আনোয়ার শাহীনমাগুরা, ২ মার্চ : তালগাছ আমাদের জীবনের অতি প্রয়োজনীয় অনুসঙ্গ। এই গাছের এমন কোন অংশ নেই যা আমাদের কাজে লাগে না। তালগাছকে অনেকে ‘জীবন বৃক্ষ’ নামে ডাকেন। চিরচেনা সেই তালগাছ এখন আর মাগুরায় তেমনটি দেখা যায় না। গ্রামবাংলায় তাল গাছের দীর্ঘ সারি এখন আর সহজলভ্য নয়। তার পরও তালগাছ আমাদের জীবনের সাথে অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়েই জড়িয়ে আছে। তালগাছের প্রতিটি অংশই আমাদের প্রয়োজনীয়। পাতায় ঘরের ছাউনি, জ্বালানি, গরমের বন্ধু হাত পাখা, পাতার ডগার আঁশ দিয়ে মাছ ধরার নানা যন্ত্র তৈরির উপকরণের যোগানদার এই তালগাছ। মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানির বিখ্যাত টুপি এই তালের আঁশ দিয়েই তৈরি। আবার গাছের গুড়ি দিয়ে তৈরি হয় ঢেঁকির নোট। তালের ডোঙা বর্ষাকালে গ্রামবাংলার অন্যতম বাহন। তালের রস, তালের গুড়, কচি তালের শাঁস, পাকা তাল, তালের পিঠা, পাকা তালের বিচির শাঁস এরসবই অত্যন্ত মজার ও উপাদেয় খাবার।গুরুত্বের কারণেই তালগাছ স্থান পেয়েছে কবির কবিতায়, লেখকের উপন্যাসে, কথায়, উপমায়, প্রবাদ বাক্যে। তাল পাতার সেপাই, এক তাল, তাল বেতাল, তিল থেকে তাল, পিঠে তাল পড়া এমন অনেক উপমা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে।কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন ‘তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে/ সব গাছ ছাড়িয়ে / উঁকি মারে আকাশে...। আবার খান মুহাম্মদ মঈনুদ্দিনের ‘ঐ দেখা যায় তালগাছ / ঐ আমাদের গাঁ / ঐ খানেতে বাস করে কানা বগির ছাঁ..। জনপ্রিয় এসব ছড়াই বলে দেয় তালগাছের গুরুত্ব কতখানি। আশ্রয় হিসেবে এ গাছ বাবুই পাখিদের বড়ই প্রিয় জায়গা। বাবুই ছাড়াও অঞ্জন, বাদুরসহ নানা প্রাণী আশ্রয় হিসেবে এ গাছটি বেছে নেয়। চিরচেনা তালগাছ এখন মাগুরা থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। আগেরমতো দিগন্তজোড়া মাঠে তালগাছের সারি তেমন চোখে পড়েনা। অথচ এই গাছটি অত্যন্ত লাভজনক। পরিকল্পিতভাবে ক্ষেতের আইলে তালগাছ রোপণের উদ্যেগ নিলে আর্থিক উন্নতির পাশাপাশি পরিবেশের জন্যও সহায়ক হবে। তাল ঝড়ঝঞ্জাসহ নানা প্রাকৃতিক দূর্যোগ থেকেও আমাদের রক্ষা করে। মহম্মদপুর উপজেলার দীঘা গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা আবুল মুন্সী (৮৫) বলেন, আগের দিনে মুরব্বিরা প্রচুর পরিমাণে তালগাছ রোপণ করতেন। এই গাছের জন্য কোন পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। অনাদরে বেড়ে উঠে এই গাছ। এখন আর আগের মতো কেউ তালগাছ রোপন করে না। গাছটি ফলবান হতে অনেক সময় লাগে। কথিত আছে এক জীবনে তালগাছ রোপণ করে একবার ফল খাওয়া যায়। তিনি জানান, কুড়িটি পূর্ণ বয়স্ক তালগাছের আয় থেকে একটি ছোট পরিবার সারা বছর চলতে পারে। মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালক মোকলেছুর রহমান বলেন, তাল গাছ আমাদের জীবন ও প্রকৃতির সাথে মিশে আছে। কৃষিবিভাগ জেলায় তালগাছ রোপণের জন্য কৃষকদের উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে।
রাইজিংবিডি / টিপু