জেলা প্রতিবেদকপাবনা, ২ জানুয়ারি : পাবনাবাসীর জন্য ঘটনাবহুল একটি বছর ছিল ২০১৩। খুন, ধর্ষণ, গুম, রাজনৈতিক সংঘাতসহ নানা অঘটনে ভরা বছরটি কেটেছে উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায়। বছর জুড়ে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটে। বছরের শুরু থেকে বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই জেলা আলোচনা-সমালোচনার শিরোনাম হয়। বছরের মঝামাঝি সময় বিএনপি, জামায়াত-শিবির তথা বিরোধী জোটের সাথে আওয়ামী লীগ, পুলিশসহ আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘাত, অগ্নিসংযোগ আর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জেলাবাসীকে পোহাতে হয়েছে চরম ভোগান্তি।জেলার নয়টি উপজেলায় গত এক বছরে নারী-শিশুসহ ৮৯ জন লাশ হয়েছে। এছাড়াও পঙ্গুত্বতবরণসহ গুরুতর আহত হয়েছে প্রায় তিন শতাধিক। ২০১৩ সালে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতি ঘটে। হত্যা, অপহরণ, ডাকাতি, ছিনতাই, সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন জেলার সাধারণ মানুষ। এর মধ্যে পাঁচ শিশু ও ১৪ জন নারী রয়েছে। সর্বাধিক খুনের ঘটনা ঘটে মার্চ মাসে। এ মাসে খুনের শিকার হন ১৩ জন। স্থানীয় পত্রিকায় বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত সংবাদ সূত্রে জানা যায়, জানুয়ারি মাসে তিনটি খুনের ঘটনা ঘটে। ১১ জানুয়ারি সদর উপজেলার কাশিপুর গ্রামে পাষন্ড স্বামী আব্দুল কাদের শ্বাসরোধে হত্যা করে তার স্ত্রী আল্পনা খাতুনকে। ১৪ জানুয়ারি সদরের বিসিক এলাকা থেকে পুলিশ দক্ষিণ রাঘবপুরের গোকুল হাজীর ছেলে রিয়াদ হোসেনের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে। ১৯ জানুয়ারি ঈশ্বরদীর দাশুরিয়ার আজমপুরে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীকে। ফেব্রুয়ারি মাসে হত্যাকান্ডের শিকার হন পাঁচ জন। ১৫ ফেব্রুয়ারি সদরের দাপুনিয়ার নারায়নপুরে প্রতিপক্ষের মারপিটে নিহত হন মাছ ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন। একইদিন ঈশ্বরদীর দাশুরিয়ার কালিকাপুরের একটি পুকুর থেকে পুলিশ উদ্ধার করে স্থানীয় আস্তর আলীর স্ত্রী ঘরবধূ রাজিয়া খাতুনের লাশ। ২২ ফেব্রুয়ারি ঈশ্বরদীর মিরকামারী গ্রামে পিটিয়ে হত্যা করা হয় স্কুল শিক্ষক আমজাদ হোসেনকে। ২৩ ফেব্রুয়ারি সদরের বাঙ্গাবাড়িয়ায় জামায়াত ও পুলিশের সংঘর্ষে নিহত হয় জামায়াত কর্মী গয়েশপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে সিরাজুল ও মনছের আলীর ছেলে আলাল হোসেন। মার্চ মাসে ঘটে ১৩টি হত্যাকান্ডের ঘটনা। ১ মার্চ ভাঙ্গুড়া উপজেলার ময়দানদিঘী গ্রামে প্রেমিকার বাড়িতে হত্যাকান্ডের শিকার হয় কলেজ ছাত্র লিখন হোসেন। ৪ মার্চ ফরিদপুর উপজেলার ধানুয়াঘাট গ্রামের পাচুরিয়া মাঠের মধ্যে জনতার গণপিটুনিতে নিহত হয় চরমপন্থি নেতা সাদেক আলী। ৫ মার্চ ভোরে ঈশ্বরদী উপজেলার নতুনহাট মোড় এলাকায় গণপিটুনিতে রুমন হোসেন নামের এক ডাকাত নিহত হয়। একইদিন রাতে ফরিদপুর উপজেলার মঙ্গলগ্রামের চারা বটগাছ নামক স্থানে নফর আলী নামের এক সন্ত্রাসীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা।
১০ মার্চ সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও গয়েশপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আলী মৃধার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ১২ মার্চ পৌর সদরের কুঠিপাড়া এলাকায় সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রাঘাতে নিহত হয় রিকশা চালক গোলাম মোস্তফা। নিখোঁজের ১২ দিন পর ১৩ মার্চ দুপুরে বেড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরের সেফটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার করা হয় স্কুলছাত্র আমান উল্লাহর লাশ।
১৪ মার্চ রাতে ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী এমএস কলোনীতে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হয় যুবলীগ নেতা মোস্তাক আহমেদ মিতুল। ১৯ মার্চ পাবনা-শিলাইদহে পদ্মায় বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করার সময় রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাতারু রানা’র। ২৩ মার্চ সাঁথিয়া উপজেলার সোনাতলা গ্রামের একটি গমক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয় দিনমজুর সুরুজ প্রামাণিকের লাশ।
