বিনোদন

প্রাসাদসম বাড়িটি কেন বিক্রি করলেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রাসাদসম বাড়িটি বিক্রি করে দিয়েছেন অস্কারজয়ী হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। 

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণমাধ্যম পিপল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অ্যাঞ্জেলিনা জোলির নজরকাড়া বাড়িটি একসময় প্রয়াত চলচ্চিত্র নির্মাতা সিসিল বি. ডেমিলের ছিল। পরবর্তীতে বিলাসবহুল বাড়ির মালিক হন তিনি। সেই বাড়িটি ২৯.৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৬৫ কোটি ৪৯ লাখ ১৪ হাজার ৫৯৫ টাকা) বিক্রি করে দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। 

২.১ একর জমির ওপর নির্মিত হয়েছে অ্যাঞ্জেলিনার প্রাসাদসম বাড়িটি। এতে রয়েছে ছয়টি শয়নকক্ষ, ১০টি বাথরুম। বাড়িটির বাসযোগ্য আয়তন ১১ হাজার বর্গফুট। এখানে রয়েছে বো-আর্টস-স্টাইলের ম্যানসন, আলাদা গেটযুক্ত অতিথিশালা, একটি পুল হাউজ, একটি ফিটনেস স্টুডিও, একটি টি হাউজ, সিকিউরিটি স্টেশন ও আলাদা একটি গ্যারেজ। অ্যাঞ্জেলিনার বাড়ি থেকে হলিউড হিলস ও গ্রিফিথ অবজারভেটরির মনোরম দৃশ্য দেখা যায়। প্রসাদসম বাড়িতে রয়েছে শতবর্ষী গাছ, ঢালু সবুজ লন এবং বাহির থেকে এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ।

 

১৯১৩ সালে বাড়িটির ডিজাইন করেন স্থপতি বি. কুপার করবেট। ১৯১৬ সালে এটি অধিগ্রহণ করেন প্রয়াত চলচ্চিত্র নির্মাতা সিসিল বি. ডেমিল। আশির দশকের শেষ পর্যন্ত ডেমিলের পরিবার বাড়িটি নিজেদের মালিকানায় রাখেন। হলিউড অভিনেতা ব্র্যাড পিটের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর বাড়িটি কিনেনে ‘কৌচার’ তারকা অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। ২০১৭ সালে লস ফেলিজের কাছ থেকে ২৪.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিময়ে এটি কিনেছিলেন জোলি।

২০২৪ সালের আগস্টে দ্য হলিউড রিপোর্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, লস অ্যাঞ্জেলেস ছাড়ার কথা ভাবছেন তিনি। এ অভিনেত্রী বলেছিলেন—“বিবাহবিচ্ছেদের কারণে আমি এখানে থাকছি।”

 

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন ব্র্যাড পিট ও অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। ১১ বছর প্রেমের সম্পর্কে থাকার পর বিয়ে করেছিলেন তারা। কিন্তু বিয়ের ২ বছরের মাথায় আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাদের ৬টি সন্তান রয়েছে। তারা হলেন—ম্যাডক্স (২৪), প্যাক্স (২২), জাহারা (২০), শিলোহ (১৯), জমজ সন্তান নক্স ও ভিভিয়েন (১৭)। এর মধ্যে প্রথম তিন (ম্যাডক্স, প্যাক্স, জাহারা) সন্তানকে দত্তক নিয়েছেন ব্র্যাড-জোলি। শিলোহ, নক্স ও ভিভিয়েন এ দম্পতির বায়োলজিক্যাল সন্তান। জমজ সন্তানেরা আগামী ১২ জুলাই, ১৮ বছরে পা দেবে। জোলি বলেছেন—“আমি বিদেশে গিয়ে বসবাসের জন্য প্রস্তুত।”

 

এর আগে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি বলেছিলেন, “আপনার যখন বড় পরিবার থাকে, তখন আপনি চাইবেন—তাদের গোপনীয়তা, শান্তি ও নিরাপত্তা। আমার এখন একটি বাড়ি আছে, যেখানে আমি আমার সন্তানদের বড় করছি। কিন্তু কখনো কখনো এই জায়গাটি এমন…। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে আমি মানবিকতা পেয়েছি, যা আমি এখানে বড় হয়ে ওঠার সময় পাইনি।”

 

বাড়ি বিক্রি করে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি কোথায় যাবেন, তা নিয়ে চর্চা জোরালো হয়েছে। এ নিয়ে নতুন করে কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেননি এই অভিনেত্রী। তবে এর আগে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি বলেছিলেন, “আমি যখন লস অ্যাঞ্জেলেস ছাড়ব, তখন কম্বোডিয়ায় অনেক সময় কাটাব। কারণ ২০০২ সালে সেখান থেকেই আমি বড় ছেলে ম্যাডক্সকে দত্তক নিয়েছি। বিশ্বের যেখানেই আমার পরিবারের সদস্যরা থাকবে, আমি সেখানে তাদের দেখতে যাব।”

 

বাড়ি বিক্রির পর অ্যাঞ্জেলি জোলির বক্তব্য পাওয়া না গেলেও একটি সূত্র পিপলকে বলেন, “সে এমন একটি জীবনের জন্য প্রস্তুত, যা লস অ্যাঞ্জেলেসকে কেন্দ্র করে নয়। তার অনেকগুলো প্রকল্প আছে, যেগুলো নিয়ে সে উচ্ছ্বসিত। স্বাধীনতা পাওয়ার জন্য ২০২৬ সালের অপেক্ষায় ছিল সে।”

*পিপল অবলম্বনে