বিনোদন

ছিনতাইকারীর টানে কান ছিঁড়ল নায়িকার

ছিনতাইয়ের কবলে পড়েছেন ঢাকাই সিনেমার নায়িকা রঞ্জিতা কনা। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন ‘ঢাকা ৮৬’খ্যাত এই নায়িকা। ছিনতাইকারীর টানে তার কান ছিঁড়ে গেছে। রবিবার (১৮ মে) রাত ৯টার দিকে রাজধানীর রামপুরা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এই অভিনেত্রী।    

একটি ভিডিও বার্তায় ঘটনা নিয়ে কথা বলেছেন রঞ্জিতা কনা। এতে তিনি বলেন, “শিল্পী সমিতির নির্বাচন আমাদের কাছে সব সময় উৎসবমুখর। সেটা দেখার জন্য আমি এফডিসিতে গিয়েছিলাম। রাতের দিকে বাসায় ফেরার সময় হঠাৎ কেউ আমাকে অনুসরণ করছিল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেই ছিনতাইকারী আমার কানের দুল ধরে টান দেয়।” 

এ ঘটনায় হতবাক হয়ে পড়েন রঞ্জিতা। পরের ঘটনা বর্ণনা করে তিনি বলেন, “আমি প্রচণ্ড ভয় পেয়ে যাই। পরে চিৎকার করি, তখন দেখি কান থেকে রক্ত ঝরছে। আমার কানে দুল নাই। ছিনতাইকারী দুল টান দেওয়ায় কানটা ছিঁড়ে গেছে। আমার কান দুই ভাগ হয়ে গেছে।” 

পরে শিল্পী সমিতির সদস্যদের ফোন দিয়ে সহায়তা চান রঞ্জিতা। কিন্তু অনেকে তাকে সহায়তা করেননি। এরপর জয় চৌধুরীকে ফোন দিলে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এসব তথ্য উল্লেখ করে রঞ্জিতা কনা বলেন, “জয়সহ কয়েকজন আমাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করায়। আমার কানে সাতটি সেলাই দিতে হয়েছে। এই অভিজ্ঞতা প্রথম। আমি এমনিতে কিছুটা অসুস্থ, এমন অভিজ্ঞতা যেন আর কারো না হয়।” 

এ বিষয়ে অভিনেতা জয় চৌধুরী বলেন, “আমি রাতে হঠাৎ দেখি রঞ্জিতা আপুর মোবাইল ফোন থেকে তিনটি কল ও একটি এসএমএস। সেখানে লেখা জরুরি। পরে ফোন দিয়ে জানতে পারি রঞ্জিতা আপুর অবস্থা। সঙ্গে সঙ্গে চলে যাই। হাসপাতালে গিয়ে দেখি তখনো রক্ত ঝরা থামেনি। চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে কানে সেলাই দেওয়া হয়। তার সুস্থতার জন্য দোয়া চাই।” 

রঞ্জিতা কনার ডায়াবেটিস ও প্রেসার অনেক বেশি ছিল। ফলে এখনো তাকে রামপুরার একটি হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলে তাকে বাসায় নেওয়া হবে। তবে এখনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও জানান জয় চৌধুরী।  

আশির দশকের শেষের দিকে নায়করাজ রাজ্জাক নির্মাণ করেন ‘ঢাকা ৮৬’ সিনেমা। এতে বাপ্পারাজের নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেন রঞ্জিতা। প্রথম সিনেমা দিয়েই আলোচনায় আসেন তিনি। এরপর ‘রাজা মিস্ত্রী’, ‘জ্বীনের বাদশা’সহ ৩০টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন রঞ্জিতা। ২০০৫ সালের পর আর কোনো সিনেমায় দেখা যায়নি তাকে।