২৭ মার্চ সাঁথিয়ার নাগডেমরা নিশিপাড়াতে যৌতুকের দাবিতে অন্ত:স্বত্ত্বা গৃহবধূ বিনা রানী দাসকে পিটিয়ে হত্যা করে তার স্বামী। ২৯ মার্চ বৃরায়নগর গ্রামে এনজিওর টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে ক্ষোভে দু:খে স্ত্রী রোকেয়া খাতুনকে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করে স্বামী। একইদিন সদরের বাংলাবাজার এলাকায় পারভেজ হোসেন নামের এক যুবকের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এপ্রিল মাসে খুন হয় ৫ জন। ৩ এপ্রিল চাটমোহরের কাটাখালী গ্রামের রফিকুলের স্ত্রী শারমিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ৪ এপ্রিল সদরের রাজাপুরের একটি পুকুর থেকে একদন্তের চাচকিয়ার তোরাব আলীর ছেলে করিমন চালক মিজানুর রহমানের লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। ৫ এপ্রিল ঈশ্বরদীর কালিকাপুরে চিনিকলের পাশ থেকে ভূষিমাল ব্যবসায়ী মজিবর রহমানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল ভাঙ্গুড়ার প্রিজম কিন্ডার গার্ডেন থেকে প্রতিষ্ঠানের পিয়ন আল আমিনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ১৭ এপ্রিল নেশার টাকা না পেয়ে ঈশ্বরদী উপজেলার দিয়ার বাঘইল গ্রামে স্ত্রী নাজমা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মাদকাসক্ত স্বামী শহিদুল। মে মাসে ঘটে ৮টি হত্যাকান্ডের ঘটনা। ৪ মে সাঁথিয়ার কাশীনাথপুরে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় মৃত মকছেদ প্রামাণিকের ছেলে মেহেদী হাসানকে। ১৬ মে ভাঙ্গুড়া উপজেলা পরিষদের হেলিপ্যাড নামক স্থান থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ২০ মে যৌতুকের দাবিতে সদরের শ্রীপুরে পাষন্ড স্বামী রিপন হোসেনের হাতে নিহত হন রেখা খাতুন। ২১ মে সাঁথিয়ার সোনাতলা গ্রামের ইছামতির ডাইকের ওপর থেকে বাসের হেলপার ইকবাল সরদারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ২২ মে ফরিদপুর উপজেলার দিঘুলিয়া গ্রামের ইসহাক আলীর ছেলে ভ্যানচালক মনিরুল ইসলামের লাশ পুলিশ উদ্ধার করে স্থানীয় কেনাইমাঠ থেকে। ২৬ মে সদরের গয়েশপুরে তিলক্ষেত থেকে পুলিশ উদ্ধার করে আনোয়ারুল ইসলামের শিশুকন্যা খাদিজার মাটি চাপা দেওয়া অর্ধগলিত লাশ। ২৯ মে সদরের দাপুনিয়ার টিকোরী গ্রামে মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের শিকার ৭ বছরের শিশু আরমান। একইদিন শহরের ঘোড়াস্ট্যান্ডে পৈলানপুরের আব্দুল হামিদের ছেলে টেম্পু শ্রমিক মিন্টু ছুরিকাঘাতে নিহত হয়। জুন মাসে ঘটে ৩টি হত্যাকান্ডের ঘটনা। ১৩ জুন পাবনা সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের সিংগা গ্রামের ইকরাম হোসেন ওরফে মকো’র স্ত্রী আল্পনার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ২৪ জুন আতাইকুলার বাওইকোলা থেকে উদ্ধার করা হয় চরমপন্থি আনিছুর রহমানের ক্ষতবিক্ষত লাশ। ২৯ জুন ঈশ্বরদী উপজেলার পতিরাজপুর গ্রামের জাকির মালিথার ছেলে লিখন মালিথার লাশ পৌর সদরের একটি ডোবা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। জুলাই মাসে ১২ জন খুন হন। ১ জুলাই পাবনা শহরের কাচারিপাড়া সাহারা ক্লাব এলাকায় মামুনুর রশীদ (৩৭) নামে এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নিহত হন। গুলিতে টিপু হোসেন (৩৫) নামে এক যুবলীগ কর্মী আহত হয়। নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর গত ৭ জুলাই রোববার পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার রায়েকমারি গ্রামের সাইদুল ইসলামের মেয়ে মুক্তি খাতুন নামে একটি কন্যাশিশুর হাত-পা বাঁধা বস্তাাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গত ৯ জুলাই পাবনার সুজানগর উপজেলার দুলাই ইউনিয়নের বেতুয়ান গ্রামের একটি পাটক্ষেত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির (৩০) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
গত ১০ জুলাই পাবনায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত যুবলীগ কর্মী টিপু হোসেন (৩৪) মারা যান। গত ১৪ জুলাই গভীর রাতে সাঁথিয়ায় গনপিটুনিতে উপজেলার ডহরজানী গ্রামের মৃত কাইদু প্রামাণিকের ছেলে বিপ্লব ও অজ্ঞাতনামা একজনসহ ২ জন নিহত হয়। গত ১৭ জুলাই রাত ৯টার দিকে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার নন্দনপুর বাজারে ব্যবসা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের বেধড়ক পিটুনিতে আবু সাইদ (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়।
