পরিবেশ

‘অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে নাগরিক আন্দোলন প্রয়োজন’

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের শিক্ষক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেছেন, “সরকার ২২ দিনের অবরোধসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করলেও বাস্তবে অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধ হয়নি। ফলে মা ইলিশ ও জাটকা নিধন থামছে না। তাই প্রশাসনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা ও নাগরিক উদ্যোগভিত্তিক আন্দোলন।”

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি এ কথা বলেন।

মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, “বাংলাদেশের নদ-নদী, খাল-বিল, হাওড়-বাঁওড় ও উপকূলীয় জলাশয়গুলো জাতীয় মৎস্য সম্পদের অন্যতম প্রধান উৎস। দেশের প্রায় ১২ শতাংশ মানুষের জীবন ও জীবিকা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মৎস্য সম্পদের ওপর নির্ভরশীল এবং এ খাত দেশের দৈনন্দিন প্রাণিজ আমিষের প্রায় ৬০ শতাংশ সরবরাহ করে। এছাড়া জাতীয় জিডিপিতে ১.৫৩ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপিতে ২২.২৬ শতাংশ অবদান রাখে।”

তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে কারেন্ট জাল, চায়না দুয়ারি, বেহুন্দি, খুঁটা ও মশারি জালসহ বিভিন্ন অবৈধ ও বিধ্বংসী জালের নির্বিচার ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় পোনা ও মা মাছ ধ্বংস হচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র এবং ধ্বংসের মুখে পড়ছে জলজ জীববৈচিত্র্য।”

উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায় ৭ লাখ জেলে সরাসরি এবং ২৫ লাখ মানুষ পরোক্ষভাবে ইলিশের ওপর নির্ভরশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদন ৭.৩৩% কমেছে, যেখানে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রায় ২৫% বৃদ্ধি পেয়েছিল।”

এ সময় তিনি সরকার, গণমাধ্যমকর্মী, গবেষক, শিক্ষার্থী, জেলে সম্প্রদায়, পরিবেশবাদী ও সচেতন নাগরিকদের আহ্বান জানান একটি ‘জাতীয় সামাজিক আন্দোলন’ গড়ে তোলার জন্য। যার মাধ্যমে সামাজিকভাবে অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধ করে জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও নদ-খাল-বিলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।

তিনি ১০ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এসব কর্মসূচি হলো-জনসচেতনতা বৃদ্ধি অভিযান, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার, জেলেদের বিকল্প জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি, কঠোর আইন প্রয়োগ ও নজরদারি জোরদার, জাল প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণ, গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতা কর্মসূচি, উপজেলা পর্যায়ে নদী ও মৎস্য রক্ষা কমিটি গঠন, সরকার-সিভিল সোসাইটি যৌথ উদ্যোগ ও ‘অবৈধ জাল বিরোধী সপ্তাহ, হটলাইন ও বার্ষিক পরিকল্পনা।’

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।