“তৌকীর আমাকে সবচেয়ে বেশি কাঁদিয়েছে”—বলে মন্তব্য করেছেন তার শ্বশুর বরেণ্য অভিনেতা আবুল হায়াত। রবিবার (১৯ এপ্রিল) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় তৌকীর আহমেদের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘ছয় দশক পেরিয়ে তৌকীর আহমেদ’ অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন আবুল হায়াত। তিনি বলেন, “তৌকীর আমাকে সবচেয়ে বেশি কাঁদিয়েছে। যেদিন ও বিপাশাকে বিয়ে করে নিয়ে গেল, সেদিন আমি জীবনে সবচেয়ে বেশি কেঁদেছিলাম। আমার দুই মেয়ে, দুই মেয়ের বিয়েতেই কেঁদেছি। সেই হিসেবে তৌকীর হলো আমার জীবনের ‘প্রথম ভিলেন’।”
তবে এই কান্নার পেছনে যে পরম সুখ ও তৃপ্তি ছিল, তা-ও স্পষ্ট করেন আবুল হায়াত। তৌকীরের গোছানো জীবন ও হিসেবি স্বভাবের প্রশংসা করে নিজেকে একজন সুখী বাবা দাবি করেন এই বরেণ্য অভিনেতা।
একজন আদর্শ সৃজনশীল মানুষের সংজ্ঞা কী? এই প্রশ্নের জবাবে বরেণ্য অভিনেতা আবুল হায়াত নিজের মতামত ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন—“প্রথাগত জ্ঞানের বাইরে যার জগৎজুড়ে বইয়ের বিস্তার, সেই প্রকৃত গুণী। আর এই গুণেই নিজের শ্বশুর ও মেন্টর আবুল হায়াতের মন জয় করে নিয়েছেন অভিনেতা ও নির্মাতা তৌকীর আহমেদ।”
তৌকীর আহমেদের সৃজনশীলতার প্রশংসা করতে গিয়ে আবুল হায়াত বলেন, “তৌকীরের সবচেয়ে বড় গুণ হলো সে প্রচুর বই পড়ে। আমি যদি তার সাথে এক ঘণ্টা কথা বলি, আমার মনে হয় আমি ওর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখলাম।”
মজার ছলে আবুল হায়াত উল্লেখ করেন, মেয়ে বিপাশা হায়াতেরও একই ‘রোগ’ আছে। দশম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই বিপাশা কোরআন, বেদ ও বাইবেলের মতো ধর্মগ্রন্থগুলো পড়ে শেষ করেছিলেন। বইপ্রেমী এই দুই মানুষের একত্রিত হওয়াটাকেই জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন তিনি।
তৌকীর নিজের মা-ভাই-বোনদের পাশাপাশি শ্বশুর-শাশুড়িকেও নিজের বাবা-মায়ের মতো শ্রদ্ধা করেন। এমনকি দুই সন্তানের লালন-পালনের ক্ষেত্রে তৌকীরের মমতাকে ‘মায়ের মতো’ বলে অভিহিত করেন আবুল হায়াত।
বর্তমানে তৌকীর আহমেদ প্রবাসে থাকলেও তার কাজের ধারা অব্যাহত থাকুক, এটাই চাওয়া আবুল হায়াতের। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে জামাতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “তৌকীর তুমি আমেরিকায় থাকো কি বাংলাদেশে থাকো এমনি থাকো আর কাজ করে যাও।”