সব বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে তামিলনাড়ুর মসনদে বসেছেন ভারতের দক্ষিণী সিনেমার তারকা অভিনেতা থালাপাতি বিজয়। গতকাল রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। শপথ নেওয়ার পর বিজয় জনগণের উদ্দেশ্য বক্তব্য রাখেন। তার বক্তব্য নিয়ে জোর চর্চা চলছে সোশ্যাল মিডিয়ায়; বক্তব্যের খণ্ড খণ্ড অংশ এখন অন্তর্জালে ভাইরাল। চলুন জেনে নিই, মুখ্যমন্ত্রী থালাপাতি বিজয়ের পুরো বক্তব্যে—
জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে শপথগ্রহণ করেন থালাপাতি বিজয়। শপথ নেওয়ার পর তিনি বলেন, “এটি একটি নতুন সূচনা। আজ থেকে প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষতা ও সামাজিক ন্যায়ের নতুন এক যুগের শুরু। আমাকে ছাড়া সরকারের ভেতরে আর কোনো ক্ষমতার কেন্দ্র থাকবে না।”
রাজনৈতিক যাত্রায় জনগণকে পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে থালাপাতি বিজয় বলেন, “আপনারাই আমাকে রাজনীতিতে আসতে বলেছিলেন। বলেছিলেন, ‘আমরা আপনার সঙ্গে আছি।’। আর আজ আপনারাই আমাকে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বানিয়েছেন। আমি যেসব কষ্ট ও বাধার মুখোমুখি হয়েছি, আপনারা সেগুলো নিজেদের কষ্ট বলে অনুভব করেছেন। এই পুরো যাত্রায় আপনারা আমার পাশে থেকেছেন। আমি ঈশ্বরের দূত নই। আমি একজন সাধারণ মানুষ। কিন্তু মানুষ যখন একসঙ্গে আমার পাশে দাঁড়ায়, তখন আমি বিশ্বাস করি—যা কিছু সামনে আসুক না কেন, আমরা যেকোনো কিছু অর্জন করতে পারি এবং একসঙ্গে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারি।”
রাজ পরিবার নয়, সাধারণ একটি পরিবার থেকে উঠে আসার কথা স্মরণ করে থালাপাতি বিজয় বলেন, “আমি কোনো রাজপরিবার থেকে আসিনি। আমি আপনাদের মধ্য থেকেই এসেছি, আপনাদের পরিবারের একজন সদস্যের মতো, আপনাদের ভাইয়ের মতো। আপনারা আমাকে ভালোবাসায় গ্রহণ করেছেন, সিনেমাজগতে আমাকে মহান এক অবস্থান দিয়েছেন।”
তামিলনাড়ু সরকারের অর্থনৈতিক অবস্থা বর্ণনা করে থালাপাতি বিজয় বলেন, “কোটি কোটি মানুষ যখন আমার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন, তখন আমি আত্মবিশ্বাস পাই। আমি বিশ্বাস করি, আমরা একসঙ্গে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারব। আজ তামিলনাড়ু সরকারের যে অবস্থা আমরা পেয়েছি, তা আমি নিজে দেখেছি। আগের সরকার ১০ লাখ কোটি রুপিরও বেশি ঋণ রেখে ক্ষমতা ছেড়েছে। তারা বিদায় নেওয়ার আগে রাজকোষ পুরোপুরি খালি করে গেছে। এমন পরিস্থিতিতেই আমরা দায়িত্ব গ্রহণ করছি।”
জনগণের একটি পয়সাও স্পর্শ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে থালাপাতি বিজয় বলেন, “আজ থেকেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করব। মাদক থেকে তরুণদের রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। একইভাবে, আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করব, সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। আমাকে যদি কেউ অপমানও করেন, হতে পারে তারা আমরা বন্ধু কিংবা বা শত্রু। কিন্তু এই ৮ কোটি মানুষই আমার মানুষ। আমার হৃদয় আমাকে বলে—শিক্ষা, রাস্তা, পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবার প্রতি সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে হবে। আমি আগেও বলেছি, জনগণের এক পয়সাও আমি স্পর্শ করব না।”
একটি স্বচ্ছ সরকার গঠনের কথা জানিয়ে থালাপাতি বিজয় বলেন, “সবকিছু পর্যালোচনা করার পর জনগণের সামনে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে চাই। আমি চাই, আমার সরকার একটি স্বচ্ছ সরকার হোক। এটিই প্রথম কাজ, যা আমি করতে চাই। তামিলনাড়ুর ব্যাপারে কারো সঙ্গে দেখা করতে হলে, তা গোপনে বা দরজা বন্ধ করে করব না। আমি যা করব, প্রকাশ্যে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে করব। আমি আপনাদের কাছে কিছুটা সময় চাইছি। আমি ধীরে ধীরে আমার দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি পূরণ করব। এটি আপনাদের সরকার। আমি নারীদের জন্য কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করব।”
জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে থালাপাতি বিজয় বলেন, “আমি তামিলনাড়ুর জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমি কখনো জনগণের একটি টাকারও অপব্যবহার করব না। আমি সম্পদের জন্য রাজনীতিতে আসিনি; আর এ কথাটি আপনারা খুব ভালো করে জানেন। আমি কখনো দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেব না বা কাউকে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে দেব না। এই সরকার জনগণের হবে, আমরা একসঙ্গে আরো শক্তিশালী ও উন্নত তামিলনাড়ু গড়ে তুলব।”
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই বিজয় প্রথম দফায় সরকারি নথিতে স্বাক্ষর করেন। এর মধ্যে ছিল—২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দেশ, মাদকদ্রব্য দমনে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরেকটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত।
বলে রাখা ভালো, দুই বছর আগে রাজনৈতিক দল গঠন করেন থালাপাতি বিজয়। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪ আসনের মধ্যে বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কোঝাগম (টিভিকে) ১০৮টি আসন পেয়েছে।
*টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে