বিনোদন

আমার কাছে প্রতিটি গান একটি চিত্রকর্ম: শ্রেয়া ঘোষাল

বলিউডের জনপ্রিয় প্লেব্যাক গায়িকা শ্রেয়া ঘোষাল। সংগীত ক্যারিয়ারে অসংখ্য গান কণ্ঠে তুলেছেন এই শিল্পী। সুরের জাদুতে মুগ্ধ করেছেন অসংখ্য শ্রোতার হৃদয়। কয়েক দিন আগে ‘অল হার্টস ট্যুর’-এর অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। গানে কল্পনা বা ভিজুয়ালাইজেশনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেছেন এই শিল্পী।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শ্রেয়া ঘোষাল বলেন, “আমার কাছে সবকিছুই যেন ফটোগ্রাফিক মেমোরি বা ছবির মতো; যা আমি অনেকবার ব্যবহার করি। আমার কাছে প্রতিটি গান একটি চিত্রকর্ম। প্রতিটি গানের আলাদা একটি রং আছে। আমি কোনো মুখকে একটি নির্দিষ্টভাবে দেখি। এটি একটি ছবি। একটি অন্তরারও আলাদা রং থাকে; সেখানে হলুদ বা নীলের আভাস থাকে।”

খানিকটা ব্যাখ্যা করে শ্রেয়া ঘোষাল বলেন, “সম্প্রতি গুগলে সার্চ করে দেখেছি, সত্যিই এমনটা হয় কি না। আমার ক্ষেত্রে এটা অনেক কাজ করে। আমি অনুভব করি, আপনি যখন পর্দার জন্য গান করেন, তখন সবকিছুই সিনেমার মতো হয়ে যায়। পর্দায় কী ঘটছে, স্টাইলটা কেমন হবে—এসব আমি কল্পনা করি। অনেক গানেই খুব অভিব্যক্তিপূর্ণ শব্দ থাকে। কোথাও প্রশ্ন থাকে, কোথাও উত্তর—বিশেষ করে সেটা যদি ডুয়েট গান হয়। আমি কোরিওগ্রাফিটাও কল্পনা করার চেষ্টা করি।”

গানকে ঐশ্বরিক বলে মনে করেন শ্রেয়া ঘোষাল। তার ভাষায়—“সবকিছুই আমার মনের মধ্যে ঘটে। আমি জানিও না অভিনেতা কে। কিন্তু আমার মনে, সেটা কল্পনা করি। আর সেই অনুভূতিটাই পরে লাইভ গাওয়ার সময়ও প্রকাশ পায়। তাই সেই অভিব্যক্তি আমার মুখে ফুটে ওঠে কিংবা আমার গায়কিতে চলে আসে। সবকিছুই দৃশ্যমান। আর কোনোভাবে সংগীতের আলাদা ধারায় ছড়িয়ে যেতে পারে। আমি মনে করি, সংগীত সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। গান অত্যন্ত ঐশ্বরিক শিল্প ও সৃষ্টিকর্ম, যা ঈশ্বর আমাদের দিয়েছেন।”

গানের সঙ্গে শ্রেয়ার সখ্যতা মাত্র ৪ বছর বয়সে। ১৬ বছর বয়সে জি টিভির ‘সা রে গা মা পা’ গানের প্রতিযোগিতায় শিশুদের বিশেষ পর্বে অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হন। এ শোয়ে দ্বিতীয়বার অংশ নিয়েই ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায় তার। কারণ এ শোয়ের সুবাদে চলচ্চিত্র পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানসালির নজরে পড়েন তিনি। ২০০০ সালে সঞ্জয় লীলা বানসালি শ্রেয়াকে তার নির্মিত ‘দেবদাস’ সিনেমার গান গাওয়ার প্রস্তাব দেন। পার্বতী চরিত্র রূপায়নকারী ঐশ্বরিয়া শ্রেয়ার গানে ঠোঁট মেলান। সিনেমাটির পাঁচটি গান গেয়েছিলেন শ্রেয়া।

‘দেবদাস’ সিনেমা মুক্তির পর শ্রেয়া ঘোষালের গাওয়া ‘বৈরী পিয়া’ আর ‘ডোলা রে’ শিরোনামের গানটি দর্শকদের মুখে মুখে ছিল। ‘দেবদাস’ সিনেমায় শ্রেয়ার গান গাওয়ার সুযোগ পাওয়ার পেছনে আরেকটি গল্প রয়েছে। রিয়েলিটি শো ‘সারে গা মা পা’ নিয়মিত দেখতেন সঞ্জয় লীলা বানসালির মা লীলা বানসালি। মূলত, পুত্র সঞ্জয় লীলাকে সংগীতশিল্পী শ্রেয়া ঘোষালের কথা প্রথম বলেন লীলা বানসালি।

এরপর শ্রেয়া ঘোষালকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। অসংখ্য সিনেমার গান কণ্ঠে তুলেছেন তিনি। শ্রেষ্ঠ প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে সবচেয়ে বেশি পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ভারতের ইতিহাসে মাত্র ২৬ বছর বয়সে চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া একমাত্র গায়িকা শ্রেয়া ঘোষাল।