বিনোদন

আকবর ভিলা: মধ্যবিত্ত পরিবারের আরব্য রজনীর গল্প

বাংলা গানের ‘যুবরাজ’খ্যাত সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। দীর্ঘ সংগীত ক্যারিয়ারে অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন। গানের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ সরব এই তারকা। ব্যক্তিজীবনের নানা স্মৃতি, অনুভূতি ও ভাবনা প্রায়ই এই মাধ্যমে ভাগ করে নেন ভক্ত-অনুরাগীদের সঙ্গে।

সম্প্রতি নিজের পৈতৃক ভিটেবাড়ি ‘আকবর ভিলা’ নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন আসিফ আকবর। সেখানে উঠে এসেছে মধ্যবিত্ত পরিবারের সংগ্রাম, স্বপ্ন, ভালোবাসা এবং পাঁচ প্রজন্মের ইতিহাস।

আসিফ আকবর বলেন, “১৯৬০ সালে আব্বা-আম্মার বিয়ের পরপরই আমার দাদা মরহুম আবদুল হামিদের উদ‍্যোগে কুমিল্লায় বাসার জায়গা কেনা এবং বিল্ডিং তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। আব্বা ছিলেন জাঁদরেল আইনজীবী, পেশার প্রতি ছিলেন সিরিয়াস। অসহায়-গরীব ক্লায়েন্টদের পক্ষেই সবসময় কাজ করতে পছন্দ করতেন, পরিবারের সদস‍্য করে নিতেন তাদের, যে কারণে নিজে কখনোই স্বচ্ছল হয়ে উঠতে পারেননি।” 

মধ্যবিত্ত পরিবারের টানাপড়েনের কথা স্মরণ করে আসিফ আকবর বলেন, “আমাদের সাত ভাইবোনকে শিক্ষিত করতে গিয়ে আব্বা থাকতেন কঠিন টানাপড়েনে। আম্মা ছিলেন ঢাকা এলিফ‍্যান্ট রোডের শিক্ষিত অভিজাত পরিবারের দূহিতা, বউ হয়ে গেছেন সাধারণ কৃষক পরিবারে। তিনি সবদিক মেইনটেইন করার চেষ্টা করলেও বাজেট ঘাটতি সংসারে অশান্তির কারণ হয়েই থাকত। পিওর মধ‍্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে আমরা শেষ পর্যন্ত সমাজে বাবা-মায়ের প্রত‍্যাশার প্রতিফলন কিছুটা হলেও দেখাতে পেরেছি, আলহামদুলিল্লাহ্।”  

স্মৃতিবিজড়িত ‘আকবর ভিলা’ নিয়ে আসিফ বলেন, “আব্বা তিলে তিলে কষ্ট করে গড়ে তুলেছেন এই ডুপ্লেক্স বাড়িটা। উনার মেধা শ্রম ত‍্যাগ আর আম্মার সহনশীলতা ও দূরদর্শিতায় আমাদের আজকের অবস্থান। এই বাসায় বেড়ে উঠেছি আমরা, সব ভাইবোনের বিয়েও হয়েছে এখানে, মরহুম আব্বা আম্মার অনন্ত যাত্রাও এই বিল্ডিং থেকেই। আমার দাদার পরিবারের প্রতিটি সদস‍্যের আশা আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই আকবর ভিলা। এই বিল্ডিংয়েই জমা আছে আমাদের মধ‍্যবিত্ত পরিবারের আরব‍্য রজনীর গল্প।” 

পূর্বপুরুষদের হাজারো স্মৃতি জমে থাকা ‘আকবর ভিলা’ আজ ক্লান্ত বলে মন্তব্য করেছেন আসিফ। তার ভাষায়, “৬৬ বছর বয়সি এই বাসাটা আজ ক্লান্ত, তাকেও দাফন করতে হবে। এক অসীম শূন্যতা বুকে চেপে ধরে পাঁচ প্রজন্মের ইতিহাসকে মিশিয়ে দিতে হবে মাটির সাথে, পরিণতি পাবে নতুন স্থাপনা। একদিন আমাদের সব গল্পও মিলিয়ে যাবে অনন্ত অসীমে, মুখরিত থাকবে না এই প্রাঙ্গণ, তবু চলতে থাকবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের পথচলা...। ভালোবাসা অবিরাম।”