ঢাকাই চলচ্চিত্রের সোনালি দিনের দুই ধ্রুবতারা নায়ক ফারুক ও আলমগীর। পর্দায় তারা কখনো প্রতিদ্বন্দ্বী, কখনো সহযোদ্ধা। কিন্তু পর্দার আড়ালে তাদের সম্পর্ক ছিল রক্তের বন্ধনের চেয়েও বেশি কিছু। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে নায়ক আলমগীর শুনিয়েছেন তাদের সেই দীর্ঘ পথচলার কিছু অজানা ও মজার গল্প।
চিত্রনায়ক আলমগীর জানান, চলচ্চিত্রে আসার আগে থেকেই তাদের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক ছিল, নিয়মিত আড্ডা হতো। আলমগীরদের তেজগাঁও এবং দিলু রোডের বাড়িতে ফারুকের ছিল অবাধ যাতায়াত। অনেক সময় আড্ডা শেষে রাত হয়ে গেলে ফারুক আলমগীরের বাসাতেই ঘুমিয়ে পড়তেন।
স্মৃতি হাতড়ে আলমগীর বলেন, “সকালবেলা আমার মা যখন রুমে আসতেন, দেখতেন আমরা দুজন পাশাপাশি ঘুমিয়ে আছি। মা প্রায়ই ভুল করে ফারুককে ‘আলমগীর’ বলে ডাকতেন। আমি যখন বলতাম, ‘আম্মা ও তো ফারুক’, তখন মা বলতেন—‘তোদের দুজনকে তো একইরকম লাগে, অসুবিধা কী? ফারুক আমার বড় ছেলে, তুই ছোট ভাই। তোরা দুই ভাই।” মায়ের সেই কথা তারা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত পালন করে গেছেন।
তাদের এই গভীর সম্পর্কের কারণেই সেটে চলত খুনসুটি। আলমগীর স্মরণ করেন ‘ছক্কা পাঞ্জা’ সিনেমার শুটিংয়ের সেই মজার ঘটনা। সিলেটে ঘোড়দৌড়ের দৃশ্য ধারণের সময় ফারুক ছিলেন বেশ আত্মবিশ্বাসী, কারণ তিনি ঢাকাতেই ঘোড়া চালানো শিখেছিলেন। অন্যদিকে আলমগীর ছিলেন এ বিষয়ে একদমই আনাড়ি।
আলমগীর বলেন, “আমি ঘোড়ার মালিককে চুপিচুপি জিজ্ঞেস করলাম কোন ঘোড়াটা শান্ত? সে জানাল, লাল ঘোড়াটি শান্ত। আমি সেটিই নিলাম আর সাদা চঞ্চল ঘোড়াটি দিলাম ফারুক ভাইকে। ফারুক ভাই ট্রেনিং নেওয়া সত্ত্বেও তার ঘোড়াটি তাকে ফেলে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছিল। কিন্তু ফারুক ভাই ছিলেন প্রচণ্ড জেদি আর শক্তিশালী। তিনি ঘোড়াকে সাফ জানিয়ে দিলেন—‘আমাকে তুই ফেলতে পারবি না’। শেষ পর্যন্ত ঘোড়া হার মেনেছিল ফারুক ভাইয়ের শক্তির কাছে।”
ফারুক কিছুটা রাগী স্বভাবের হলেও ছোট ভাই আলমগীরের কাছে ছিলেন বটবৃক্ষের মতো। ঢাকাই সিনেমার এই দুই তারকা পেশাদারিত্বের ঊর্ধ্বে গিয়ে যেভাবে ভ্রাতৃত্বের নজির স্থাপন করেছেন, তা বর্তমান প্রজন্মের অভিনয়শিল্পীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। ফারুকের প্রয়াণের আগ পর্যন্ত তাদের ‘বড় ভাই-ছোট ভাই’ সম্পর্ক অটুট ও অমলিন ছিল।