বাংলা চলচ্চিত্রকে নতুন দিগন্ত দেখিয়েছিলেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়। বহুগুণে গুণান্বিত এই শিল্পী পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন, তা-ও তিন দশকের বেশি সময় আগে। তার সিনেমাগুলো আরো আগে নির্মিত। কিন্তু এখনো ভীষণ সজীব, প্রাসঙ্গিক, হৃদয়কে আলোড়িত করে। ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’-এর মতো সিনেমা সময় থেকে আলাদা করা ভীষণ মুশকিল। কখনো অপ্রাসঙ্গিক বলা দুঃস্বপ্ন বটে! বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) তার প্রয়াণ দিবস। বিশেষ দিনে সত্যজিতের জানা-অজানা পাঁচ তথ্য নিয়ে এই প্রতিবেদন—
এক. ভারতীয় সিনেমায় টিজারের প্রচলন করেছিলেন সত্যজিৎ রায়। তার প্রথম সিনেমা ‘পথের পাঁচালী’ মুক্তির আগে একটি টিজারের মাধ্যমে প্রচার চালানো হয়। সেটাকেই ভারতীয় সিনেমায় প্রথম টিজার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
দুই. পোশাক নির্বাচনে দারুণ রুচিশীল ছিলেন সত্যজিৎ। বিশেষ করে নায়িকাদের পোশাক নির্বাচনে সব সময়ই দারুণ পারদর্শিতা আর সূক্ষ্ম রুচিবোধের পরিচয় দিয়েছেন বহুগুণে গুণান্বিত এই শিল্পী। ‘সমাপ্তি’ সিনেমায় অপর্ণা সেনকে মনে আছে তো? ব্লাউজ ছাড়া শাড়ি, নাকে ফুল আর জবজবে তেল দিয়ে টেনে চুল আঁচড়ানো—কী দারুণ মিষ্টি আর মানানসই দস্যি মৃণ্ময়ী! আর ঠিক উল্টো চরিত্র ‘কাপুরুষ’ সিনেমার নায়িকা করুণা। শহুরে, আধুনিক তরুণী সে। তার পোশাক হিসেবে সত্যজিৎ বেছে নিলেন স্নিগ্ধ সিল্কের শাড়ি আর পাথরের গহনা। এমন পরিশীলিত পোশাক তখনকার দিনে ছিল বিরল! অবশ্য সৌন্দর্যবোধ বিচারে নায়ক-নায়িকাতে তফাত করেননি সত্যজিৎ।
তিন. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস ‘ঘরে বাইরে’ অবলম্বনে সিনেমা বানানোর জন্য চিত্রনাট্যও প্রস্তুত করেছিলেন সত্যজিৎ। এটি ১৯৪৮ সালের কথা। হরিসাধন দাশের সঙ্গে যৌথভাবে সিনেমাটি করার কথা ছিল। কিন্তু প্রযোজক চিত্রনাট্যের এক জায়গায় পরিবর্তন করতে বলেন। তাতে রাজি হননি সত্যজিৎ। ফলে সিনেমাটিই আর নির্মিত হয়নি।
চার. অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিনোদন জগতের মানুষ হিসেবে প্রথম ডক্টরেট পেয়েছিলেন চার্লি চ্যাপলিন। আর দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে এই অনন্য প্রাপ্তির নজির গড়েন সত্যজিৎ রায়। ১৯৭৮ সালে তাকে ডক্টরেট প্রদান করা হয়েছিল।
পাঁচ. ১৯৯২ সালের ২৭ জানুয়ারি অসুস্থ সত্যজিৎ রায়কে নার্সিং হোমে ভর্তি করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্কার পুরস্কার নিয়ে বেশ কয়েকজন এলেন। অস্কার তুলে দেয়া হবে সত্যজিৎ রায়ের হাতে। কিন্তু কীভাবে তা করা হবে তাই নিয়ে সবাই ভাবছিলেন। এটি জানাজানি হলে সত্যজিৎ রায়ের কানে খবরটি পৌঁছায়। তখন তিনি বললেন, “নার্সিং হোমের যদি আপত্তি না থাকে তবে আমিই এই ঘরে এটি রিসিভ করব। কোনোদিন পাবো বলে ভাবিনি। সেটা পাবো আর নিজে তা নেব না তা হয় না!” ১৮ মার্চ অস্কার তুলে দেয়া হয় সত্যজিৎ রায়ের হাতে। তার আট দিন পরে ২০ মার্চ তাকে ভূষিত করা হয় ভারতের সর্বোচ্চ সম্মাননা ভারতরত্ন পদকে।