্গে অনেকে তার মিল খুঁজেছেন।