বিনোদন

সবচেয়ে বহুমুখী, প্রিয় কণ্ঠস্বরটি পৃথিবী আজ হারিয়েছে, আশা ভোসলেকে নিয়ে বেবি নাজনীন

ভারতীয় উপ-মহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোসলে মারা গেছেন। রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন এই সুরের জাদুকর। তার প্রয়াণে শোকস্তব্ধ সংগীতাঙ্গন ও তার ভক্ত-অনুরাগীরা। নক্ষত্র পতনের দিনে আশা ভোসলের স্মৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাংলাদেশের গায়িকা বেবী নাজনীন। 

দুই যুগের বেশি সময় আগে ‘দুটি মনে এক প্রাণ’ শিরোনামের অ্যালবামে আশা ভোসলের সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছিলেন বেবী নাজনীন। তা নিয়ে ফেসবুকে স্মৃতিচারণ করেছেন এই সংগীতশিল্পী। 

বেবি নাজনীন বলেন, “শোকাভিভূত হৃদয়ে, কৃতজ্ঞতা ও বিদায় জানাচ্ছি অতুলনীয় আশা ভোসলেজিকে। যখন সংগীতার কর্ণধার সেলিম খান সাহেব আমাদের দুজনকে ‘দুটি মনে এক প্রাণ’ অ্যালবামের জন্য একত্র করেছিলেন, ২০০০ সালের শুরুর দিকে, তখন আমি শুধু একজন কিংবদন্তির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম না, আমি যেন সংগীতের সামনেই দাঁড়িয়ে ছিলাম।” 

স্টুডিওতে আশা ভোসলের সঙ্গে কাটানো সময়ের বর্ণনা দিয়ে বেবী নাজনীন বলেন, “স্টুডিওতে তার সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত আজও আমার স্মৃতিতে অম্লান। তার বিনম্রতা ছিল তার প্রতিভার মতোই অসীম। তিনি শুধু গান করতেন না—প্রতিটি সুরে, প্রতিটি কথায়, প্রতিটি নিঃশব্দ মুহূর্তে তিনি যেন প্রাণ ঢেলে দিতেন।” 

চিরসুরের মাঝে বিশ্রাম নেওয়ার প্রার্থনা জানিয়ে বেবি নাজনীন বলেন, “আট দশকজুড়ে সাড়ে বারো হাজারের বেশি গানে তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন, তবু স্টুডিওতে প্রতিটি গান গাইতেন যেন এটিই তার প্রথম এবং শেষ গান। এটাই একজন সত্যিকারের কিংবদন্তির পরিচয়। পৃথিবী আজ তার সবচেয়ে বহুমুখী, সবচেয়ে প্রিয় কণ্ঠস্বরটি হারিয়েছে। কিন্তু তার গানগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অনুরণিত হতে থাকবে—এমন প্রজন্মেও, যারা এখনো জন্ম নেয়নি। চিরসুরের মাঝে বিশ্রাম নিন, আশা দিদি।” 

বলে রাখা ভালো, রবিবার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আশা ভোসলে। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। গতকাল শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন শিল্পী।