ঢালিউডের সোনালি যুগের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ৭৮ বছর পূর্ণ করে ৭৯ বছর বয়সে পা দিতে যাচ্ছেন তিনি। এক সময়ের পর্দা কাঁপানো এই নায়ক অভিনয়ে নিয়মিত না থাকলেও দর্শকের স্মৃতিতে তার উপস্থিতি এখনো সমান উজ্জ্বল।
বিশেষ এই দিনে ‘তারকা কথন’ অনুষ্ঠানে অংশ নেন উজ্জ্বল। অনুষ্ঠানের মাঝেই ফোন করে তাকে চমকে দেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আলমগীর। দু’জনের কথোপকথনে উঠে আসে পুরোনো দিনের স্মৃতি, সঙ্গে ছিল বয়স নিয়ে হালকা খুনসুটি—যা দর্শকদের জন্য হয়ে ওঠে আনন্দের মুহূর্ত।
আলমগীর সম্পর্কে উজ্জ্বল বলেন, “তিনি একজন অসাধারণ অভিনেতা। অনস্ক্রিনে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ না হলেও অফস্ক্রিনে আমাদের সম্পর্কটা বেশ ঘনিষ্ঠ।” ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন এই নায়ক।
সত্তরের দশকে যখন বাংলা চলচ্চিত্রে একের পর এক শক্তিশালী নায়কদের উত্থান, সেই সময়েই নিজের স্বতন্ত্র অভিনয়গুণে আলাদা জায়গা করে নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র উজ্জ্বল। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন দর্শকপ্রিয়, আর পরবর্তীতে পান ‘মেগাস্টার’ খ্যাতি।
তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ‘বিনিময়’ মুক্তি পায় ১৯৭০ সালে, যেখানে তার সহশিল্পী ছিলেন কবরী। অন্ধ চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড়পর্দায় অভিষেকেই তিনি নজর কাড়েন। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি তাকে। নায়ক, প্রযোজক ও পরিচালক—তিন ভূমিকাতেই সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি।
তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে রয়েছে অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্র। এ তালিকায় রয়েছে—‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’, ‘নসিব’, ‘লালন ফকির’, ‘কাঁচের স্বর্গ’, ‘সমাধান’, ‘স্বীকৃতি’, ‘দুটি মন দুটি আশা’, ‘পায়ে চলার পথ’, ‘জনতা এক্সপ্রেস’, ‘বীরাঙ্গনা সখিনা’ প্রভৃতি। এক শ’র বেশি সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠেছেন বাংলা চলচ্চিত্রের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
নায়ক হিসেবে তিনি জুটি বেঁধেছেন শাবানা, ববিতা, রোজিনা, সুচরিতাসহ বহু জনপ্রিয় নায়িকার সঙ্গে।
১৯৪৮ সালের ২৮ এপ্রিল সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে জন্মগ্রহণ করেন উজ্জ্বল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে পড়াকালেই সাংস্কৃতিক অঙ্গনে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে পা রাখেন চলচ্চিত্র জগতে।
পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে তিনি শুধু অভিনয়েই নয়, প্রযোজনাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন মেরিনা আশরাফের স্বামী। ২০২১ সালের অক্টোবরে স্ত্রীকে হারান তিনি। তাদের দুই সন্তান—মেহবুব আশরাফ ও তানজিনা ফেরদৌস জেবিন।
জন্মদিনে এই গুণী অভিনেতার জন্য রইল শুভেচ্ছা—তার কাজ, তার সময়, আর তার অবদান বাংলা চলচ্চিত্রে সবসময়ই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।