গত ২৪ জুলাই প্রতিপক্ষের হামলায় পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা খাঁ পাড়া গ্রামের বাসিন্দা কামাল খাঁ নিহত হয়। পাবনার চাটমোহর উপজেলার শাহাপুর এলাকায় প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাতে আহত কলেজছাত্র ইমতিয়াজ বকুল (১৮) মারা গেছেন গত ২৬ জুলাই। ২৮ জুলাই পাবনার ফরিদপুর উপজেলার চকচকিয়া এলাকায় হিরু (৩৭) নামে সিএনজি চালিত অটোরিকশার এক চালককে শ্বাসরোধে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। গত ৩০ জুলাই পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার শাখারীপাড়া গ্রামে রওশন আলী (৩৫) নামে বিএনপির এক কর্মীকে গলা ও হাত-পায়ের রগ কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। আগষ্ট মাসে হত্যাকান্ডের শিকার হন ১২ জন। ৩ আগষ্ট ঈশ্বরদী উপজেলার শেরশাহ রোডের মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলেকে মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জের ধরে যুবদল কর্মীদের গুলিতে সুজন আলী ওরফে ল্যাংড়া সুজন (২৬) নামে ওয়ার্ড যুবদলের এক সদস্য নিহত হয়। ৩ আগষ্ট রাত ২টার দিকে পাবনার ফরিদপুর উপজেলার হাদল গ্রামে গণপিটুনিতে তিন ডাকাত মিলন (২৩), জালু (৩২) ও জয়নাল (২৪) নিহত হয়। গত ৭ আগষ্ট বাকিতে কলা না দেওয়ায় মোমিন নামে এক ক্রেতার ঘুষিতে ঈশ্বরদী উপজেলার দিয়াড় সাহাপুর গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে আব্দুল্লাহ (৫২) নামে এক দোকানদার নিহত হয়। ১১ আগষ্ট পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় অজ্ঞাতপরিচয় এক তরুণীর (২৫) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ১৫ আগষ্ট সুজানগরে যৌতুকের দাবিতে সুলতানা রাজিয়া বন্যা (২৫) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে তার স্বামী নির্যাতনের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে। ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোকর্যািলীতে পাবনা সদর উপজেলার বাংলাবাজার মহল্লার টিটু হোসেনের ছেলে ইমন হোসেনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।
১৬ আগষ্ট সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়নের পাথাইল গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে বড় ভাইয়ের মারপিটে ছোট ভাই গোলাম ফারুক বাবু (২৪) নিহত হয়। ১৬ আগষ্ট পাবনার চাটমোহরে গুমানী নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক কন্যা শিশুর (৮) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গত ১৮ আগষ্ট রাতে পাবনা সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের আশুতোষপুর গ্রামের জাহের প্রামানিকের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (২৭) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা। ১৯ আগষ্ট পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুর গ্রামে বিএনপি সমর্থিত বিবাদমান দু’পক্ষের সংঘর্ষের সময় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে লাল চাঁদ (২৪) নামে এক যুবক নিহত হয়। গত ২৬ আগষ্ট রাতে ঈশ্বরদী উপজেলার গোপালপুর গ্রামের ওমর আলীর ছেলে আব্দুল বারীকে সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে। সেপ্টম্বর মাসে ১০টি হত্যাকান্ড ঘটে। ১ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর উপজেলার হাদল মাদ্রাসা এলাকায় গণপিটুনিতে আব্দুল আজিজ (৩৫) নামে এক চরমপন্থি সদস্য নিহত হয়। ২ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর উপজেলার হাদল মাদারাসার কাছে গনপিটুনিতে ডাকাত কাজেম উদ্দিন (৪০) নিহত হয়। ৬ সেপ্টেম্বর ঈশ্বরদী শহরের রেলগেট দরিনারিচা এলাকায় দাম্পত্য কলহের জের ধরে ইমরান (২২) নামে এক যুবক তার স্ত্রী আলো খাতুনকে (১৮) গলা কেটে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করেন। ১৩ সেপ্টেম্বর পাবনার ঈশ্বরদীতে নুরুল ইসলাম (৫৫) নামে এক কৃষককে খুন করে দুর্বৃত্তরা।
