বাবা দিবস _x

মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ড রাজত্বকারীরা (দ্বিতীয় পর্ব)

সঞ্জীবন চট্টোপাধ্যায় : মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ড ডনদের হাত শুধু ভারত নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গন পর্যন্ত বিস্তৃত। বলিউড থেকে শুরু করে দেশীয় রাজনীতিতেও প্রভাব রয়েছে অন্ধকার জগতের এই শাসকদের। তাদের নিয়ে ধারাবাহিক লেখার দ্বিতীয় কিস্তি আজ।

 

হাজি মাস্তানহায়দার মির্জা ওরফে সুলতান মির্জা নাম হলেও হাজি মাস্তান নামেই বেশি পরিচিত। হাজি মাস্তানকে বলা হয় মুম্বাইয়ের সবচেয়ে পরিচিত ও সম্মানিত মাফিয়া ডন। বস্তুত হাজি মাস্তান হলেন মুম্বাইয়ের প্রথম তারকা গ্যাংস্টার। তার জীবনের গল্পের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে দুটি সিনেমা। এর একটি হচ্ছে দিউয়ার, যাতে অভিনয় করেছেন অমিতাভ বচ্চন। অপরটি হচ্ছে অজয় দেবগন অভিনীত ওয়ান্স আপোন এ টাইম ইন মুম্বাই। মজার ব্যাপার হচ্ছে, একসময় মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ড কাঁপানো এই ডন জীবনে কাউকে নিজের হাতে হত্যা করেননি। এমনকি একটি গুলিও কখনো ছুড়ে দেখেননি। বলিউডের বাণিজ্য বিস্তারে হাজি মাস্তানের বেশ অবদান আছে। একসময় হাজি মাস্তান নিজেই সিনেমার প্রযোজনা করেছেন।

অভিনেতা দিলীপ কুমারের সঙ্গে হাজি মাস্তান

বিলাসবহুল জীবনে অভ্যস্ত ছিলেন হাজি মাস্তান। নিজের চলাচলের জন্য তিনি বিলাসবহুল সাদা মার্সিডিজ বেঞ্জ ব্যবহার করতেন। অভিনেত্রী মধুবালার ভক্ত ছিলেন মাস্তান। মধুবালার চেহারার সঙ্গে মিল থাকায় সোনা নামে বলিউডের বি-গ্রেডের এক অভিনেত্রীকে বিয়ে করেন মাস্তান। বিয়ের পর স্ত্রীকে জুহুতে বিশাল বাংলো উপহার দেন মাস্তান। ১৯৮৮ সালে প্রাক্তন বন্ধু ও গ্যাংস্টার ভরদরজন মুদালিয়ার চেন্নাইয়ে মৃত্যুবরণ করলে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ ভাড়া করেন মাস্তান। বন্ধুর শেষ ইচ্ছা পূরণে তার মৃতদেহ উড়োজাহাজে করে চেন্নাই থেকে মুম্বাইয়ে নিয়ে আসেন মাস্তান।আশির দশকে কাসকার পরিবারের সঙ্গে করিম লালার যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়, তা নিরসনের উদ্যোগও নিয়েছিলেন হাজি মাস্তান। উভয় গ্রুপই মাস্তানকে বিনা দ্বিধায় তাদের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মেনে নেয়। ১৯৯৪ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় মুম্বাইয়ের প্রাক্তন প্রতাপশালী এই ডনের।

 

অরুণ গাওলিঅরুণ গুলাব আহির ওরফে অরুণ গাওলি। জন্ম মুম্বাইয়ের বাইকুল্লার দাগদি চাওয়াল এলাকায়। গাওলির পরিবার দুধ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করত। ১৯৮০ সালে মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ডের আরেক ডন দাউদ ইব্রাহিম পরিচালিত আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্র ‘ডি কোম্পানির’ সদস্য রামা নায়েকের গ্রুপে যোগ দেন গাওলি। ১৯৯১ সালে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে রামা নায়েক মারা যান। এর পরই দাউদ ইব্রাহিমের গ্রুপ ছেড়ে আলাদা দল গঠন করেন গাওলি।গাওলির সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র ছিল মুম্বাইয়ের বাইকুল্লা। ওই এলাকার একটি বাড়িতে ধনীদের অপহরণ করে নিয়ে মুক্তিপণের দাবিতে আটকে রাখতেন তিনি । পুলিশ গাওলির এই আস্তানায় বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়েছিল। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ বেশ কয়েকবার তাকে গ্রেপ্তারও করেছিল। তবে আদালতে তার বিরুদ্ধে কেউ সাক্ষী না দেওয়ায় ছাড়া পেয়ে যান গাওলি। তবে শেষ পর্যন্ত ২০১২ সালে শিবসেনা নেতা কমলাকর জামসান্দেকার হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। ওই মামলায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

অরুণ গাওলি

মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ড ডনদের মধ্যে যে কয়জন রাজনীতিতে নাম লিখিয়েছিলেন, গাওলি তাদের মধ্যে অন্যতম। রাজনীতিতে গাওলিকে সার্থকই বলা যায়। ভারতে অপরাধীদের রাজনৈতিক দল গঠন কিংবা নির্বাচনে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে কঠোর আইন নেই। সেই সুযোগটি নিয়ে ১৯৯৭ সালে অখিল ভারতীয় সেনা নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন গাওলি। ২০০৪ সালে মুম্বাইয়ের চিঙ্কপোখলি থেকে এমএলএ নির্বাচিত হন তিনি। তবে ২০০৯ সালে গাওলির রাজনৈতিক ক্যারিয়ার হুমকির মুখে পড়ে। কারণ ওই সময় ভাইপো ও দলের অন্যতম নেতা শচীন আহির প্রকাশ্যেই গাওলির বিরোধিতা শুরু করেন। দল ত্যাগ করে শারদ পাওয়ারের ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেসে যোগ দেন আহির। ওই দলের টিকিটে লোকসভা নির্বাচনে চাচার বিরুদ্ধে প্রার্থী হন তিনি। তবে তারা দুজনই পরাজিত হন।ব্যক্তিগত জীবনে গাওলি দুই সন্তানের জনক। মেয়ে গীতা গাওলি সম্প্রতি মুম্বাই সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া তার স্ত্রী আশা গাওলি মহারাষ্ট্রের বিধানসভার সদস্য ।

       

রাইজিংবিডি/ঢাকা/ ৫ নভেম্বর ২০১৫/শাহেদ/এএন