বিনোদন প্রতিবেদকঢাকা, ১ জুলাই: রাজধানীর গুলশানের নিজ বাসা থেকে টিভি অভিনেত্রী মিতা নূরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১০৪ নম্বর রোডের ১৬ নম্বর বাসা থেকে আজ সকালে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনা সম্পর্কে মিতা নূরের ছেলে শেহজাদ নূর (১৭) জানান বলেন,‘মধ্যরাতের কোনো একসময় ঘটনাটি ঘটেছে বলে আমাদের ধারণা। তবে কী কারণে এটা ঘটেছে, এখন পর্যন্ত আমরা এ ব্যাপারে কিছুই বলতে পারছি না।’
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে কি কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন তা এখনও জানা যায়নি।
ওসি জানিয়েছেন, অভিনেত্রীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে নেয়া হয়েছে। তদন্ত শেষেই নিশ্চিত হওয়া যাবে এই অভিনেত্রীর মৃত্যুর রহস্য।
সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম আরও জানান, পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে।
গত দুই দিন আগে নিকেতনে স্বামী শাহনূর রহমানের বায়িং হাউসের অফিসে যান মিতা নূর। সেখানে তাঁদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। খবর পেয়ে একপর্যায়ে সেখানে পুলিশ গিয়ে হাজির হয়। পুলিশের মধ্যস্থতায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সমঝোতা হয়।
মিতা নূরের সঙ্গে তাঁর স্বামীর কী নিয়ে কলহ চলছিল, এ ব্যাপারে পুলিশ কিছু জানায়নি।
শাহনূরের ছোট ভাই মাহিনূর রহমান মজুমদার দাবি করেন, গত শনিবার দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে নিকেতনে স্বামীর বায়িং হাউসে গিয়েছিলেন মিতা নূর। স্বামীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে নিজেই গুলশান থানায় ফোন করেন।
এখন পর্যন্ত পুলিশ মিতা নূরের বাসায় অবস্থান করে সবকিছু পর্যবেক্ষন করছে এবং আলামত সংগ্রহ করেছ বলেও জানালেন ওসি রফিকুল ইসলাম।
এদিকে মিতা নূরের বাবা ফজলুর রহমান দাবি করেছেন, এর আগে আরও দুইবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল মিতা। তিনি অভিযোগ করেন, স্বামীর মানসিক নির্যাতনের কারণেই মিতা নূর আত্মহত্যার দিকে ঝুঁকতে পারেন।
তবে সাংবাদিকদের সাথে কোন কথা বলতে রাজী হননি মিতা নূরের স্বামী। বাসায় থাকলেও তিনি ক্যামেরার সামনে আসেননি।
সকাল থেকেই মিডিয়াঙ্গনের নানা লোকজন ভিড় করছেন মিতার গুলশানস্থ বাসায়। তারা সবাই মিতা নূরের এই মৃত্যুতে বিস্ময় এবং দুঃখ প্রকাশ করেছেন। সমবেদনা জানাচ্ছেন মিতার দুই ছেলে এবং পরিবারের অন্যান্য স্বজনদের।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিতা নূরের মরদেহ মর্গে নেয়া হয়। রাত ৭ টার দিকে ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়। তবে তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ করেনি পুলিশ।
রাইজিংবিডি/আইএইচ/এলএ