ভারতীয় বাংলা সিনেমার আলোচিত অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখার্জি। তার একমাত্র কন্যা অন্বেষা এখন আর ছোট নেই। এরই মধ্যে মাস্টার্স ডিগ্রি শেষ করে লন্ডনে চাকরি করছেন। মায়ের সঙ্গে সময় কাটাতে ছুটি নিয়ে কলকাতায় এসেছিলেন। কিন্তু জীবনের তাগিদে ফের দূর দেশে ফিরে গেলেন স্বস্তিকা কন্যা অন্বেষা। মেয়েকে বিদায় দিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন এই অভিনেত্রী।
বিমানবন্দরে তোলা একটি ছবি স্বস্তিকা নিজের ফেসবুকে পোস্ট করে দীর্ঘ একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। লেখার শুরুতে তিনি বলেন, “মা অপেক্ষা করে। ব্যাগপত্তর সব চেক-ইন করে, ইমিগ্রেশন আর সিকিউরিটি চেকে চলে যাওয়ার আগে ওই যে কয়েক সেকেন্ডের জন্য আবার দেখতে পাব, ছোট্ট একটা হাত নেড়ে টাটা করবে, ইশারায় বলবে মাম্মা ফোন করছি, তার অপেক্ষা। সব সুষ্ঠুভাবে হয়ে গেছে, তা জানার অপেক্ষা। অনেক বড় হয়ে গেছে, সারা দুনিয়া এদিকওদিক ঘুরে বেড়ায়, এক ছোট শহর বদলে অন্য বড় শহরে পাড়ি দিয়েছে একা-ই, তাও বাবা-মায়ের কাছে সন্তান চিরকাল ছোটটাই রয়ে যায়।”
আবার কবে মেয়ে বাড়ি আসবে, সেই অপেক্ষায় নিদারুণ কষ্ট লুকিয়ে আছে। তা উল্লেখ করে স্বস্তিকা মুখার্জি বলেন, “মেয়ে বাড়ি আসবে তার অপেক্ষার চেয়ে, মেয়ে আবার কবে বাড়ি আসবে তার অপেক্ষায় যে নিদারুণ কষ্ট লুকিয়ে আছে, তা যে মা সেই বোঝে। আমার বাড়ি ফিরতে দেরি হলে সব মায়েদের মতন আমার মাও বলত—নিজে মা হও তখন বুঝবে মায়েদের কত জ্বালা, মেয়ে বড় হোক তখন আরও বুঝবে। শুনে পাত্তা না দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছি।”
“এখন প্লেন উড়ে না যাওয়া অব্দি দাঁড়িয়ে থাকি। উঠে গেছিস তো? বসে গেছিস তো? হ্যান্ডব্যাগগুলো সব গুনে রাখ কিন্তু। আবার ফ্লাইট চেঞ্জ আছে, সব মনে করে নামিয়ে নিস। খেয়েনিস, সিনেমা দেখিস, ঘুমিয়ে নিস। ট্রানজিটে নেমে মেসেজ করিস, ল্যান্ড করে মেসেজ করিস, আবার প্লেন ছাড়ার আগে খবর দিস। কলকাতায় বসে এত খবর নিয়ে কি বা করার আছে? তাও বাপ-মা জিজ্ঞেস করে। এই কাজটাই সবচেয়ে বড় কাজ। এই একটা কাজ মন দিয়ে করতে পারলে বাকি কাজে একটু কম মন দিলেও চলে যাবে।” বলেন স্বস্তিকা।
কন্যা ভালো থাকলেই ভালো থাকেন স্বস্তিকা। মায়া ও মমতা নিয়ে স্বস্তিকা মুখার্জি বলেন, “মানি সোনা মা আমার। আবার শিগগির দেখা হবে। তুই না থাকলে সময় কাটতেই চায় না, তুই এলেই হুশ করে পলকের নিমেষেই সব দিন শেষ। সন্তানেরা ভালো থাক। দূরে থাক কিন্তু ভালো থাক। তাতেই আমাদের ভালো থাকা। মা-বাবা যতদিন আছে, জিজ্ঞেস করার লোক আছে, তাদের গল্প ফুরোলো নটে গাছটি মুড়োলোর মতন যত্নও মুড়িয়ে যায়।”
১৯৯৮ সালে জনপ্রিয় রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী সাগর সেনের ছেলে প্রমিত সেনকে বিয়ে করেন স্বস্তিকা মুখার্জি। এ দম্পতির কন্যা অন্বেষা। বাবা-মায়ের পছন্দে বিয়েটি করেছিলেন তিনি। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যে সংসার জীবনে ছন্দপতন ঘটে। দুধের শিশু কোলে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে আসেন স্বস্তিকা। তারপর সিঙ্গেল মাদার হিসেবে কন্যা অন্বেষাকে বড় করেন এই নায়িকা; মেয়েই এখন স্বস্তিকার বেস্ট ফ্রেন্ড।