বিনোদন

শ্রমজীবী মানুষের গল্প বলা পাঁচ বলিউড সিনেমা

প্রতি বছরের ১ মে বিশ্বজুড়ে পালিত হয়ে থাকে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। শ্রমজীবী মানুষের পরিশ্রম, অধিকার, অবদানের প্রতি সম্মান জানাতে দিনটি উৎসর্গ করা হয়েছে। শ্রমিকদের সামাজিক-অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো রাজনৈতিক-সামাজিক পরিসরে আলোচিত হওয়ার পাশাপাশি বলিউড সিনেমায়ও সহমর্মিতার সঙ্গে উপস্থাপিত হয়েছে। বলিউডের বেশ কিছু সিনেমায় শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট, দৃঢ়তা, মর্যাদার চিত্র উঠে এসেছে। এমন আইকনিক পাঁচটি সিনেমা নিয়ে এই প্রতিবেদন—

নয়া দৌড় দিলীপ কুমার ও বৈজয়ন্তীমালা অভিনীত সিনেমা ‘নয়া দৌড়’। ঘোড়ার গাড়ির চালকের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে এটি। সিনেমাটির গল্পে ঘোড়ার গাড়ির চালক যান্ত্রিকীকরণের মুখে টিকে থাকার সংগ্রাম করে। বি. আর. চোপড়া পরিচালিত ‘নয়া দৌড়’ সিনেমা শ্রমজীবী মানুষের জীবিকার লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে ওঠে। এ সিনেমার ‘সাথী হাত বাড়ানা’ গানটি আজও শ্রমিক ঐক্যের অমর এক সংগীত। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন—মোহাম্মদ রফি ও আশা ভোসলে। ‘নয়া দৌড়’ সিনেমা ১৯৫৭ সালের ১৫ আগস্ট মুক্তি পায়। ০.১৪ কোটি রুপি বাজেটের সিনেমাটি আয় করেছিল ৩.৭৫ কোটি রুপি। 

পয়গাম শ্রমিক ও শিল্পপতিদের মধ্যে তৈরি দ্বন্দ্ব ‘পয়গাম’ সিনেমার গল্পে তুলে ধরা হয়েছে; যেখানে শ্রেণি বৈষম্য ও সামাজিক সমতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এ সিনেমায় দুই ভাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করেন দিলীপ কুমার ও রাজ কুমার। কিন্তু মতাদর্শের কারণে আলাদা হয়ে যান তারা। এ সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন বৈজয়ন্তীমালা। এস এস ভাসান পরিচালিত এ সিনেমায় সংবেদনশীলতা ও বাস্তবতার সঙ্গে শ্রেণি সংগ্রামের সূক্ষ্ম দিক উপস্থাপন করা হয়েছে। ১৯৫৯ সালের ৩০ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় এটি।

নমক হারাম রাজেশ খান্না ও অমিতাভ বচ্চনকে নিয়ে ঋষিকেশ মুখার্জি নির্মাণ করেন ‘নমক হারাম’ সিনেমা। মুম্বাইয়ের কলকারখানার শ্রমিকদের দুর্দশার চিত্র সিনেমাটির গল্পে তুলে ধরা হয়েছে। শ্রমিক ইউনিয়ন আন্দোলন, মূল্যস্ফীতি এবং বেকারত্বের মতো বিষয়গুলো সংবেদনশীলভাবে চলচ্চিত্রটির গল্পে উপস্থাপন করা হয়; যা শ্রমজীবী মানুষের কণ্ঠস্বরকে তুলে ধরে। ১৯৭৩ সালের ২৩ নভেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় এটি। 

দিওয়ার “আমি ছুঁড়ে দেওয়া পয়সা কুড়াই নাই”—অমিতাভ বচ্চনের বিখ্যাত এই সংলাপ আজও একজন শ্রমিকের আত্মমর্যাদার প্রতীক। যশ চোপড়া নির্মিত ‘দিওয়ার’ সিনেমার সংলাপ এটি। ক্ল্যাসিক চলচ্চিত্রটি দারিদ্র্য ও অবিচারের বিরুদ্ধে শ্রমজীবী মানুষের অন্তর্নিহিত বিদ্রোহকে তুলে ধরেছে। সিনেমাটিতে অমিতাভের অভিনয় দারুণ প্রশংসা কুড়িয়েছিল। কেবল তাই নয়, এ সিনেমার জন্যই ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’ তকমাও লাভ করেন অমিতাভ বচ্চন। ১৯৭৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মুক্তি পায় সিনেমাটি। 

কুলি বলিউড শাহেনশাহ অভিনীত আরেকটি আলোচিত সিনেমা ‘কুলি’। অ্যাকশনধর্মী এই চলচ্চিত্রে একটি রেলস্টেশনের কুলির ভূমিকায় অভিনয় করেন অমিতাভ। আবেগ ও বিনোদনের মাধ্যমে শ্রমিকদের শোষণ এবং ন্যায়বিচারের জন্য তাদের সংগ্রামকে তুলে ধরেন তিনি। ১৯৮২ সালে এ সিনেমার শুটিং করেন পরিচালক মনমোহন দেশাই। সিনেমাটির শুটিং করতে গিয়ে গুরুতর আহত হন, পরে কোমায় চলে গিয়েছিলেন অমিতাভ। ১৯৮৩ সালের ২ ডিসেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় সিনেমাটি। আশির দশকের অন্যতম বড় বক্স-অফিস সাফল্য ছিল ‘কুলি’ সিনেমার দখলে। সাড়ে ৩ কোটি রুপি বাজেটের সিনেমাটি আয় করেছিল ২১ কোটি রুপি।