অন্য দুনিয়া

ডিএনএ টেস্টের ফলাফলে চমকে গেলেন তরুণী

গত কয়েক বছরে ডিএনএ টেস্টিং কিটের জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়েছে। ঘরে বসেই সহজে ব্যবহারযোগ্য এসব জেনেটিক টেস্ট কিট এখন অনেকের কাছে আকর্ষণীয় উপহারও হয়ে উঠেছে। এগুলোর মাধ্যমে মানুষ তাদের পূর্বপুরুষদের ইতিহাস সম্পর্কে অবাক করা তথ্য জানতে পারে, এমনকি সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকির ধারণাও পায়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো—এই টেস্টের মাধ্যমে এমন আত্মীয়দের সঙ্গেও মিল খুঁজে পাওয়া যায়, যাদের সঙ্গে ডিএনএ মিলে যায়। তবে কখনও কখনও এই মিল এমন কিছু চমকপ্রদ সত্য উন্মোচন করে, যা জীবনকে বদলে দিতে পারে—যেমন, যাকে আপনি বাবা বলে জেনে এসেছেন, তিনি হয়তো আপনার জৈবিক বাবা নন।

এমনই এক ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির ন্যাশভিলের বাসিন্দা ক্যাট ম্যাকডোনাল্ডের জীবনে। তিনি তার টিকটক অ্যাকাউন্টে জানান, ডিএনএ টেস্টের ফলাফলে দেখা যায়—যাকে তিনি সারা জীবন তার বাবা হিসেবে জেনেছেন, তিনি আসলে তার জৈবিক বাবা নন। তবে সেই টেস্টেই তিনি ১০০% মিল থাকা এক জৈবিক পিতার সন্ধান পান। এক ক্রিসমাস উপহার কীভাবে একটি পারিবারিক গোপন সত্য উন্মোচন করল, সেটিই ছিল এই ঘটনার মূল বিষয়।

শৈশব থেকেই ক্যাটকে বলা হতো, তিনি আইরিশ বংশোদ্ভূত। তার পদবী এবং উজ্জ্বল লাল চুল দেখে তিনি নিজেও সেটিকে সত্য বলে ধরে নিয়েছিলেন। কিন্তু তার বাবা যখন ক্রিসমাসে তাকে একটি ডিএনএ টেস্ট কিট উপহার দেন এবং ফলাফল আসে, তখন দেখা যায়—তিনি ৭৫% নরওয়েজিয়ান, আর বাকি অংশ ব্রিটিশ ও জার্মান বংশোদ্ভূত। আশ্চর্যের বিষয়, তার মধ্যে আইরিশ বংশের কোনো উপস্থিতিই নেই। এই বিষয়টি নিয়ে পরিবারে আলোচনা করলে তার বাবা অবাক হয়ে বলেন, এটি অসম্ভব—কারণ তার নিজের ডিএনএ টেস্টে তিনি আইরিশ বলে প্রমাণিত হয়েছেন। তখনই বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। পরে দেখা যায়, ক্যাট যার সঙ্গে তার পিতৃত্বের মিল পেয়েছেন, তিনি তার বাবা নন, বরং পরিবারের পুরোনো এক পরিচিত ব্যক্তি, যাকে তার মা ও খালারা চিনতেন।

২০২১ সালের জানুয়ারিতে ক্যাটের এই গল্পটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। একটি সাধারণ উপহার যে এত বড় পারিবারিক গোপন সত্য উন্মোচন করতে পারে—এই ঘটনাই তার প্রমাণ।

তার ভিডিওতে ম্যাকডোনাল্ড বলেন, “গত বছর ক্রিসমাসে আমার বাবা দারুণ একটি আইডিয়া দেন—পরিবারের সবাইকে অ্যানসেস্ট্রি ডিএনএ কিট উপহার দেন। আমার পদবী ম্যাকডোনাল্ড এবং চুল উজ্জ্বল লাল হওয়ায় আমি নিজেকে আইরিশ হিসেবেই ভাবতাম। কিন্তু টেস্টে দেখা গেল, আমি ৭৫% নরওয়েজিয়ান, আর বাকি অংশ জার্মান ও ব্রিটিশ—আইরিশের কোনো অস্তিত্বই নেই! তাই আমি বাবাকে ফোন করে বললাম, ‘‘আমি একদমই আইরিশ নই।’’

তিনি আরও বলেন, “বাবা বললেন, ‘এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়!’ তখন বাবার সঙ্গেই ফোনে কথা বলতে বলতে আমি আমার অ্যাকাউন্টে লগইন করে দেখি, কোনো ডিএনএ ম্যাচ আছে কি না। দেখি, একজনের সঙ্গে একদম নিখুঁত পিতৃত্বের মিল আছে—কিন্তু সেটি তিনি নন!”

এই ঘটনার পর পুরো পরিবারই, এমনকি তার মা-ও, হতবাক হয়ে যান।

টিকটক ভিডিওতে ম্যাকডোনাল্ড জানান, বিষয়টি নিয়ে উত্তর খুঁজতে তিনি যা করার, তাই করেন—গুগলে তার জৈবিক বাবার নাম খোঁজেন। সেখানে তিনি জানতে পারেন, ওই ব্যক্তি একটি বড় কোম্পানির সিইও, তার তিন মেয়েও সেখানে কাজ করে। আর স্বভাবতই, আমার মতো একটু আবেগপ্রবণ মিলেনিয়াল যা করে—আমি দেশের অর্ধেক পথ পাড়ি দিয়ে তার করপোরেট অফিসে পৌঁছে যাই। আমি তাকে একটি চিঠি দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমার নাম শুনেই আমার সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকার করেন। আসলে চিঠিটিতে শুধু ‘ধন্যবাদ’ লেখা ছিল, কারণ আমি বেঁচে থাকতে পেরে সত্যিই খুশি।”

২০২১ সালের জানুয়ারিতে ম্যাকডোনাল্ডের এই গল্পটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর আর নতুন কোনো আপডেট পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তার টিকটক অ্যাকাউন্ট (@fretlessfeline)ও মুছে ফেলা হয়েছে।