১৩ সেপ্টেম্বর পাবনা পৌর সদরের রাধানগর মহল্লায় মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আবুল বাশার (২৮) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। ১৮ সেপ্টেম্বর পাবনার চাটমোহর পৌর সদরে মর্জিনা খাতুন (৪০) নামে এক গ্রহবধূকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। আটঘরিয়া উপজেলায় মসজিদের নামে উত্তোলিত চাল আত্মসাতের প্রতিবাদ করায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর আব্দুর রশিদ (৩২) নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষের লোকজন। ২৬ সেপ্টেম্বর পাবনার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর দিয়ারপাড়া গ্রামে নাছিমা খাতুন (২৮) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা করে পাষন্ড স্বামী ও শাশুড়ি। ৩০ সেপ্টেম্বর ঈশ্বরদীতে নিখোঁজ হওয়ার দু’দিন পর ওয়াসিম আকরাম (২২) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। অক্টোবর মাসে ৪টি হত্যাকান্ড ঘটে। ১৪ অক্টোবর চাটমোহর পৌর সদরের নারিকেলপাড়া এলাকা থেকে জহুরুল ইসলাম (২৮) নামে এক নির্মাণ শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ১৭ অক্টোবর পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার খালিসপুর বাজারে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে জায়দুল ইসলাম (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। ২১ অক্টোবর ঈশ্বরদীতে অপহরণের পর সাইফুল ইসলাম (৩২) নামে এক চাল ব্যবসায়ীকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ২৯ অক্টোবর ঈশ্বরদীতে আলতাব হোসেন (৪০) নামের এক কাঠ ব্যবসায়ীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন হত্যা করেছে। নভেম্বর মাসে ৫টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। ৩ অক্টোবর চাটমোহরে আরিফুল ইসলাম বাপ্পি (১৮) নামে এক কলেজ ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। ৮ নভেম্বর পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। পাবনা শহরের ৩০ নভেম্বর সাহারা ক্লাব এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে গেদা (৩০) নামে যুবলীগের এক কর্মী নিহত হয়। ১২ নভেম্বর ঈশ্বরদীর মুলাডুলিতে পিকেটিংকালে পুলিশের তাড়া খেয়ে পালানোর সময় আসাদুল ইসলাম (২৫) নামের এক যুবক নিহত হয়। ১৯ নভেম্বর সাঁথিয়ায় অজ্ঞাতনামা (৩০) ব্যক্তির গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ২০ নভেম্বর ঈশ্বরদী থেকে অজ্ঞাত পরিচয় (৩০) এক ব্যক্তির গলিত লাশ উদ্ধার হয়। ডিসেম্বর মাসে ১০ টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। ১ ডিসেম্বর সাঁথিয়ার নুরুদহ গ্রামে ইয়াকুব আলীকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। ২ ডিসেম্বর ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া এলাকা থেকে রুপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ (৩৫) এবং কর্মচারী আমির হোসেন (৪২) এর লাশ আখ ক্ষেত উদ্ধার করে পুলিশ। ৫ ডিসেম্বর পাবনা শহরের বাজিতপুর এলাকায় মুন হোসেনকে (২৩) গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।
৯ ডিসেম্বর আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়ন এর চরমপন্থি নেতা আরশেদ আলীকে (৪০) গুলি করে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। ১৫ ডিসেম্বর পাকশী এলাকায় পদ্মা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় জয়নাল হোসেন (২২) নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ২০ ডিসেম্বর ঈশ্বরদী উপজেলার বিমান বন্দর সড়কের পাশে সগির হোসেন (২৬) নামের যুবকের অটোরিকসা চালকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ২৯ ডিসেম্বর সদর উপজেলার দৌগাছী গ্রামে চাচাতো ভাইয়ের হাতে খুন হন মামুন হোসেন (২৭) নামের এক দর্জি ব্যবসায়ী। ৩০ ডিসেম্বর সাঁথিয়ার আরাজি গোপিনাথপুর বন্ধুর ছুরিকাঘাতে সাহাদত হোসেন (১৫) নামের এক কিশোর নিহত হয়। এসব হত্যাকান্ড ছাড়াও গত বছরে অসংখ্য হামলা, সংঘর্ষ, ছিনতাই, অপহরণ, ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় জেলার সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ দিন দিন বাড়লেও পরিস্থিতি উন্নতিতে নেই কোনো কর্যকরী পদক্ষেপ।
রাইজিংবিডি / শাহীন রহমান / রণজিৎ