বিনোদন

বিজয় ‘রাজা’ হবেন, না কি রাজনীতির ‘কিংমেকার’?

চলতি বছরে নাটকীয়ভাবে তামিলনাড়ুর রাজনীতির মাঠে নামেন ভারতের দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা বিজয় জোসেফ চন্দ্রশেখর। ভক্তদের কাছে তিনি ‘থালাপাতি বিজয়’ নামে অধিক পরিচিত। এক্সিট পোলের পূর্বাভাস বলছে—তার এই আগমন তামিলনাড়ু রাজ্যের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। বহু দশক ধরে এই রাজ্যে আধিপত্য করে আসছে, দ্রাবিদা মুন্নিত্রা কোঝাগম (ডিএমকে), অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিদা মুন্নিত্রা কোঝাগম (এআইএডিএমকে) এর মতো রাজনৈতিক দল। সেখানে তৃতীয় শক্তি হিসেবে উঠে আসছে বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কোঝাগম (টিভিকে)। 

অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার এক্সিট পোল অনুযায়ী, বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। বিজয়ের টিভিকে ৯৮-১২০টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে, যার ভোট শেয়ার প্রায় ৩৫ শতাংশ। এই ফলাফল ডিএমকে জোটের সমপর্যায়ের হলেও আসনের হিসাবে কিছুটা এগিয়ে থাকতে পারে টিভিকে। শেষ পর্যন্ত যদি এই পূর্বাভাস চূড়ান্ত ফলাফলে প্রতিফলিত হয়, তাহলে এটি হবে বিজয়ের দলের জন্য অভূতপূর্ব এক সাফল্য। আগে ধারণা করা হয়েছিল, প্রায় ২৫ শতাংশ ভোট ও ৪৫টি আসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে দলটি।

জনসভায় থালাপাতি বিজয় 

পোলস্টার প্রদীপ গুপ্তা বিজয়ের এই উত্থানকে তুলনা করেছেন কিংবদন্তি নেতা ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এম. জি. রামাচন্দ্রন, অন্ধ্রপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এন. টি. আর রামা রাওয়ের সঙ্গে। তারা দুজনেই চলচ্চিত্রাঙ্গন থেকে রাজনীতির মাঠে নেমে অসামান্য সাফল্য পেয়েছিলেন। ২০১৯ সালে ওয়াই. এস. জগন মোহন যে কৌশলে নির্বাচনি প্রচার করেছিলেন, বিজয়ের প্রচারের কৌশলও তার সঙ্গে মিল রয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। পাশাপাশি, অন্ধ্রপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী কে. পবন কল্যাণের সঙ্গেও বিজয়ের তুলনা করা হচ্ছে। পবন কল্যাণ একাধিকবার চেষ্টা করার পর সফলতা পেয়েছেন। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর জন্য ওয়াই. এস. জগন, পবন কল্যাণ ও বিজয় যে কৌশল অবলম্বন করেছেন, তাতে মিল পাওয়া যাচ্ছে। 

বিজয়ের জনসভায় ভক্ত-কর্মীদের উচ্ছ্বাস 

বিজয়ের রাজনৈতিক দল টিভিকের উত্থান তামিলনাড়ুর প্রচলিত রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও এম. কে. স্টালিনের নেতৃত্বে ডিএমকে তাদের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। বিভিন্ন সমীক্ষা অনুযায়ী, তারা ১২০-১৪৫টি আসন পেয়ে টানা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসতে পারে। তবে এআইএডিএমকে সময়ের সঙ্গে চাপে পড়ছে। অন্যদিকে, বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে টিভিকের শক্ত অবস্থান প্রমাণ করছে যে, তারা কোনোভাবেই উপেক্ষা করার মতো শক্তি নয়। 

জনসভায় বিজয়ের নায়কোচিত এন্ট্রি

যদি এই পূর্বাভাস সত্যি হয়, তবে বিজয় হয়তো ‘কিংমেকার’ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। অথবা সরাসরি ইতিহাস গড়ে নিজেই হয়ে উঠতে পারেন নতুন যুগের জনপ্রিয় নেতা; যেমনটা করেছিলন—এম. জি. রামাচন্দ্রন, এন. টি. রামা রাও, জে. জয়ললিতা। আর যদি তা-ও না হয়, অন্ততপক্ষে কে. পবন কল্যাণের মতো প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে। তা-ও না হলে, টিভিকের উত্থান তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা যে করেছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। 

*ডেকান ক্রনিকল অবলম্বনে