বিনোদন

জোয়া আখতারের অফিসে চুরি, উধাও ৬৬ হার্ডডিস্ক

বলিউডে চুরি-ডাকাতি নিয়ে অসংখ্য সিনেমা তৈরি হয়েছে। তবে এবার যেন সেই সিনেমার গল্পই বাস্তবে ঢুকে পড়ল নির্মাতা জোয়া আখতার-এর অফিসে। এক সকালে অফিসে এসে কর্মীরা বুঝতে পারেন, গুরুত্বপূর্ণ কিছু হার্ডডিস্ক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রথমে বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি মনে হলেও পরে শুরু হয় ব্যাপক খোঁজাখুঁজি। ড্রয়ার, আলমারি, স্টোররুম—সব জায়গায় তল্লাশি চালিয়েও মিলল না হারিয়ে যাওয়া ডিভাইসগুলো। পরে জানা যায়, এক-দুটি নয়, পুরো ৬৬টি হার্ডডিস্ক উধাও!

চুরি হওয়া হার্ডডিস্কগুলো ছিল টাইগার বেবি ডিজিটাল এলএলপির, যে প্রতিষ্ঠানটি যৌথভাবে গড়ে তুলেছেন জোয়া আখতার ও নির্মাতা রিমা কাগতি। সেখানে সিনেমা, ওয়েব সিরিজ, বিজ্ঞাপনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্টের ডেটা সংরক্ষণ করা ছিল।

ঘটনার পরও বেশ ঠাণ্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামলেছেন জোয়া আখতার। বলিউড হাঙ্গামাকে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমার অফিসে চুরি হয়েছে। হার্ডডিস্ক চুরি গেছে। আমরা অভিযোগ করেছি, পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছে। এটা অফিসের ভেতরের কারও কাজ। মানুষ টাকা রোজগারের জন্য কতটা নিচে নামতে পারে, এটা সত্যিই দুঃখজনক।”

তবে স্বস্তির খবরও দিয়েছেন এই নির্মাতা। তার ভাষায়, সব গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের ব্যাকআপ তাদের কাছে রয়েছে। অর্থাৎ চোর হার্ডডিস্ক নিয়ে পালালেও পুরো প্রজেক্ট হাতিয়ে নিতে পারেনি।

পুলিশ জানিয়েছে, অফিসে মোট ১১৯টি হার্ডডিস্ক ছিল। এর মধ্যে ৬৬টি নিখোঁজ। প্রতিটি হার্ডডিস্কের স্টোরেজ ক্ষমতা ছিল ১৬ টেরাবাইট থেকে ৭২ টেরাবাইট পর্যন্ত। তদন্তকারীদের ধারণা, চুরি হওয়া ড্রাইভগুলোতে জনপ্রিয় কয়েকটি প্রজেক্টের ডেটাও ছিল। এর মধ্যে রয়েছে মেইড ইন হ্যাভেন এবং গোস্ট স্টোরিজ-এর মতো আলোচিত কাজের ফাইল।

গত ২১ মে ঘটনাটি প্রথম সামনে আসে। প্রয়োজনীয় কিছু হার্ডডিস্ক না পেয়ে অফিসকর্মীদের সন্দেহ হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি স্টোরেজ বক্স ভাঙা এবং অনেক কেস খালি পড়ে আছে। পুলিশের তদন্তে ইতোমধ্যে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তদের একজন গত কয়েক মাস ধরে ধীরে ধীরে হার্ডডিস্ক সরিয়ে গ্রে মার্কেটে বিক্রি করছিলেন।

এখন পুলিশের মূল উদ্বেগ অন্য জায়গায়—শুধু হার্ডডিস্ক বিক্রি হয়েছে, নাকি ভেতরের সংরক্ষিত ডেটাও কোথাও কপি বা ফাঁস করা হয়েছে। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই চলছে তদন্ত।